WB Govt Signature Rules: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের সমস্ত সরকারি দপ্তরে চিঠি আদান-প্রদান এবং ফাইল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। কর্মীবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর (P&AR Department) থেকে জারি করা এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি সরকারি চিঠিপত্রে আধিকারিকের নাম ও পদবি উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি সমস্ত ফিজিক্যাল ফাইলে হস্তাক্ষরের সঙ্গে অফিশিয়াল সিল বা রাবার স্ট্যাম্প ব্যবহার করাও আবশ্যিক করা হয়েছে।
স্মারক সংখ্যা 1384-PAR-HR/N/G8P-49/2026 এর মাধ্যমে এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের অতিরিক্ত প্রধান সচিব অনূপ কুমার আগরওয়াল এবং ঊর্ধ্বতন বিশেষ সচিব ডঃ রাজ নন্দার স্বাক্ষরিত এই আদেশপত্রটি ইতিমধ্যে প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল (A&E), সমস্ত বিভাগীয় কমিশনার, জেলা শাসক এবং ট্রেজারি অফিসারদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সূচিপত্র
নতুন নির্দেশিকায় ঠিক কী বলা হয়েছে?
রাজ্য সরকারের এই আদেশের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং ফাইলের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা। অনেক সময় অফিশিয়াল চিঠিপত্র বা সরকারি নথিতে কেবল অস্পষ্ট স্বাক্ষর থাকে, যার ফলে কোন আধিকারিক সেটি অনুমোদন করেছেন তা চিহ্নিত করতে অডিট বা প্রশাসনিক পর্যায়ে জটিলতা তৈরি হয়।
নতুন নিয়ম অনুসারে এখন থেকে দুটি প্রধান নির্দেশ মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে:
- রাজ্যের সমস্ত দপ্তরের ভেতরের এবং বাইরের অফিশিয়াল চিঠিপত্রে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের পূর্ণ নাম এবং পদবি স্পষ্ট অক্ষরে উল্লেখ করতে হবে।
- প্রতিটি ফিজিক্যাল ফাইলে হস্তাক্ষরের ঠিক নিচে নাম-পদবি সম্বলিত অফিশিয়াল সিল ব্যবহার বাধ্যতামূলক, যাতে স্বাক্ষরকারীর সঠিক পরিচয় ও তথ্যের সত্যতা প্রমাণিত হয়।
আগের নিয়ম ও নতুন নিয়মের পার্থক্য
প্রশাসনিক স্তরে এই পরিবর্তনের ফলে সরকারি ফাইলের গতিবিধি ও কার্যপ্রণালীতে বেশ কিছু স্পষ্ট তফাৎ তৈরি হচ্ছে। নিচের তালিকায় বিষয়টির তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো।
| বিষয় | পূর্বের প্রচলিত ব্যবস্থা | নতুন সরকারি নির্দেশিকা |
|---|---|---|
| চিঠি আদান-প্রদান | কেবল স্বাক্ষর থাকত, অনেক ক্ষেত্রে নাম বা পদবি বাদ যেত। | সইয়ের সাথে নাম ও পদবি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক। |
| ফিজিক্যাল ফাইল অনুমোদন | সিলের ব্যবহার অনেক সময় অনিয়মিত ছিল। | সইয়ের নিচে পদবি সম্বলিত অফিশিয়াল সিল ব্যবহার সম্পূর্ণ আবশ্যিক। |
| ফাইলের স্বচ্ছতা | আধিকারিক চিহ্নিত করতে ট্রেজারি বা অডিটে সময় লাগত। | স্বাক্ষরকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সহজ হবে। |
সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের কাজে কী প্রভাব পড়বে?
এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে সাধারণ সরকারি কর্মী, শিক্ষক, ডিপিএসসি কর্মী এবং পেনশনারদের কাজের ক্ষেত্রে বেশ কিছু স্পষ্ট সুবিধা তৈরি হবে। বিশেষ করে যারা বদলি, পেনশন ফাইল, পে-ফিক্সেশন বা সার্ভিস বুক আপডেটের কাজ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যাতায়াত করেন, তাদের ফাইল ট্র্যাকিং সহজ হবে।
প্রথমত, অফিসে ফাইল আটকে থাকলে কোন আধিকারিক সই করেছেন বা কার টেবিলে অনুমোদন আটকে আছে, তা সহজে চিহ্নিত করা যাবে। দ্বিতীয়ত, ট্রেজারি বিল পাস বা সার্ভিস সংক্রান্ত ফিজিক্যাল ফাইল জমা দেওয়ার সময় সিলের অভাবে কোনো নথি খারিজ হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না। প্রশাসনিক নথিপত্র প্রক্রিয়াকরণের ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এখন থেকে নিজস্ব অফিসিয়াল সিল ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে।
উৎস: Personnel and Administrative Reforms Order
Department: Personnel and Administrative Reforms
Source: https://par.wb.gov.in/
📥 Download Govt Order









