DA Case Update: সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলার শুনানির জন্য ফের নতুন করে দিনক্ষণ ধার্য করা হলো। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আশায় বুক বাঁধছেন লাখো সরকারি কর্মী। শীর্ষ আদালতে এই মামলার শুনানির জন্য ইতিমধ্যেই একটি স্পেশাল বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে এবং আগামীকাল অর্থাৎ ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখের সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে মামলাটি শুনানির জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর আগে একবার শুনানির দিন ধার্য হলেও বেঞ্চ পরিবর্তনের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু এবার নতুন স্পেশাল বেঞ্চে এই বহু প্রতীক্ষিত মামলার শুনানি হতে চলেছে, যা রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
সূচিপত্র
কখন এবং কোন বেঞ্চে হবে শুনানি?
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের কোর্ট নম্বর ৮-এ দুপুর ২টোর সময় এই মামলার শুনানি হবে। স্পেশাল বেঞ্চে রয়েছেন মাননীয় বিচারপতি সঞ্জয় কারল এবং মাননীয় বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র। গতবার বিচারপতি সঞ্জয় কারল উপস্থিত না থাকায় এবং বেঞ্চের অন্য বিচারপতির কারণে শুনানি বাতিল হয়েছিল। তবে এবার সাপ্লিমেন্টারি লিস্টের ৩০৪ নম্বর আইটেম থেকে শুরু করে ৩০৪.৫ পর্যন্ত একাধিক পিটিশন তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। কোর্টের প্রারম্ভিক কিছু ছোটখাটো মামলার শুনানি হওয়ার পরেই ডিএ মামলার শুনানি শুরু হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
মামলায় যুক্ত কর্মচারী সংগঠনগুলি
এই গুরুত্বপূর্ণ মামলায় রাজ্য সরকারের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছে রাজ্যের একাধিক প্রথম সারির কর্মচারী সংগঠন। সুপ্রিম কোর্টের তালিকায় যে মামলাগুলি উঠেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- দ্য স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল বনাম কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ।
- সরকারি কর্মচারী পরিষদ বনাম নন্দিনী চক্রবর্তী।
- সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ বনাম দ্য স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল।
- ইউনিটি ফোরাম (কনভেনার দেবপ্রসাদ হালদারের পক্ষ থেকে)।
রাজ্য সরকারের স্ট্যাটাস রিপোর্ট এবং ডিএ প্রদান পরিকল্পনা
রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই তাদের স্ট্যাটাস রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছে। এর আগের রাজ্য সরকার ফান্ডের অভাবের কথা জানিয়ে সময় চেয়ে একটি এমএ (MA) ফাইল করেছিল। বর্তমান রিপোর্টে রাজ্য সরকার জানিয়েছে যে তারা ২০২৮ সাল পর্যন্ত মোট চারটি ধাপে বকেয়া ডিএ মেটানোর পরিকল্পনা করেছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে ২০ শতাংশ ডিএ যুক্ত হবে, যার ফলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মোট ডিএ হবে ৩৮ শতাংশ (১৮% + ২০%)। দীর্ঘ সময় ধরে এই ডিএ প্রদান প্রক্রিয়া চলার কারণে কর্মচারীদের তরফ থেকে বকেয়ার ওপর সুদ বা ইন্টারেস্ট দাবি করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) কর্মচারীদের সুখবর
রাজ্য সরকারের স্ট্যাটাস রিপোর্ট থেকে আরও একটি বড় খবর সামনে এসেছে। এবার গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদেরও ডিএ প্রদান করা হবে। যদিও এই প্রক্রিয়া এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি, তবে iOSMS পোর্টালে ডেটা আপলোড এবং সার্ভিস বুক সংক্রান্ত তথ্য আপডেট করার কাজ শুরু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার একটি মেসেজ ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে ঘুরছে, যা প্রমাণ করে যে রাজ্য সরকার এই বিষয়ে প্রশাসনিক কাজ শুরু করে দিয়েছে।
কর্মচারীদের দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টে রাজ্য সরকারের জমা দেওয়া স্ট্যাটাস রিপোর্টের ভিত্তিতেই মূল শুনানি হবে। রাজ্য সরকার কিভাবে এই ডিএ প্রদান প্রক্রিয়া কার্যকরী করবে এবং কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এর বিরুদ্ধে কী যুক্তি পেশ করা হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। ২০২৮ সাল পর্যন্ত বকেয়া মেটানোর এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কর্মচারী সংগঠনগুলি জোরালো সওয়াল করবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০১৯ সালের রোপা (ROPA) মামলার বিষয়টিও সামনে এসেছে, যেখানে নতুন কিছু কর্মচারী সংগঠন যুক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের এই শুনানির ওপর নির্ভর করছে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক পাওনাগন্ডার ভাগ্য।









