Pending DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) প্রদানের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের বেতন ও অন্যান্য অর্থনৈতিক কার্যক্রম সাধারণত ওএসএমএস (OSMS – Online Salary Management System) পোর্টালের মাধ্যমে পরিচালিত হয়ে থাকে। বকেয়া ডিএ প্রদানের হিসাব-নিকাশ নিখুঁতভাবে করার জন্য এবার ওএসএমএস পোর্টালে একটি সম্পূর্ণ নতুন মডিউল যুক্ত করার প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। এর আগে রোপা (ROPA) পে ফিক্সেশনের সময়ও এমন একটি মডিউল ব্যবহার করা হয়েছিল, যা অত্যন্ত সফলভাবে কাজ করেছিল।
সূচিপত্র
নতুন ওএসএমএস মডিউলের বর্তমান পরিস্থিতি ও কাজের ধরন
শিক্ষা দপ্তরের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, বকেয়া মহার্ঘ ভাতা হিসাব করার জন্য ওএসএমএস-এ যে নতুন মডিউলটির ডিজাইন করা হয়েছে, তার কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে এটি টেস্টিং মোড বা ডামি মোডে ট্রায়াল ভার্সনে চলছে। শিক্ষা দপ্তর এবং রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা এবং নির্দিষ্ট হিসেবের শতকরা হার পাওয়ার পর, সেই ডেটাগুলো মডিউলে যুক্ত করা হলেই সম্পূর্ণ সিস্টেমটি লাইভ হয়ে যাবে। আশা করা হচ্ছে, চলতি আগস্ট মাসের মধ্যেই এই টেস্টিং বা ট্রায়াল রান সফলভাবে শেষ হয়ে যাবে।
ধাপে ধাপে বকেয়া ডিএ হিসাবের প্রক্রিয়া
বকেয়া মহার্ঘ ভাতার হিসেব মূলত দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে:
- প্রথম পর্যায়: প্রাথমিকভাবে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের (২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ এবং ২০১৯) হিসাব প্রথমে সম্পন্ন করা হবে।
- দ্বিতীয় পর্যায়: প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৮ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ-র হিসেব করা হবে।
যাঁরা ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কর্মরত বা ইন-সার্ভিস (In-service) ছিলেন, কেবল তাঁদের হিসেবটিই ওএসএমএস-এর মাধ্যমে হবে।
অবসরপ্রাপ্তদের জন্য কী নিয়ম থাকছে?
এই সময়কালে যাঁদের চাকরির মেয়াদ শেষ হয়েছে বা যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের জন্য থাকছে বিশেষ নিয়ম। যদি কোনো শিক্ষক বা শিক্ষাকর্মী ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে অবসর গ্রহণ করে থাকেন, তবে তাঁর চাকরিরত অবস্থার বকেয়া ডিএ-র হিসেব ওএসএমএস পোর্টালেই হবে। কিন্তু পেনশনের বকেয়া হিসেব সংশ্লিষ্ট ট্রেজারি (Treasury) থেকে হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, যাঁরা ২০০৮ সালের আগেই অবসর গ্রহণ করেছেন, তাঁদের হিসাব ওএসএমএস পোর্টালের মাধ্যমে হবে না। তাঁদের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা বিজ্ঞপ্তি জারি হতে পারে।
কীভাবে ডেটা আপডেট করা হবে?
একবার মডিউলটি লাইভ হলে, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে এসআই (SI) লগইন এবং অন্যান্য বিদ্যালয়গুলির ক্ষেত্রে এইচওআই (HOI) লগইন-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করতে হবে। মূলত শিক্ষকদের বেসিক পে (Basic Pay) ইনপুট করলেই ডিএ এবং অন্যান্য হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে। তবে, কারোর যদি প্রমোশন, ১০ বছর বা ২০ বছরের স্পেশাল বেনিফিট থেকে থাকে, তবে ইনক্রিমেন্টের তথ্য সঠিকভাবে দিলে বাকি হিসেব নির্ভুলভাবে মডিউলে চলে আসবে।
এই নতুন মডিউলের মাধ্যমে কাজ হলে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা প্রদানের প্রক্রিয়ায় যেমন স্বচ্ছতা বজায় থাকবে, তেমনই দ্রুততার সাথে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রাপ্য টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষারত রাজ্য সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির শিক্ষক ও শিক্ষিকাদের জন্য এটি সত্যিই একটি আশার খবর। পরবর্তীতে এইচওআই লগইন থেকে মডিউলটি অ্যাক্টিভ হলে শিক্ষা দপ্তর থেকে নির্দিষ্ট এসওপি (SOP) বা গাইডলাইন জারি করা হবে, যার ভিত্তিতে স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে পারবেন।









