[New] 2016 থেকে 2019 পর্যন্ত বকেয়া ডিএ ক্যালকুলেটর

Calculate Now!
দেশ

Census 2027: জনগণনা ২০২৭, ১ এপ্রিল থেকে বাড়ি বাড়ি যাবে কর্মীরা, দিতে হবে ৩৩টি প্রশ্নের উত্তর! জানুন বিস্তারিত

Census 2027: ২০২৭ সালের জনগণনা বা আদমশুমারির জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি শুরু করে দিল কেন্দ্রীয় সরকার। ১৯৪৮ সালের সেন্সাস অ্যাক্ট বা আদমশুমারি আইন মেনে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সম্প্রতি এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশিকা অনুযায়ী, জনগণনার প্রথম পর্বের কাজ খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে। এবারের জনগণনায় নাগরিকদের ঠিক কী কী প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে এবং কীভাবে তথ্য সংগৃহীত হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহল তুঙ্গে।

আসুন জেনে নেওয়া যাক ২০২৭ সালের জনগণনার সময়সূচী, পদ্ধতি এবং সেই ৩৩টি প্রশ্নের তালিকা যা আপনার কাছে জানতে চাওয়া হবে।

জনগণনা বা সেন্সাস ২০২৭-এর সময়সূচী ও পদ্ধতি

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১লা এপ্রিল থেকে জনগণনার কাজ শুরু হবে এবং তা সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। সমগ্র প্রক্রিয়াটি দুটি প্রধান পর্যায়ে বিভক্ত:

  • প্রথম পর্যায়: এই ধাপে মূলত ‘হাউস লিস্টিং’ (House Listing) বা বাড়ি সংক্রান্ত তথ্য এবং ‘হাউজিং সেন্সাস’ বা গৃহস্থালির সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
  • দ্বিতীয় পর্যায়: এই ধাপে মূল জনসংখ্যা গণনা করা হবে।

তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি:
এবারের জনগণনায় প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারি আধিকারিক বা গণনাকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তবে নাগরিকদের সুবিধার্থে ‘সেলফ ইনোমারেশন’ (Self-Enumeration) বা নিজে থেকে তথ্য জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় নাগরিকরা অনলাইনে নিজেদের তথ্য আপডেট করার জন্য ১৫ দিন সময় পাবেন।

একনজরে ৩৩টি প্রশ্ন: কী কী জানতে চাইবেন আধিকারিকরা?

২০১১ সালের জনগণনায় যেখানে নাগরিকদের ২৯টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো, এবার তা বাড়িয়ে ৩৩টি করা হয়েছে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের জীবনযাত্রায় আসা পরিবর্তন, যেমন—ইন্টারনেট ব্যবহার বা খাদ্যাভ্যাসের ধরণ জানতেই এই নতুন প্রশ্নগুলি সংযোজন করা হয়েছে। প্রথম ধাপে বাড়ি ও পরিবারের অবস্থা বুঝতে নিম্নলিখিত বিষয়গুলির উপর প্রশ্ন করা হবে:

১. বাড়ি ও তার গঠন সংক্রান্ত তথ্য:

  • বিল্ডিং নম্বর এবং সেন্সাস হাউস নম্বর।
  • বাড়ির দেওয়াল, ছাদ এবং মেঝে কী দিয়ে তৈরি (কাঁচা, পাকা, টিন, অ্যাসবেস্টস বা অন্য কিছু)।
  • বাড়িটির বর্তমান অবস্থা কেমন এবং এটি কী কাজে ব্যবহৃত হয় (শুধুমাত্র বসবাস নাকি দোকানপাট)।
  • বাড়িটি নিজস্ব নাকি ভাড়ায় নেওয়া।
  • পরিবারে বসবাসযোগ্য ঘরের সংখ্যা কত।

২. পরিবারের সদস্যদের তথ্য:

  • পরিবার বা হাউজহোল্ড নম্বর।
  • পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা।
  • পরিবারের প্রধান বা কর্তার নাম ও লিঙ্গ।
  • পরিবারের কর্তা কোন বর্গের (SC, ST, OBC বা সাধারণ)।
  • পরিবারে বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা।

৩. গৃহস্থালির সুযোগ-সুবিধা (Amenities):

  • পানীয় জলের প্রধান উৎস কী (টিউবওয়েল, সাপ্লাই ওয়াটার ইত্যাদি) এবং তা কীভাবে সংগ্রহ করা হয়।
  • বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ আছে কি না।
  • শৌচাগার আছে কি না, থাকলে তা কী ধরনের।
  • নোংরা জল নিকাশিন ব্যবস্থা আছে কি না।
  • স্নানের জন্য পৃথক ঘর এবং রান্নাঘরে গ্যাস সংযোগ (LPG/PNG) আছে কি না।
  • রান্নার জন্য প্রধানত কোন জ্বালানি (কাঠ, কয়লা, গ্যাস) ব্যবহৃত হয়।

৪. ব্যক্তিগত সম্পদ ও প্রযুক্তি:
আধুনিক যুগে ডিজিটাল সংযুক্তি ও ব্যক্তিগত বাহন একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার সূচক। তাই এবার জানতে চাওয়া হবে:

  • বাড়িতে রেডিও, টেলিভিশন, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার আছে কি না।
  • মোবাইল ফোন বা স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সুবিধা আছে কি না।
  • যাতায়াতের জন্য সাইকেল, স্কুটার, বাইক বা চার চাকার গাড়ি (জিপ/কার) আছে কি না।

৫. খাদ্যাভ্যাস ও যোগাযোগ:

  • পরিবারের সদস্যরা প্রধান খাদ্যশস্য হিসেবে কী গ্রহণ করেন? (এটি একটি নতুন সংযোজন)।
  • যোগাযোগের জন্য একটি বৈধ মোবাইল নম্বর।

নাগরিকদের করণীয়

জনগণনা দেশের উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির জন্য অত্যন্ত জরুরি। সরকারের কাছে সঠিক তথ্য থাকলে তবেই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পগুলি সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তাই যখন আধিকারিকরা আপনার বাড়িতে আসবেন, বা আপনি যখন অনলাইনে তথ্য দেবেন, তখন সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদান করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব।

Munmun Bera

মুনমুন বেরা WBPAY.in-এর সম্পাদক ও প্রকাশক। ২০১৮ সাল থেকে তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারীদের জন্য তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। বেতন, মহার্ঘ ভাতা, জিপিএফ, পেনশন, আয়কর, সরকারি প্রকল্প এবং চাকরির নিয়মকানুন বিষয়ক সঠিক ও যাচাইযোগ্য তথ্য সহজ বাংলায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্ল্যাটফর্মের মূল লক্ষ্য। WBPAY.in-এর সম্পাদকীয় দলে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের WBIFMS-সহ বিভিন্ন… More »
Back to top button