CTET Application 2026: ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর সামনে এসেছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে চলা সেন্ট্রাল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (CTET)-এর জন্য অনলাইনে আবেদনের পোর্টাল আবারও খুলে দেওয়া হয়েছে। যারা আগের ধাপে আবেদন করতে পারেননি বা করবেন কিনা সেই নিয়ে দ্বিধায় ছিলেন, তাদের জন্য এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। wbpay.in-এর বিশেষ প্রতিবেদনে আজ আমরা আলোচনা করব কেন এই আবেদনের সুযোগ আবার দেওয়া হলো এবং ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের বর্তমান পরিস্থিতিতে কী করণীয়।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টের রায় ও পূর্ববর্তী পরিস্থিতি
গত ২৯শে মে ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্ট ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের টেট (TET) সংক্রান্ত রিভিউ পিটিশনের রায়দান করে। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে ইন-সার্ভিস শিক্ষকদেরও চাকরি বাঁচাতে টেট উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, টেট পাশ করার সময়সীমা দুই বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে এবং রাজ্য সরকারগুলিকে বছরে অন্তত দু’বার টেট পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে, ১০ই জুন ২০২৬ তারিখে সিটেট-এর প্রথম দফার আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়েছিল। অনেকেই তখন আশা করেছিলেন যে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে হয়তো তাদের টেট দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। সেই ভুল ধারণার বশবর্তী হয়ে বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা তখন সিটেট-এর জন্য অনলাইনে আবেদন করেননি। কিন্তু বর্তমানে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলেছে, আর এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে অনেকেই অনুভব করছেন যে সিটেট পরীক্ষায় বসে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আবেদনের নতুন সময়সীমা ও পরীক্ষার তারিখ
শিক্ষকদের এই প্রবল চাহিদার কথা মাথায় রেখেই সিটেট (CTET)-এর অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া আজ ২৫শে আগস্ট ২০২৬ থেকে পুনরায় শুরু হয়েছে। এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সিটেট পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। তবে আবেদন প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু হওয়ায় প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে যে পরীক্ষার তারিখ হয়তো বেশ কিছুদিন পিছিয়ে যাবে। যারা এখনও আবেদন করেননি, তারা বিলম্ব না করে সিটেট-এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে খুব সহজেই নিজেদের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপট: ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের কী করণীয়?
পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত বছরে দু’বার টেট পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে কোনও বিজ্ঞপ্তি বা মৌখিক বিবৃতি জারি করা হয়নি। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দাঁড়িয়ে ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য সেন্ট্রাল টেট বা সিটেট (CTET) পরীক্ষা দিয়ে রাখাটা অনেকটাই নিরাপদ একটি বিকল্প। যদি কেউ মনে করেন যে তাদের টেট দিতে হবে না এবং কেন্দ্র সরকার থেকে স্পেশাল কোনও অর্ডিন্যান্স আসবে, তবে সেই আশায় হাত গুটিয়ে বসে থাকলে শেষ মুহূর্তে বড় বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। তাই অন্তত একবার প্র্যাকটিস করার জন্য হলেও এই সিটেট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করাটা বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত কাজ।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং আপনার মতামত
এই জটিল পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আপনাদের নিজেদের নিতে হবে। আবেদন করবেন কি করবেন না, তা আপনাকে ঠান্ডা মাথায় ভেবে স্থির করতে হবে। কারণ যদি কেউ বলে ‘টেট দিন’, তবে একদল মানুষ তার বিরোধিতা করবেন, আবার কেউ যদি বলে ‘অর্ডিন্যান্সের অপেক্ষা করুন’, তবে শেষমেশ টেট দিতে হলে তাদেরই ক্ষোভের মুখে পড়তে হবে। তবে যেহেতু আর কোনও ছাড় বা অর্ডিন্যান্স আসার স্পষ্ট ইঙ্গিত এখনও পর্যন্ত কোনও প্রান্ত থেকে পাওয়া যায়নি, তাই নিজের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়াই শ্রেয়।









