সহায়িকা ও নিয়মাবলী

SIR Rejected List: কী কী কারণে SIR থেকে নাম বাদ দিচ্ছে কমিশন? জানুন কমিশনের কড়া নিয়ম

Voter ID Cancellation
Voter Id Cancellation

SIR Rejected List: সামনেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ, আর তার আগেই নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলার মতো খবর। বর্তমানে এসআইআর (SIR) বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলছে জোরকদমে। কিন্তু এই যাচাই প্রক্রিয়ায় হাজার হাজার নাম বাদ পড়ছে বা ‘রিজেক্ট’ হচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে? কমিশন পরিষ্কার জানিয়েছে, নির্ধারিত গাইডলাইন এবং ১১টি নির্দিষ্ট নথিপত্র না মানলে ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়া নিশ্চিত। সাধারণ মানুষের অজান্তেই এমন কিছু ভুল হচ্ছে, যার খেসারত দিতে হতে পারে ভোটের সময়।

যাঁরা নতুন আবেদন করেছেন বা যাদের নাম যাচাইকরণের স্তরে রয়েছে, তাঁদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন প্রায় ১৬টি এমন ক্ষেত্র বা ‘কমন অবজারভেশন’ চিহ্নিত করেছে, যেখানে সামান্য ভুলেই আবেদন বাতিল হয়ে যাচ্ছে।

সূচিপত্র

নথিপত্র বা ডকুমেন্টস সংক্রান্ত কড়াকড়ি

ভোটার তালিকায় নাম তোলার ক্ষেত্রে বা সংশোধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সঠিক নথির অভাব। কমিশন স্পষ্ট করে দিয়েছে, শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা দিলে তা কোনোভাবেই গ্রাহ্য হবে না।

  • শুধুমাত্র আধার কার্ড: অনেকেই মনে করেন আধার কার্ড থাকলেই সব কাজ হয়ে যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র আধার কার্ড জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তোলা যাবে না। এর সাথে সাপোর্টিং ডকুমেন্ট বা ১১টি নির্ধারিত নথির মধ্যে যেকোনো একটি থাকতেই হবে। এমনকি আধার এবং ফ্যামিলি রেজিস্টার বা SECC ডেটা দিলেও আবেদন বাতিল হবে।
  • প্যান বা রেশন কার্ড: অনেকেই প্যান কার্ড বা রেশন কার্ড জমা দিচ্ছেন, কিন্তু মনে রাখবেন—এগুলি কমিশনের মান্য নথির তালিকায় পড়ে না। ফলে এই ডকুমেন্টগুলি জমা দিলে আবেদন সরাসরি নাকচ হয়ে যাবে।
  • অপ্রাসঙ্গিক কাগজ: জমির দলিল, পঞ্চায়েত প্রধানের শংসাপত্র, নাম পরিবর্তনের এফিডেভিট বা প্রাইভেট স্কুলের সার্টিফিকেট জমা দিলে তা সরাসরি ‘রিজেক্ট’ তালিকায় চলে যাচ্ছে।
Advertisement

১৯৮৭ থেকে ২০২৪: জন্মতারিখ ও সম্পর্কের প্রমাণ (Linkage)

সবচেয়ে বেশি জটিলতা তৈরি হয়েছে তাঁদের ক্ষেত্রে, যাঁদের জন্ম ১লা জুলাই ১৯৮৭ থেকে ১লা জানুয়ারি ২০২৪-এর মধ্যে। এই বয়সের আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কমিশন অত্যন্ত কড়া।

  • লিংকেজ বা সম্পর্ক: ধরুন আপনি আপনার বার্থ সার্টিফিকেট, আধার এবং মাধ্যমিকের এডমিট কার্ড জমা দিয়েছেন। কিন্তু আপনার বাবা-মায়ের সাথে আপনার সম্পর্কের কোনো প্রমাণ (Linkage) দিতে পারেননি, অথবা বাবা-মায়ের জন্ম সংক্রান্ত কোনো নথি দেননি। সেক্ষেত্রে আপনার আবেদন ‘সন্দেহজনক’ (Doubtful) হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং নাম বাতিল হতে পারে।
  • বাবা-মায়ের নথি: নিজের সব কাগজ ঠিক থাকলেও, বাবা-মায়ের সঠিক ডকুমেন্ট বা তাঁদের সাথে আপনার সম্পর্কের প্রমাণ দাখিল না করলে নাম তোলা প্রায় অসম্ভব।

২০০২ সালের তথ্যের সাথে অমিল ও অন্যান্য ত্রুটি

ভোটার তালিকায় নাম যাচাইয়ের ক্ষেত্রে পুরনো বা লিগ্যাসি ডেটার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে ২০০২ সালের ভোটার তালিকার তথ্যের সাথে বর্তমান আবেদনের তথ্যের মিল থাকা বাধ্যতামূলক।

  • নামের গরমিল: আপনি হয়তো বাবা-মায়ের ২০০২ সালের রেফারেন্স দিয়েছেন, কিন্তু সেখানে থাকা নামের বানানের সাথে আপনার বর্তমান নথির নামের আকাশ-পাতাল তফাৎ। এমন ক্ষেত্রে নাম বাদ পড়তে পারে।
  • দাদু-দিদার রেফারেন্স: অনেকেই বাবা-মায়ের পরিবর্তে দাদু বা দিদার তথ্যের সাথে লিংক করান। সেখানে যদি নামের সম্পূর্ণ অমিল থাকে এবং সাপোর্টিং ডকুমেন্ট হিসেবে শুধু আধার জমা পড়ে, তবে তা বাতিলযোগ্য।

প্রযুক্তিগত ভুল ও বিএলও-দের ভূমিকা

অনেক সময় ভোটারের নিজের দোষ না থাকলেও টেকনিক্যাল কারণে বা বিএলও (BLO)-দের ভুলের কারণেও নাম বাতিল হতে পারে।

  • ভুল আপলোড: সিস্টেমে হয়তো ‘বার্থ সার্টিফিকেট’ অপশন সিলেক্ট করা হয়েছে, কিন্তু আপলোড করা হয়েছে আধার কার্ডের ছবি। এই ধরনের ক্যাটাগরি মিসম্যাচ বা ভুল পেজ আপলোড করলে আবেদন গ্রাহ্য হবে না।
  • স্বাক্ষর ও ছবি: এনুমারেটর ফর্মে আপনার সই এবং শুনানির রিসিভ কপিতে সই যদি না মেলে, অথবা একই ছবি যদি একাধিক ব্যক্তির প্রোফাইলে আপলোড করা হয়, তবে কমিশন তা জালিয়াতি বা ভুল হিসেবে গণ্য করে বাতিল করে দেবে।

এছাড়া, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ইস্যু করা ওবিসি (OBC) সার্টিফিকেটধারীদের নাম আপাতত অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে না বা রিজেক্ট করা হচ্ছে, যা চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভরশীল। তাই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে নিজের স্ট্যাটাস যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>