Secondary Teacher TET: মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের শিক্ষকদের জন্য কি সেন্ট্রাল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (CTET) বা রাজ্য স্তরের টেট (TET) পরীক্ষা বাধ্যতামূলক? সারা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মনেও এই নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনা ছিল। অবশেষে গত ২২শে জুলাই, ২০২৬ তারিখে রাজ্যসভায় এই সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিল কেন্দ্র সরকারের শিক্ষা মন্ত্রক।
সূচিপত্র
রাজ্যসভায় ওঠা প্রশ্ন এবং শিক্ষা মন্ত্রকের জবাব
রাজ্যসভায় মূলত জানতে চাওয়া হয়েছিল যে, ছাত্রছাত্রীরা যখন বড় হয়ে মাধ্যমিক বা বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পৌঁছায়, তখন তাদের জটিল মনস্তত্ত্ব (complex adolescent psychology), কেরিয়ার কাউন্সেলিং, ইমোশনাল মেন্টরিং এবং উন্নত ক্লাসরুম ম্যানেজমেন্টের জন্য শিক্ষকদের বিশেষ প্রশিক্ষণের প্রয়োজন হয়। এই বিষয়গুলি মাথায় রেখে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য কি সিটেট (CTET) বা সমতুল্য কোনও পরীক্ষা চালু করার প্রস্তাব সরকারের রয়েছে?
এই প্রশ্নের লিখিত উত্তরে শিক্ষা মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্রী জয়ন্ত চৌধুরী মহাশয় এনসিটিই (NCTE) গাইডলাইনের কথা উল্লেখ করে বিষয়টির সম্পূর্ণ নিরসন করেছেন।
এনসিটিই (NCTE) গাইডলাইন ঠিক কী বলছে?
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষকদের যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে:
- প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি: যে সকল প্রার্থী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি (Class 1 to 8) পর্যন্ত শিক্ষকতা করবেন বা শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে টেট (TET) পাশ করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক।
- মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তর: নবম শ্রেণি থেকে তার উপরের স্তরের (Secondary and Higher Education) শিক্ষকদের ক্ষেত্রে আলাদা করে টেট আবশ্যিক নয়। এই স্তরের শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ নিয়ম (Statutory provisions) ও রেগুলেশন দ্বারা পরিচালিত হবেন।
- বিশ্ববিদ্যালয় স্তর: কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য ইউজিসি (UGC) প্রণীত নিয়মাবলী এবং গাইডলাইন কার্যকর হবে।
বিষয়টি আরও সহজভাবে বোঝার জন্য নিচের সারণীটি লক্ষ্য করুন:
| শিক্ষার স্তর | শ্রেণি (Class) | টেট (TET) বাধ্যতামূলক কি না? |
|---|---|---|
| প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক | প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি | হ্যাঁ |
| মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক | নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি | না |
| বিশ্ববিদ্যালয় স্তর | কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় | না (UGC নিয়ম প্রযোজ্য) |
পশ্চিমবঙ্গের ‘নরমাল সেকশন’ নিয়ে ধোঁয়াশা এবং আইনি জটিলতা
কেন্দ্র সরকারের এই নিয়ম স্পষ্ট হলেও, পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে একটি বড় জটিলতা রয়েই যাচ্ছে যাকে “নরমাল সেকশন” (Normal Section) বলা হয়। পশ্চিমবঙ্গের অনেক স্কুলেই শিক্ষকরা পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়িয়ে থাকেন।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকেই শিক্ষকদের মনে একটি প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছিল। কলকাতা হাইকোর্টের একটি পূর্ববর্তী রায় অনুযায়ী, নরমাল সেকশনের শিক্ষকদের আপার প্রাইমারি সেকশনে ডিমোশন করা যাবে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের জাজমেন্টে “নরমাল সেকশন” বা “এইচএস সেকশন”-এর আলাদা করে কোনও উল্লেখ নেই।
তাই বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, যদি কোনও নরমাল সেকশনের শিক্ষক অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ান, তবে নিয়মানুযায়ী তার টেট থাকা দরকার। কিন্তু যদি টেট না থাকার কারণে তার চাকরি নিয়ে টানাটানি হয়, তবে তিনি দাবি করতে পারেন যে তিনি নবম ও দশমের পড়ানোর জন্য পুরোপুরি যোগ্য। এই দোলাচলের জায়গায় পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা দপ্তর ঠিক কী অবস্থান গ্রহণ করবে, তা এখনও পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
পরিশেষে, রাজ্যের শিক্ষা দপ্তর থেকে নরমাল সেকশনের জন্য নির্দিষ্ট গাইডলাইন না আসা পর্যন্ত কিছুটা ধোঁয়াশা থাকলেও, জাতীয় স্তরে এটা একদম জলের মতো পরিষ্কার যে মাধ্যমিক (নবম-দশম) শিক্ষকদের জন্য নতুন করে টেট দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। শিক্ষকতা সংক্রান্ত এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ খবরের সঠিক এবং দ্রুত আপডেটের জন্য নিয়মিত ভিজিট করুন wbpay.in -এ।









