Biometric Attendance WB: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত কর্মীদের জন্য এবার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে নবান্ন। এতোদিন ধরে সরকারি অফিসে কর্মীদের উপস্থিতির উপর কড়া নজর রাখতে ফেস রিকগনিশন বা বায়োমেট্রিক হাজিরা নিয়ে নানান আলোচনা ও প্রস্তুতি চলছিল। এবার সেই প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং আধুনিক করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পার্সোনেল অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিফর্মস (Personnel and Administrative Reforms) দপ্তরের এস্টাবলিশমেন্ট সেলের পক্ষ থেকে একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। গত ২৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় (মেমো নম্বর: 1113-PAR (Estb.)) বলা হয়েছে যে, এখন থেকে সরকারি অফিসগুলোতে সফটওয়্যার-ভিত্তিক ‘জিও-ফেন্সড বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম’ (Geo-fenced biometric attendance system) ব্যবহার করার বিষয়ে দপ্তরগুলি বিবেচনা করতে পারে।
সূচিপত্র
নির্দেশিকার প্রেক্ষাপট ও অর্থ দপ্তরের পূর্ববর্তী মেমো
এর আগে গত ২ জুন, ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তরের একটি নির্দেশিকা (মেমো নং 1961-F(H)) প্রকাশিত হয়েছিল। সেই নির্দেশিকার পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং অফিসগুলি ফেস রিকগনিশন (Face recognition) বায়োমেট্রিক সিস্টেম বসানোর জন্য WTL বা WEBEL-এর সাথে যোগাযোগ করছিল। কিন্তু, হার্ডওয়্যার ভিত্তিক সেই ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে নতুন এই সফটওয়্যার-ভিত্তিক জিও-ফেন্সড সিস্টেমটির কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা আরও উন্নত এবং সুবিধাজনক।
কীভাবে কাজ করবে এই নতুন জিও-ফেন্সড হাজিরা ব্যবস্থা?
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে অফিসের একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক সীমানা বা ‘জিও-ফেন্স’ (Geo-fence) নির্ধারণ বা কনফিগার করে দেওয়া হবে। এই ব্যবস্থায় কর্মীদের হাজিরা দেওয়ার জন্য অফিসে আলাদা করে কোনও মেশিন বা হার্ডওয়্যার বসানোর প্রয়োজন পড়বে না। কর্মীরা যখন সেই নির্দিষ্ট সীমানার ভেতর প্রবেশ করবেন, তখন তারা নিজেদের স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই সফটওয়্যার বা অ্যাপ ব্যবহার করে সহজেই নিজেদের উপস্থিতি বা হাজিরা রেকর্ড করতে পারবেন। রাজ্য সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, ইতিমধ্যেই কয়েকটি সরকারি দপ্তরে এই সিস্টেমের সফল পরীক্ষামূলক প্রয়োগ সম্পন্ন হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থার প্রধান সুবিধাগুলি কী কী?
সরকারি অফিসে এই নতুন মোবাইল এবং সফটওয়্যার ভিত্তিক হাজিরা ব্যবস্থার বেশ কয়েকটি বড় সুবিধা রয়েছে। সেগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
- সম্পূর্ণ হার্ডওয়্যার-মুক্ত: এই সিস্টেমের জন্য আলাদা করে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা ফেস রিডার মেশিনের প্রয়োজন হবে না। ফলে মেশিন রক্ষণাবেক্ষণের ঝামেলা থাকবে না।
- খরচ সাশ্রয়ী: আলাদা মেশিনের পেছনে সরকারের কোনও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে না, তাই এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী (Cost-effective)।
- সহজ বাস্তবায়ন: এটি সহজেই স্কেলেবল (Scalable), অর্থাৎ যেকোনো দপ্তরে খুব দ্রুত এবং সহজেই এই সিস্টেম চালু করা সম্ভব।
- সুবিধাজনক: কর্মীদের মেশিন খারাপ হওয়া বা লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে হাজিরা দেওয়ার বিরক্তি থেকে মুক্তি মিলবে। মোবাইল থেকেই হাজিরা দেওয়া যাবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
এই সমস্ত আধুনিক সুবিধা এবং দ্রুত বাস্তবায়নের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই, রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তর এবং সরকারি অফিসগুলিকে এই নতুন জিও-ফেন্সড বায়োমেট্রিক সিস্টেম প্রয়োগের কথা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। যে সমস্ত দপ্তর বা অফিসগুলি এই হাজিরা ব্যবস্থা চালু করতে ইচ্ছুক, তাদের অবিলম্বে এই বিষয়ে WTL (Webel Technology Limited) অথবা WEBEL-এর সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্য প্রশাসনে স্বচ্ছতা এবং সময়ানুবর্তিতা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।









