DA Case Monitoring Committee: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে এবার বড় মোড়। দুটি তারিখ এখনই ক্যালেন্ডারে দাগিয়ে রাখুন ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ও ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। আগামী ৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের গঠিত মনিটরিং কমিটির ইমেলে কর্মচারীদের যাবতীয় অভিযোগ ও নথিপত্র পৌঁছে দেওয়া বাধ্যতামূলক। ঠিক এক সপ্তাহ পর, ১২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সরাসরি বৈঠক।
নবান্নের অর্থ দপ্তরের ল সেল ইতিমধ্যেই এই বৈঠকের আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করেছে।
সূচিপত্র
এক নজরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বৈঠকের তারিখ | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ |
| নথি জমার শেষ তারিখ | ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (ইমেলে) |
| কমিটি প্রধান | অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা |
| মামলা নম্বর | Civil Appeal No. 792/2026, 793/2026, 794/2026 ও তৎসংলগ্ন MA |
| সিনিয়র অ্যাডভোকেট | করুণা নন্দী (Ms. Karuna Nundy) |
| অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড | বিপুল কুমার (Mr. Bipul Kumar) |
| নোটিশ জারিকারী | পশ্চিমবঙ্গ অর্থ দপ্তর (ল সেল) |
১৯ আগস্টের শুনানিতে কী হয়েছিল?
গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে যখন ডিএ মামলার শুনানি চলছিল, তখন মামলাকারী ও রেসপন্ডেন্ট উভয় পক্ষই বকেয়া মেটানোর ক্ষেত্রে অসঙ্গতি আর বঞ্চনার অভিযোগ তোলে। একপর্যায়ে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত মনিটরিং কমিটির সামনে সরাসরি বসে কথা বলার সুযোগ চান কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা।
শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, কর্মচারীদের যাবতীয় ক্ষোভ ও দাবি নিষ্পত্তির উদ্দেশ্যেই তো এই মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাই আলাদা করে আদালতে না ডেকে প্রতিনিধিদের সরাসরি কমিটির কাছেই দরবার করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক অর্থ দপ্তরের ল সেল থেকে বৈঠকের নোটিশ প্রকাশ পেয়েছে।
কোন কোন সংগঠন উপস্থিত থাকবে?
১২ সেপ্টেম্বরের টেবিলে মুখোমুখি বসছে রাজ্যের চার প্রধান কর্মচারী সংগঠন। বৈঠকে কোন সংগঠনের পক্ষ থেকে কারা উপস্থিত থাকবেন, তা দেখে নিন:
- নিউ ইউনিটি ফোরাম: করুণা নন্দী, বিপুল কুমার ও মৃন্ময় শ্রীমানী
- সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ: আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ ও অভিজিৎ উপাধ্যায়
- কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ: ফিরদৌস শামিম, গোপা বিশ্বাস ও শ্যামল কুমার মিত্র
- ওল্ড ইউনিটি ফোরাম: প্রবীর চ্যাটার্জি ও দেবপ্রসাদ হালদার
বৈঠকে কী কী বিষয় উঠবে?
সংগঠনগুলি মনিটরিং কমিটির কাছে ঠিক কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরতে চলেছে, তা প্রতিটি রাজ্য সরকারি কর্মীর জানা দরকার:
- ভুল বেস পয়েন্ট ও CPI হিসাব: রাজ্য সরকারের তৈরি উপভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) আর বেস পয়েন্ট নির্ধারণের গণনায় বড় রকমের ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ। কর্মচারীদের দাবি, এই অসঙ্গতির চক্করেই ডিএ-র হার স্বাভাবিকের চেয়ে কম ধার্য করা হয়েছে।
- গ্রান্ট-ইন-এইড ও কেএমসি কর্মীদের বঞ্চনা: অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা কলকাতা পুরসভার (KMC) একটা বড় অংশের কর্মীরা এখনও ডিএ-র মুখ দেখেননি। এই অন্যায়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তোলা হবে।
- জিপিএফ লক-ইন পিরিয়ড প্রত্যাহারের দাবি: বকেয়া ডিএ-র অর্থ জিপিএফে (GPF) জমা রাখার ক্ষেত্রে দুই বছরের বাধ্যতামূলক লক-ইন পিরিয়ড চাপানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনেও নিজের প্রাপ্য টাকা না তুলতে পারায় কর্মীদের ক্ষোভ চরম, যা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হবে।
- বকেয়ার পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেশ: বিভিন্ন দপ্তরের বঞ্চিত কর্মচারীদের সুনির্দিষ্ট আর্থিক ক্ষতি ও বকেয়ার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব জমা দেওয়া হবে কমিটির হাতে।
জিপিএফ লক-ইন কীভাবে আপনাকে প্রভাবিত করছে: একটি উদাহরণ
ধরুন, আপনার বকেয়া ডিএ বাবদ ₹১,২০,০০০ টাকা জিপিএফে জমা হলো। কিন্তু দুই বছরের লক-ইন শর্তের কারণে ২০২৮ সালের আগে আপনি এক টাকাও তুলতে পারবেন না এমনকি অগ্রিম হিসেবেও নয়। অথচ ওই অর্থ আপনারই বকেয়া বেতনের অংশ। আর তাই এই নিয়ম বাতিলের দাবিতে সোচ্চার হবে সংগঠনগুলি।
মনিটরিং কমিটি যদি সিপিআই বেস পয়েন্টের গলদ স্বীকার করে নেয়, তবে ডিএ-র হার নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে যার অর্থ দাঁড়াবে বকেয়ার অঙ্ক আরও বাড়বে। আর জিপিএফের লক-ইন শর্ত উঠে গেলে সেই টাকা পেতে ২০২৮ পর্যন্ত অপক্ষো করতে হবে না।
এদিকে, অনুদানপ্রাপ্ত সংস্থা ও পুরকর্মীদের ক্ষেত্রে এই বৈঠক আরও বড় সুযোগ এনে দিতে পারে। কমিটি তাঁদের ক্ষোভ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে বছরের পর বছর ঝুলে থাকা ডিএ হাতে পাওয়ার পথ খুলে যাবে।
অতএব, ১২ সেপ্টেম্বরের বৈঠকের পর সুপ্রিম কোর্টের মনিটরিং কমিটি কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর লক্ষ লক্ষ কর্মচারীর।









