ডিএ

DA Arrears Verdict: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পঞ্চম কমিশনের বকেয়া মেটানোর সময়সীমা

7th Pay Commission Govt Employees Nabanna Money
7th Pay Commission Govt Employees Nabanna Money

DA Arrears Verdict: রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) বা ডিএ মামলা এখন এক নতুন এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে পঞ্চম বেতন কমিশনের বকেয়া ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে। এই আদেশের পর কর্মী মহলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে এবং একই সঙ্গে তৈরি হয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নানা জল্পনা। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারী সংগঠন ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ রাজ্য সরকারকে এক বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

সূচিপত্র

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও সময়সীমা

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ ডিএ মামলাটিকে কর্মীদের আইনি অধিকার হিসেবেই স্বীকৃতি দিয়েছে। আদালতের নির্দেশে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে, যা রাজ্যের অর্থনৈতিক এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে:

  • ২৫ শতাংশ বকেয়া পেমেন্ট: আগামী ৬ মার্চের মধ্যে পঞ্চম বেতন কমিশনের আওতায় থাকা বকেয়া ডিএ-এর ২৫ শতাংশ কর্মীদের মিটিয়ে দিতে হবে।
  • তদারকি কমিটি গঠন: বকেয়া মেটানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
  • ভবিষ্যৎ রূপরেখা: শুধুমাত্র ২৫ শতাংশ নয়, বাকি বকেয়া কীভাবে এবং কবে মেটানো হবে, তার জন্য সরকারকে একটি স্বচ্ছ রোডম্যাপ বা সময়সীমা তৈরি করতে বলা হয়েছে।
Advertisement

আইনি লড়াই বনাম কর্মীদের স্বার্থ

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারী। অতীতে দেখা গেছে, হাইকোর্ট বা স্যাট-এর রায়কে চ্যালেঞ্জ করে রাজ্য সরকার উচ্চতর আদালতে আবেদন করেছে। তবে এবার ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’-এর পক্ষ থেকে সরকারকে ভিন্ন পথে হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনের নেতৃত্বের মতে, রাজ্য সরকারের উচিত নয় এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে ফের রিভিউ পিটিশন দাখিল করা। তাদের যুক্তি, সরকার যদি পুনরায় আইনি লড়াইয়ের পথ বেছে নেয়, তবে তা কর্মীদের প্রতি চরম অবিচার বলে গণ্য হবে। তাছাড়া, বারবার আদালতের দ্বারে গিয়ে বকেয়া আটকানোর চেষ্টা করলে সরকারের ভাবমূর্তি জনসমক্ষে এবং প্রশাসনিক মহলে ক্ষুণ্ণ হতে পারে। তাই অবিলম্বে আদালতের নির্দেশ মেনে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

আন্দোলন ও সরকারের অবস্থান

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর আগে ডিএ প্রসঙ্গ উঠলে জানিয়েছিলেন যে বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন, তাই তিনি মন্তব্য করবেন না। তবে এখন যেহেতু সর্বোচ্চ আদালত একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে, তাই সরকারের নীরবতা ভাঙার অপেক্ষায় রয়েছেন কর্মীরা।

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্য সরকারি কর্মীরা কেন্দ্রীয় হারে ডিএ এবং বকেয়া পাওয়ার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতের এই রায়কে তারা তাদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছেন। আন্দোলনকারী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া না মেটানো হয় বা সরকার যদি ফের টালবাহানা শুরু করে, তবে আগামী দিনে আরও বড় এবং সংগঠিত আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৬ মার্চের মধ্যে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে কর্মীদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া টাকা পৌঁছে দেয় কি না।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>