রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর ও গেস্ট হাউসে কর্মরত কর্মবন্ধুদের মাসিক ভাতা ৫,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮,০০০ টাকা করার প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সম্প্রতি এক প্রকাশ্য সভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, যা চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই বিষয়ে অর্থ দপ্তর থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশিকা বা জিও জারি করা হয়নি।
বক্তব্য অনুযায়ী, কেবল কর্মবন্ধু ভাতাই নয়, একাধিক সামাজিক পুষ্টি ও খাদ্য বরাদ্দে পরিমার্জন আনা হচ্ছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল বরাদ্দ ৬.৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা এবং আইসিডিএস ক্ষেত্রে ৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের পুষ্টি সহায়তা ১২ টাকা থেকে ১৪ টাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের দৈনিক পথ্য বাবদ বরাদ্দ ৫৬.৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১০ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।
তফসিলি জাতি ও উপজাতি ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করা পড়ুয়াদের খাদ্য অনুদান মাসিক ১,৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩,৩০০ টাকা করা হয়েছে। এই বর্ধিত বরাদ্দ অক্টোবর মাস থেকে ধার্য হয়ে নভেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কলেজ স্তরে মেয়েদের পড়াশোনা এগিয়ে নিতে চালু হচ্ছে ‘ভগিনী নিবেদিতা স্কিম’, যেখানে স্নাতক স্তরের প্রথম বর্ষের অবিবাহিত ছাত্রীদের তিন বছরে মোট ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে।
সূচিপত্র
বিভিন্ন ভাতা ও খাদ্য বরাদ্দের প্রস্তাবিত পরিবর্তন
ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজ্য সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভাতায় যে বদল আসতে চলেছে, তার তুলনামূলক হিসাব নিচে দেওয়া হলো:
| ক্ষেত্র বা প্রকল্পের নাম | বর্তমান বরাদ্দ | প্রস্তাবিত নতুন বরাদ্দ | কার্যকরের সম্ভাব্য সময় |
|---|---|---|---|
| কর্মবন্ধু মাসিক ভাতা | ৫,০০০ টাকা | ৮,০০০ টাকা | অক্টোবর মাস |
| এসসি ও এসটি হোস্টেল ফুড গ্র্যান্ট | ১,৮০০ টাকা (মাসিক) | ৩,৩০০ টাকা (মাসিক) | নভেম্বর মাস |
| হাসপাতালের পথ্য বরাদ্দ | ৫৬.৪০ টাকা (দৈনিক) | ১১০.০০ টাকা (দৈনিক) | প্রক্রিয়াধীন |
| প্রাথমিক মিড-ডে মিল | ৬.৭৫ টাকা (দৈনিক) | ১০.০০ টাকা (দৈনিক) | প্রক্রিয়াধীন |
| আইসিডিএস বরাদ্দ | ৮.০০ টাকা (দৈনিক) | ১০.০০ টাকা (দৈনিক) | প্রক্রিয়াধীন |
| প্রসূতি সহায়তা অনুদান | ১২.০০ টাকা (দৈনিক) | ১৪.০০ টাকা (দৈনিক) | প্রক্রিয়াধীন |
নতুন শূন্যপদ ও নিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য
বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যজুড়ে প্রায় এক লক্ষ নিয়োগ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাবলিক সার্ভিস কমিশন এবং পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের মাধ্যমে স্বাস্থ্য পরিষেবা, জুডিশিয়াল সার্ভিস, কলকাতা পুলিশ, রাজ্য উইমেন পুলিশ রিজার্ভ ফোর্স ও বন দপ্তর সহ একাধিক বিভাগে মোট ১৪,৪৫৪টি নতুন পদ সৃষ্টির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী ৬ থেকে ৮ মাসের মধ্যে যাবতীয় বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
ইতিমধ্যে ১২,০০০ পুলিশ কনস্টেবল পদের প্রাথমিক বাছাই পর্ব আইনি জটিলতা কাটিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচিত প্রার্থীদের মেডিকেল টেস্ট এবং পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে চলছে। আগামী ১১ তারিখে প্রথম পর্যায়ের উত্তীর্ণ প্রার্থীদের হাতে নিয়োগপত্র ও ইউনিফর্ম তুলে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
কর্মীদের জন্য এর অর্থ কী
আপনি যদি রাজ্যের কোনো সার্কিট হাউস বা সরকারি অফিসে কর্মবন্ধু হিসেবে কাজ করেন, তবে এই ঘোষণা আপনার মাসিক আয়ে সরাসরি প্রভাব ফেলবে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী আপনার মাসিক ইনক্রিমেন্ট হবে ৩,০০০ টাকা। এর ফলে আপনার বার্ষিক আয় ৬০,০০০ টাকা থেকে বেড়ে এক ধাক্কায় ৯৬,০০০ টাকায় পৌঁছাবে, যা আপনার গৃহস্থালি খরচে বড় আর্থিক সুরাহা দেবে।
তবে মনে রাখা জরুরি, প্রশাসনিক ঘোষণা হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের চূড়ান্ত মেমো নম্বর ছাড়া ট্রেজারি বা আইএফএমএস পোর্টালে এই বর্ধিত বিল পাস হবে না। অর্থ দপ্তর থেকে রোপা বা সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আওতায় আনুষ্ঠানিক সরকারি নির্দেশিকা জারি হওয়ার পরেই ডিডিও স্তরে এই নতুন হার কার্যকর করা সম্ভব হবে। সেই নোটিফিকেশন প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের বর্তমান হারেই দায়িত্ব পালন করতে হবে।









