পশ্চিমবঙ্গ

Yuvasathi Krishak Bandhu: কৃষকবন্ধু ও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকরা যুবসাথীর জন্য অযোগ্য, জানুন নিয়ম

Yuvasathi Scheme West Bengal
Yuvasathi Scheme West Bengal

Yuvasathi Krishak Bandhu: রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ক্যাম্প এবং আবেদনপত্র জমা নেওয়ার কাজ। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক সহায়তার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও, ফর্ম ফিলাপের ভিড়ে উঠে আসছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বিশেষ করে গ্রামের দিকে যাদের নিজস্ব জমি রয়েছে এবং যারা ইতিমধ্যেই সরকারি ‘কৃষকবন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন, তারা কি এই নতুন যুবসাথী প্রকল্পের জন্য যোগ্য? এই বিভ্রান্তি দূর করতে এবং অহেতুক হয়রানি এড়াতে সরকারি নিয়মাবলী ও আধিকারিকদের বক্তব্য সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা প্রয়োজন।

সূচিপত্র

বেকার বনাম কৃষক: আবেদনের আসল বাধা কোথায়?

অনেকেই মনে করছেন, তিনি তো বেকার, তাই যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করতেই পারেন। কিন্তু সমস্যা হলো সরকারি নথিতে আপনার ‘স্ট্যাটাস’ নিয়ে। ক্যাম্পের আধিকারিকরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যারা কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন, তারা যুবসাথী প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

এর পিছনে মূল কারণটি বেশ যুক্তিযুক্ত। আপনি যখন কৃষকবন্ধু প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন, তার অর্থ সরকারি খাতায় আপনি একজন নথিভুক্ত ‘কৃষক’। কৃষি কাজ একটি পেশা হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ, টেকনিক্যাল দিক থেকে আপনি আর ‘বেকার’ নন। যুবসাথী প্রকল্পটি কেবলমাত্র বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য। তাই বছরে ৪,০০০ টাকা বা তার বেশি—কৃষকবন্ধুর যেকোনো সুবিধা পেলেই আপনি আর বেকার ভাতার আওতায় পড়বেন না।

Advertisement

অন্যান্য সরকারি ভাতার ক্ষেত্রে নিয়ম কী?

শুধুমাত্র কৃষকবন্ধু নয়, প্রকল্পের অফিসিয়াল নোটিফিকেশনে আরও কিছু বিধিনিষেধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবেদনকারী যদি রাজ্য সরকারের অন্য কোনো নিয়মিত ভাতা বা ‘অ্যালাউন্স’ (Allowance) পান, তবে তিনি এই প্রকল্পের যোগ্য নন। এর মধ্যে রয়েছে:

  • লক্ষীর ভান্ডার: মহিলারা যদি লক্ষীর ভান্ডারের সুবিধা পান, তবে তারা যুবসাথীতে আবেদন করতে পারবেন না।
  • প্রতিবন্ধী বা বার্ধক্য ভাতা: অন্য কোনো সোশ্যাল পেনশন চালু থাকলেও আবেদন গ্রাহ্য হবে না।
  • ব্যতিক্রম: শুধুমাত্র ছাত্রছাত্রীরা যারা পড়াশোনার জন্য কোনো স্কলারশিপ পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল হতে পারে, তবে যুবসাথী মূলত যারা পড়াশোনা শেষ করে বেকার বসে আছেন তাদের জন্য।

ভুল তথ্য দিয়ে ফর্ম জমা দিলে কী বিপদ হতে পারে?

অনেকে ভাবেন, ভিড়ের মধ্যে ফর্ম জমা দিয়ে দিলে হয়তো ধরা পড়বে না। কিন্তু বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই ধারণা ভুল।
১. আধার লিঙ্কিং: বর্তমানে সমস্ত সরকারি প্রকল্প আধার কার্ডের সাথে লিঙ্ক করা। ডেটা এন্ট্রির সময় আপনার আধার নম্বর দিলেই সিস্টেমে ধরা পড়ে যাবে আপনি অন্য কোনো সুবিধা (যেমন কৃষকবন্ধু) পাচ্ছেন কি না।
২. সরাসরি বাতিল: সিস্টেম যখনই দেখবে আপনি অন্য প্রকল্পের সুবিধাভোগী, আপনার যুবসাথী আবেদনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (Reject) হয়ে যাবে।
৩. আইনি জটিলতা: জেনেশুনে ভুল তথ্য দেওয়া বা মিথ্যা বলে সরকারি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে ব্লক অফিস থেকে আপনাকে তলব করা হতে পারে বা আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।

ক্যাম্পে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া কেমন হচ্ছে?

যারা সম্পূর্ণ যোগ্য এবং অন্য কোনো ভাতা পান না, তাদের জন্য প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ করা হয়েছে। ক্যাম্পে গিয়ে প্রথমে আধার ও মোবাইল নম্বর দিয়ে নাম নথিভুক্ত করতে হবে। এরপর আপনাকে একটি ‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর’ দেওয়া হবে। এই নম্বরটি ফর্মের নির্দিষ্ট স্থানে এবং রিসিভ কপিতে লিখতে হবে। শেষে আধিকারিকরা ফর্মে স্ট্যাম্প ও সই করে রিসিভ কপিটি আপনাকে ফেরত দেবেন।

পরিশেষে, আপনার যদি নিজস্ব জমি থাকে এবং আপনি কৃষকবন্ধু প্রকল্পের আওতাভুক্ত হন, তবে এই ফর্ম ফিলাপ করে সময় নষ্ট না করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>