WB DA Arrears: বকেয়া ডিএ নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে প্রবঞ্চনার অভিযোগ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের
WB DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (DA) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণার পরেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ অভিযোগ করেছেন যে, বকেয়া মেটানোর নামে রাজ্য সরকার কর্মচারীদের সাথে প্রবঞ্চনা করছে এবং সরকারি হিসেবে ব্যাপক কারচুপি করা হচ্ছে।
বঞ্চনা ও আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট
ভাস্কর ঘোষের দাবি, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১১ বছর ধরে রাজ্য সরকার কর্মচারীদের ডিএ থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, ডিএ কোনো দয়ার দান নয়, বরং এটি কর্মচারীদের ন্যায্য এবং আইনি অধিকার। কিন্তু আদালতের রায়কে নিজেদের সুবিধামতো ব্যাখ্যা করে রাজ্য সরকার বকেয়া মেটানোর নামে বিভ্রান্তি তৈরি করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
হিসেবে কারচুপি ও বঞ্চনার মূল অভিযোগ
কর্মচারীদের মূল অভিযোগগুলি একাধিক স্তরে বিভক্ত:
- ৫০% বকেয়ার গরমিল: কেন্দ্রীয় হারে (এআইসিপিআই অনুযায়ী) কর্মচারীদের ৫০% ডিএ বকেয়া ছিল। রাজ্য সরকার এর মধ্যে ২৫% প্রদান করে সেটিকে পূর্বের চলমান ৭৫%-এর সাথে যোগ করে ১০০% নিউট্রালাইজেশনের দাবি করছে। বাকি ২৫% ডিএ-র কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি।
- ছয় মাসের বঞ্চনা: কেন্দ্রীয় সরকার জুলাই মাসে ডিএ কার্যকর করলেও রাজ্য সরকার তা দিচ্ছে জানুয়ারি মাসে। মাঝের ৬ মাসের টাকা কোষাগারে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
- প্রভিডেন্ট ফান্ডে (PF) ঘাটতি: কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পিএফ অ্যাকাউন্টে জমার ক্ষেত্রে হিসেবের থেকে ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত কম জমা পড়ার অভিযোগ উঠেছে।
- জিপিএফ (GPF) জমার সময়সীমা: রাজ্য সরকার ৩১শে মার্চের মধ্যে ডিএ মেটানোর কথা বললেও, গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মচারীদের জিপিএফ-এ সেই টাকা জমা পড়তে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। এর ফলে দীর্ঘ সময়ের সুদের টাকা থেকে কর্মচারীরা বঞ্চিত হবেন।
ভোটের চমক ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
ভাস্কর ঘোষের মতে, নির্বাচন ঘোষণার মাত্র ৫৫ মিনিট আগে তড়িঘড়ি করে ডিএ এরিয়ারের এই ঘোষণা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ১৩ই মার্চ থেকে সরকারি নির্দেশিকা প্রস্তুত থাকলেও, কেবল ভোট টানতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। সামাজিক প্রকল্পে অনুদান বৃদ্ধিতে কর্মচারীদের কোনো আপত্তি নেই, তবে নিজেদের ন্যায্য পাওনা থেকে এই বঞ্চনা তারা মেনে নেবেন না।
সর্বশেষ আপডেট
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্ট গত ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এক ঐতিহাসিক রায়ে রাজ্যকে ২০০৮-২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ মেটানোর নির্দেশ দেয় এবং প্রথম কিস্তি হিসেবে ২৫% বকেয়া ৩১শে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে মেটাতে বলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার সম্প্রতি জানিয়েছে যে, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ একাধিক কিস্তির বদলে একটি কিস্তিতেই ৩১শে মার্চের মধ্যে মেটানো হবে। এদিকে, ২০২৬-এর বাজেটে রাজ্য সরকার আরও ৪% ডিএ বৃদ্ধি করে মোট ডিএ ২২%-এ নিয়ে গেছে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের প্রাপ্ত ডিএ-র তুলনায় এই হার এখনও অনেকটাই কম।
আগামী দিনের বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা
বকেয়া ডিএ-র দাবিতে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তারা ত্রিমুখী কৌশল গ্রহণ করেছেন। সাংবাদিক সম্মেলন করে নতুন কর্মসূচি ঘোষণার পাশাপাশি, রাজ্য জুড়ে সাধারণ মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরকারের বঞ্চনার কথা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি আইনি লড়াই আরও জোরদার করার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তারা।