Annapurna Yojana: অবশেষে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে সুবিধাভোগীদের জন্য দারুণ সুখবর চলে এল! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রকল্পের নতুন নিয়ম এবং শর্তাবলী সম্পর্কে বিস্তারিত ঘোষণা করেছেন। নারী সশক্তিকরণ এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যে সমস্ত মহিলারা জুলাই মাসে টাকা পাননি বা যাদের আবেদন ‘আন্ডার এনকোয়ারি’ (Under Enquiry) থাকায় বাতিল হয়ে গিয়েছিল, তাদের জন্য বেশ কিছু নিয়মে বড়সড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ই আগস্ট যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ৩০০০ টাকা করে ট্রান্সফার করা শুরু হবে।
সূচিপত্র
কারা পাবেন অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা? (নতুন যোগ্যতার মাপকাঠি)
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী প্রকৃত প্রাপকদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দিতে বেশ কিছু কড়া অথচ বাস্তবসম্মত নিয়ম চালু করা হয়েছে। চলুন দেখে নিই সেই শর্তগুলি:
- বয়সসীমা: আবেদনকারীর বয়স অবশ্যই ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। ৬০ বছরের বেশি বয়সীরা যেহেতু পেনশনের আওতায় আসেন, তাই তারা এই সুবিধা পাবেন না।
- আয়কর ও ব্যক্তিগত আয়: পরিবারে কেউ আয়কর (Income Tax) প্রদান করলে (অর্থাৎ বার্ষিক আয় ১২ লক্ষ টাকার বেশি হলে) এই সুবিধা মিলবে না। পাশাপাশি, যে সমস্ত মহিলারা নিজে মাসে ১০,০০০ টাকার বেশি উপার্জন করেন, তারাও এই প্রকল্পের আওতায় আসবেন না।
- সরকারি চাকরি: আবেদনকারী যদি স্থায়ী সরকারি চাকরি করেন (কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান), তবে তিনি এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
অন্যান্য ভাতার সাথে অন্নপূর্ণা যোজনার সম্পর্ক
অনেক উপভোক্তার মনেই প্রশ্ন ছিল যে, তারা যদি অন্য কোনও ভাতা পান, তবে কি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা পাবেন? আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া হলো:
| ভাতার ধরন | একসাথে দুটি সুবিধা পাওয়া যাবে কি? | মোট মাসিক প্রাপ্য টাকা |
|---|---|---|
| বিধবা ভাতা (১৫০০ টাকা) | না (শুধুমাত্র বেশি অঙ্কের ভাতা অর্থাৎ অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা মিলবে) | ৩,০০০ টাকা |
| প্রতিবন্ধী ভাতা / দিব্যাঙ্গ ভাতা (১৫০০ টাকা) | হ্যাঁ (দুটি ভাতাই একসাথে মিলবে, এটি বিশেষ ছাড়) | ৪,৫০০ টাকা (১৫০০ + ৩০০০) |
| পিএম কিসান (PM Kisan) | হ্যাঁ (দুটি সুবিধাই একসাথে পাওয়া যাবে) | ৩,০০০ টাকা + পিএম কিসানের টাকা |
বাড়ি এবং জমির নিয়মে বড়সড় ছাড়
অনেক গ্রামীণ মহিলার আবেদন শুধুমাত্র তিন কক্ষ বিশিষ্ট বাড়ি বা জমির পরিমাণের জন্য বাতিল হয়েছিল। এই বিষয়ে নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে:
- গ্রামীণ এলাকার জন্য ছাড়: গ্রামের মহিলাদের ক্ষেত্রে তিন বা তার বেশি কামরার বাড়ি থাকলেও তারা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাবেন। তবে শহর বা কর্পোরেশন এলাকার ক্ষেত্রে পুরনো নিয়মই বহাল থাকছে।
- জমির পরিমাণ: কলকাতা, হাওড়া-সহ ৭টি কর্পোরেশন এলাকা বাদে গ্রামীণ ও সাধারণ পৌরসভা এলাকার মহিলাদের যদি ৫০ ডেসিমেল (শতক)-এর বেশি জমিও থাকে, তাহলেও তারা টাকা পাবেন। তবে ৭টি কর্পোরেশন এলাকায় ৫০ ডেসিমেলের বেশি জমি থাকলে টাকা মিলবে না।
চালু হচ্ছে নতুন অভিযোগ পোর্টাল (Grievance Portal)
যাতে কোনও প্রকৃত প্রাপক এই প্রকল্প থেকে বঞ্চিত না হন, তার জন্য একটি নতুন ‘অভিযোগ পোর্টাল’ চালু করা হচ্ছে। যদি কোনও যোগ্য মহিলা টাকা না পান, বা কোনও অযোগ্য ব্যক্তি বেআইনিভাবে টাকা পান, তবে এই পোর্টালে সরাসরি অভিযোগ জানানো যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিও (BDO) একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শুনানির মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করবেন। রাজ্য সরকার চাইছে অন্তত ৯৯% প্রকৃত প্রাপক যেন তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন।
কবে ঢুকবে আপনার অ্যাকাউন্টে টাকা? (প্রয়োজনীয় তথ্য)
আগামী ১৭ই আগস্ট থেকে যোগ্য মহিলাদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকা শুরু হবে। তবে অর্থদপ্তরের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে ২-৩ দিন থেকে সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। তাই ১৭ তারিখেই টাকা না ঢুকলে প্যানিক না করে অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী মাসগুলি থেকে প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে (১০ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে) রাজ্য সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এই বিরাট অঙ্কের টাকা সরাসরি উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
যাদের ভেরিফিকেশন এখনও সম্পন্ন হয়নি, তাদের দ্রুত ভেরিফিকেশন করার কাজ চলছে। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করে থাকলে নিশ্চিন্ত থাকুন, আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পৌঁছে যাবে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প ও রোজকার খবরের সঠিক আপডেট পেতে নিয়মিত চোখ রাখুন wbpay.in-এ।









