Arrear DA: শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আজ নিউ টাউনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষাকর্মীদের দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance বা ডিএ) সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন। বকেয়া ডিএ ও এরিয়ার নিয়ে চলতে থাকা আইনি জটিলতা কীভাবে মেটানো হবে এবং রাজ্য সরকার কীভাবে তার আর্থিক দায়বদ্ধতা পালন করবে, তারই রূপরেখা এদিন তুলে ধরেন তিনি।
সূচিপত্র
বকেয়া ডিএ নিয়ে জটিলতা তৈরি হল কীভাবে?
সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী একটি নির্দেশের জেরে পূর্ববর্তী সরকার সামান্য কিছু অংশের ডিএ মেটাতে বাধ্য হয়েছিল। বর্তমান প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বকেয়ার একটা বড় অংশ ইতিমধ্যেই মিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মীদের ডিএ এরিয়ারের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন অবস্থায় ঝুলে রয়েছে, যার ফলে এই অংশের কর্মী-শিক্ষকদের অপেক্ষা দীর্ঘায়িত হয়েছে।
ইন্দু মালহোত্রা কমিটির সিদ্ধান্তই শেষ কথা
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন একটি নজরদারি কমিটি। আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকা এই কমিটিই এখন গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, ইন্দু মালহোত্রা কমিটি যে সুপারিশ বা সিদ্ধান্তই নিক না কেন, রাজ্য সরকার তা নিঃশর্তভাবে ও সম্পূর্ণভাবে মেনে নেবে। কমিটির চূড়ান্ত নির্দেশিকা প্রকাশিত হওয়ার পর সেই অনুযায়ী ধাপে ধাপে সমস্ত বকেয়া অর্থ মিটিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
কত টাকার বকেয়া মেটাতে হবে রাজ্যকে?
শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সম্পূর্ণ এরিয়ার মেটাতে ঠিক কত টাকা প্রয়োজন, তার একটি আনুমানিক হিসাবও উঠে এসেছে এই অনুষ্ঠানে।
| ক্ষেত্র | বিবরণ |
|---|---|
| সুবিধাভোগী শ্রেণি | কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী |
| নীতি নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ | সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা কমিটি |
| আনুমানিক মোট ব্যয় | প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা |
| সরকারের রূপরেখা | আদালতের চূড়ান্ত নির্দেশ মেনে ধাপে ধাপে সম্পূর্ণ বকেয়া অর্থ মেটানো |
এই পরিমাণ অর্থের দিকে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যায়, রাজ্যের কোষাগারের উপর এর প্রভাব কতটা বিরাট। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই আর্থিক দায়বদ্ধতা থেকে সরকার এক চুলও সরে আসবে না।
কোনও রাজনৈতিক টালবাহানা নয়, আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, কর্মীদের ন্যায্য আর্থিক পাওনা মেটাতে কোনও রকম রাজনৈতিক টালবাহানা বা কালক্ষেপণ বরদাস্ত করা হবে না। উৎসব-অনুষ্ঠান বা অন্যান্য খাতে বাড়তি খরচের তুলনায় বিদ্যালয়ের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষক সমাজের আর্থিক সুরক্ষাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। আদালতের নজরদারিতে থাকা মালহোত্রা কমিটি যে পথ চূড়ান্ত করবে, সেই অনুযায়ী তহবিল বরাদ্দ করে ১২ হাজার কোটি টাকার এই দায়ভার বাস্তবায়িত করা হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।










