শিক্ষা

Census Duty: শিক্ষকদের সেন্সাস ডিউটির জন্য ‘অন ডিউটি’ বাতিল, স্কুল ছুটির পর বা উইকেন্ডে করতে হবে কাজ

Census 2027
Census 2027

এক নজরে

  • শিক্ষকদের সেন্সাস ডিউটির জন্য কোনো 'অন ডিউটি' ছুটি দেওয়া হবে না।
  • স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন শেষ করেই সেন্সাসের কাজ করতে হবে।
  • ছুটির দিন বা উইকেন্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
  • আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে সেন্সাসের প্রথম দফার কাজ।
  • নির্দেশিকায় চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে পুনর্বিবেচনার আবেদন শিক্ষক মহলের।

Census Duty: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্কুল শিক্ষা দপ্তরের (School Education Department) পক্ষ থেকে শিক্ষকদের সেন্সাস বা আদমসুমারির কাজ নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ৩রা আগস্ট ২০২৬ তারিখে জয়েন্ট ডিরেক্টর অফ স্কুল এডুকেশন-এর তরফ থেকে সমস্ত ডিপিএসসি (DPSC) চেয়ারম্যান এবং প্রাইমারি ডিআই-দের (DI) উদ্দেশ্যে এই নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, যে সকল শিক্ষক-শিক্ষিকা সেন্সাসের কাজের সঙ্গে যুক্ত, তারা এই কাজের জন্য কোনো ‘অন ডিউটি’ (On Duty) ছুটি পাবেন না। অর্থাৎ, স্কুলের স্বাভাবিক পঠনপাঠন এবং অন্যান্য কাজ সম্পূর্ণ করেই তাদের সেন্সাসের কাজ করতে হবে। এর ফলে শিক্ষক মহলে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তা।

সূচিপত্র

শিক্ষা দপ্তরের নির্দেশিকায় ঠিক কী বলা হয়েছে?

এই নির্দেশিকার মূল বক্তব্য হলো, সেন্সাসের কাজের জন্য কোনোভাবেই স্কুলের পঠনপাঠন বা অ্যাকাডেমিক কাজ ব্যাহত করা যাবে না। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে কয়েকটি বিষয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে:

  • স্বাভাবিক পঠনপাঠন অব্যাহত রাখা: শিক্ষকদের প্রথমে স্কুলে গিয়ে তাদের নির্ধারিত ক্লাস এবং অন্যান্য দায়িত্ব পালন করতে হবে। সেন্সাসের কারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তা গ্রাহ্য করা হবে না।
  • স্কুল ছুটির পর কাজ: স্কুলের নির্দিষ্ট সময়সীমা বা ক্লাস আওয়ার শেষ হওয়ার পর শিক্ষকদের সেন্সাস বা আদমসুমারির কাজ করতে হবে।
  • ছুটির দিন বা উইকেন্ডে কাজ: শিক্ষকেরা চাইলে শনি বা রবিবার অর্থাৎ উইকেন্ডে এবং ছুটির দিনগুলোতে এই কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।
  • অন ডিউটি বাতিল: স্কুল কামাই করে সেন্সাসের কাজে গেলে কোনো শিক্ষক ‘অন ডিউটি’ পাবেন না। এর সরাসরি অর্থ হলো, নিজের ব্যক্তিগত সময় থেকেই এই কাজের জন্য সময় বের করতে হবে।
Advertisement

সেন্সাসের কাজের পরিধি এবং প্রথম দফার হাউসলিস্টিং

আগস্ট মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হতে চলেছে সেন্সাসের প্রথম দফার কাজ, যা ‘হাউসলিস্টিং’ (House-listing) নামে পরিচিত। এই পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। সেলফ-এনুমারেশন (Self-enumeration) প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই এই কাজ শুরু হবে। এটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং শ্রমসাধ্য একটি কাজ। প্রতিটি পরিবার থেকে প্রায় ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করতে হবে। তথ্য সংগ্রহের পর সেই সমস্ত ডেটা একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে আপলোড করতে হবে। শিক্ষকদের এই কাজে যুক্ত হওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে বা চলছে।

শিক্ষকদের ব্যক্তিগত জীবনে ব্যাপক প্রভাব

সরকারি এই নির্দেশিকা শিক্ষকদের জন্য এক বিশাল চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রত্যেক মানুষেরই নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন থাকে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত স্কুলের স্বাভাবিক ডিউটি পালন করার পর, শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত অবস্থায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। তা ছাড়া, ছুটির দিনগুলিতেও যদি এই কাজ করতে হয়, তবে শিক্ষকদের বিশ্রামের বা পরিবারের সাথে সময় কাটানোর কোনো সুযোগই থাকবে না। এর ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর সংগ্রহ করে তা অ্যাপে নির্ভুলভাবে আপলোড করা সাধারণ কোনো কাজ নয়, এর জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত সময় এবং একাগ্রতা।

শিক্ষা দপ্তরের কাছে পুনর্বিবেচনার আবেদন

সেন্সাসের মতো একটি জাতীয় স্তরের গুরুত্বপূর্ণ কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করার জন্য শিক্ষকদের পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তাই শিক্ষা দপ্তরের কাছে বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পুনর্বিবেচনা করার আবেদন জানাচ্ছে শিক্ষক মহল। সারা সপ্তাহে অন্তত এক বা দুই দিন ‘অন ডিউটি’ প্রদান করা হলেও শিক্ষকদের জন্য কাজটা কিছুটা সহজ হতে পারে। বিকল্প হিসেবে, স্কুল চলাকালীন টিফিনের পর শিক্ষকদের সেন্সাসের কাজের জন্য ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অথবা, টিফিনের আগে সেন্সাসের কাজ করে তারপর স্কুলে যোগ দেওয়ার মতো কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম তৈরি করা হলে, স্কুলের কাজ এবং সেন্সাসের কাজ—উভয়ই সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>