পশ্চিমবঙ্গ

Abhijit Gangopadhyay: নতুন দুর্নীতির অভিযোগ ও টানা ১৪৪ ঘণ্টা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি

Abhijit Gangopadhyay
Abhijit Gangopadhyay

Abhijit Gangopadhyay: রাজ্য রাজনীতির আঙিনায় ফের উত্তাপ ছড়ালেন প্রাক্তন বিচারপতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক নেতা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বিচারপতির আসন ছেড়ে রাজনীতিতে আসার পর থেকেই তিনি শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব, কিন্তু এবার তিনি যে ইঙ্গিত দিলেন, তা রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় কম্পন সৃষ্টি করতে পারে। তাঁর দাবি, রাজ্যের বুকে আরও এক বিশাল দুর্নীতির পাহাড় জমছে, যা প্রকাশ্যে এলে বর্তমান সরকারের অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।

শিক্ষা দপ্তরের দুর্নীতির তদন্তে তাঁর ভূমিকা রাজ্যবাসী দেখেছে। তবে এবারের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিন্ন খাতের বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।

সূচিপত্র

শিক্ষা নয়, এবার অন্য দুর্নীতির ইঙ্গিত

সাধারণত অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে শিক্ষা দুর্নীতির বা নিয়োগ দুর্নীতির সমার্থক হিসেবেই অনেকে মনে করেন। কিন্তু এবার তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, তাঁর কাছে যে নতুন দুর্নীতির সূত্র এসেছে, তা শিক্ষা দপ্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এটি অন্য কোনো দপ্তরের কেলেঙ্কারি। তিনি জানিয়েছেন:

  • গোপন সূত্র: তাঁর হাতে ইতিমধ্যেই এই দুর্নীতির প্রাথমিক প্রমাণ বা সূত্র এসে পৌঁছেছে।
  • সঠিক সময়ের অপেক্ষা: তিনি এখনই সব তথ্য জনসমক্ষে আনছেন না। তিনি অপেক্ষা করছেন মোক্ষম সময়ের জন্য, যখন এই তথ্য প্রকাশ করলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে।
  • আদালতের দরজা: যদি স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বা আদালতের বাইরে এই দুর্নীতি প্রকাশ্যে না আসে, তবে তিনি আইনি পথেই এর মোকাবিলা করবেন। অর্থাৎ, প্রয়োজনে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়ে দুর্নীতির মুখোশ খোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
Advertisement

সরকার অচল করার হুঁশিয়ারি: ৭২ থেকে ১৪৪ ঘণ্টা বনধ

অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অংশটি হলো তাঁর আন্দোলনের রূপরেখা। তিনি মনে করেন, এই নতুন দুর্নীতি যদি প্রমাণিত হয়, তবে নৈতিকভাবে এই সরকারের ক্ষমতায় থাকার আর কোনো অধিকার থাকবে না। রাজ্যের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বড়সড় আন্দোলনের পথে হাঁটার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলি অত্যন্ত কঠোর:

  • দীর্ঘমেয়াদী ধর্মঘট: দুর্নীতি প্রকাশ্যে আসার পর তিনি রাজ্যজুড়ে টানা ৭২ ঘণ্টা (৩ দিন) থেকে ১৪৪ ঘণ্টা (৬ দিন) পর্যন্ত বনধ বা ধর্মঘটের ডাক দিতে পারেন।
  • প্রশাসনের স্তব্ধতা: এই বনধের মাধ্যমে তিনি কার্যত সরকারকে অচল করে দেওয়ার এবং প্রশাসনের ওপর চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করার বার্তা দিয়েছেন।

পদত্যাগের দাবি ও রাষ্ট্রপতির শাসন

শুধুমাত্র দুর্নীতির অভিযোগ তোলাই নয়, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে তিনি সরকারের পতনের ডাক দিয়েছেন। তাঁর মতে, এই কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে মুখ্যমন্ত্রীর উচিত হবে অবিলম্বে পদত্যাগ করা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন:

  • দুর্নীতির ব্যাপকতা এতটাই গভীর হতে পারে যে, সরকারের শীর্ষ স্তরের মদত ছাড়া তা সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।
  • তিনি চান মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যপালের কাছে গিয়ে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দিন।
  • পরিস্থিতি হাতের বাইরে গেলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারির দাবিও জোরালো হবে বলে তিনি মনে করেন।

যতক্ষণ না সরকারের পতন হচ্ছে বা মুখ্যমন্ত্রী পদত্যাগ করছেন, ততক্ষণ এই আন্দোলন এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন বিচারপতি। লোকসভা ভোটের আগে বা পরে এই ধরণের কোনো বড় কেলেঙ্কারি সামনে এলে তা যে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে দিতে পারে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাতে থাকা সেই ‘গোপন সূত্র’ কবে নাগাদ জনসমক্ষে আসে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>