Yubasathi Payment Pending: রাজ্য সরকারের যুবসাথী প্রকল্পের আওতায় থাকা বহু উপভোক্তার কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। মার্চ ও এপ্রিল মাসের ভাতার টাকা এখনও অনেকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়নি। মূলত ডিবিটি (DBT) বা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হতেই উপভোক্তাদের সামনে হাজির হয়েছে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম আর কারিগরি সমস্যা। কেন এই দেরি এবং কীভাবে এর সমাধান সম্ভব, তা নিয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।
হিসাব বলছে, বর্তমানে এই প্রকল্পে আবেদনকারীর সংখ্যা প্রায় ৮৪ লক্ষ থেকে ১ কোটির ঘরে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের তথ্য যাচাই করতে স্বাভাবিকভাবেই অনেকটা সময় লাগছে। বিশেষ করে যারা দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা অফলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাদের তথ্য পোর্টালে ম্যানুয়ালি আপলোড করার সময় পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় বড়সড় জট পাকিয়েছে।
সূচিপত্র
কেন আটকে আছে আপনার টাকা?
আবেদন পত্রে ভুল ও রিজেকশন: অনলাইন বা অফলাইন—আবেদন যেভাবেই হোক না কেন, আধার নম্বর, ভোটার কার্ড বা নামের বানানে সামান্য ভুলে অনেক ফর্মই বাতিল হয়ে গিয়েছে। এদিকে অফলাইনে জমা পড়া ফর্মগুলো পোর্টালে তোলার সময় ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের ভুলে অনেক ক্ষেত্রে তথ্য ভুল নথিভুক্ত হয়েছে। এই বাতিলের তালিকাটি স্থানীয় বিডিও (BDO) অফিসগুলিতে ইতিমধ্যেই প্রকাশ করা হয়েছে।
আধার সিডিং এবং এনপিসিআই (NPCI) সমস্যা: এখন আর ট্রেজারি থেকে সরাসরি টাকা পাঠানো হয় না, বরং ডিবিটি-র মাধ্যমেই লেনদেন সম্পন্ন হয়। এর মানে হলো, আপনার আধার কার্ডটি যে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে ‘ম্যাপ’ বা ‘সিড’ করা আছে, সরকারি অনুদান ঠিক সেই অ্যাকাউন্টেই ঢুকবে। যদি আপনার আধারের সাথে কোনো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করা না থাকে, তবে বকেয়া টাকা পাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যাবে।
বন্ধ বা নিষ্ক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে ব্যবহার না করা কোনো পুরনো অ্যাকাউন্ট আধারের সাথে লিঙ্ক হয়ে আছে। অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ (Freeze) বা বন্ধ হয়ে থাকার ফলে টাকা সেখানে জমা হলেও তা হাতে পাচ্ছেন না উপভোক্তারা।
টাকা না পেলে যা করবেন
বিডিও অফিসে যোগাযোগ করুন: প্রথমেই স্থানীয় বিডিও অফিসে গিয়ে খোঁজ নিন আপনার আবেদনটি বাতিল হয়েছে কিনা। তবে মনে রাখবেন, বর্তমানে নির্বাচন প্রক্রিয়া চলায় অফিসের কর্মীরা ব্যস্ত থাকতে পারেন। সেক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সমাধানের জন্য নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে।
আধার সিডিং স্ট্যাটাস দেখে নিন: আপনার আধারের সঙ্গে ঠিক কোন ব্যাঙ্কটি যুক্ত আছে তা জানতে এনপিসিআই-এর সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Aadhar Seeding Status’ পরীক্ষা করুন। যদি কোনো ব্যাঙ্ক লিঙ্ক না থাকে, তবে দ্রুত নিজের ব্যাঙ্কে গিয়ে ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করুন।
নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার বিকল্প: পুরনো অ্যাকাউন্টের ঝামেলা এড়াতে ইন্ডিয়ান পোস্ট পেমেন্ট ব্যাঙ্ক (IPPB) বা এয়ারটেল পেমেন্টস ব্যাঙ্কে একটি নতুন অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এই ধরনের ডিজিটাল অ্যাকাউন্ট খুললে তা সাধারণত স্বয়ংক্রিয়ভাবে আধারের সাথে সিড হয়ে যায়।
এনপিসিআই পোর্টালে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিবর্তনের নিয়ম
যদি দেখেন আধার পোর্টালে আপনার ভুল বা পুরনো অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক হয়ে আছে, তবে নিচের ধাপগুলি অনুসরণ করুন:
- এনপিসিআই (NPCI) পোর্টালে গিয়ে ‘Aadhar Seeding Status’ অপশনটি বেছে নিন।
- আধার নম্বর ও ক্যাপচা কোড দিয়ে মোবাইলে আসা ওটিপি (OTP) ভেরিফাই করে লগ-ইন করুন।
- এবার ‘Aadhar Seeding/De-seeding’ সেকশনে গিয়ে ‘Seeding’ অপশনে ক্লিক করুন।
- আপনার সচল ব্যাঙ্কটির নাম (যেমন: SBI বা বন্ধন ব্যাঙ্ক) সিলেক্ট করুন।
- সিডিং-এর ধরণ বাছুন। আগে লিঙ্ক না থাকলে Fresh Seeding সিলেক্ট করুন।
- একই ব্যাঙ্কের শাখা বদলাতে Movement এবং পুরোপুরি অন্য ব্যাঙ্ক লিঙ্ক করতে Change Bank অপশনটি বাছুন।
- সবশেষে নতুন অ্যাকাউন্ট নম্বর দিয়ে ওটিপি-র মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি নিশ্চিত করুন।
পরিশেষে একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, ডিবিটি প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। তাই এখানে কারও হাত দেওয়ার সুযোগ নেই। উপভোক্তাদের নিজেদেরই নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের আধার এবং ব্যাঙ্কের তথ্য নির্ভুল আছে। নামের বানান আধার ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে হুবহু এক হতে হবে। এনপিসিআই পোর্টালে এই তথ্যগুলো একবার ঠিক করে নিলেই মে মাসের কিস্তির সাথে বকেয়া টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হবে।