DA Case Update: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আপডেট সামনে এসেছে। আগামী ৬ মে, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টে ডিএ মামলার যে চূড়ান্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, তার ঠিক আগেই শীর্ষ আদালতের ওয়েবসাইটে একটি অফিস রিপোর্ট (Office Report) প্রকাশিত হয়েছে। এই রিপোর্টটি সামনে আসার পরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের মধ্যে নতুন করে আশা এবং জল্পনা উভয়ই তৈরি হয়েছে।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টের অফিস রিপোর্টে কী বলা হয়েছে?
গত ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চ যে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছিল, তার ৬০ নম্বর পয়েন্টে রাজ্যকে বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রথম কিস্তি প্রদান এবং ১৫ এপ্রিলের মধ্যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত প্রাক্তন বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি তাদের প্রথম অন্তর্বর্তীকালীন রিপোর্ট (First Interim Report) গত ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে একটি মুখবন্ধ খামে জমা দিয়েছে। এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টটি ইতিমধ্যেই বিচারপতি সঞ্জয় কারোলের বাসভবনের অফিসে (Residence Office) পাঠানো হয়েছে।
রাজ্য সরকারের স্থগিতাদেশের আর্জি ও বর্তমান পরিস্থিতি
অফিস রিপোর্ট প্রকাশিত হলেও, রাজ্য সরকারের পক্ষে অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড (AOR) কুণাল মিমানি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রারের কাছে ইমেইল মারফত ৬ মে-র শুনানিতে স্থগিতাদেশ (Adjournment) চেয়ে একটি নোটিশ পাঠিয়েছেন। প্রশাসনিক স্তরে পরিবর্তন বা নতুন আইনি সেটআপ তৈরি হওয়ার কারণ দেখিয়ে এই সময়ের আবেদন করা হয়েছে। তবে যেহেতু মনিটরিং কমিটির রিপোর্ট ইতিমদ্ধ্যেই জমা পড়েছে, তাই শুনানি একেবারে বাতিল বা পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম বলেই ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে। যদিও শুনানির সময়কাল নিয়ে কিছুটা ধোঁয়াশা রয়েছে।
আদালত অবমাননার একাধিক মামলা (Contempt Petitions)
রাজ্য সরকার আদালতের নির্দেশিত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মচারীদের ডিএ-র প্রথম কিস্তির টাকা না মেটানোয় এবং সঠিক স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতিমধ্যে একাধিক আদালত অবমাননার (Contempt of Court) মামলা দায়ের হয়েছে। এই কন্টেম্পট মামলাগুলির শুনানির জন্য শীর্ষ আদালতে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়েছে। মামলাকারীদের মূল অভিযোগ হলো— রাজ্য সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে সুপ্রিম কোর্টের পূর্ববর্তী নির্দেশ অমান্য করছে।
মামলার বর্তমান অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলি:
- মনিটরিং কমিটির ভূমিকা: কমিটির রিপোর্ট ৩০ এপ্রিল তারিখে সুপ্রিম কোর্টে সফলভাবে জমা পড়েছে।
- অবমাননার অভিযোগ: আদালতের রায় অমান্য করায় ৬টি কন্টেম্পট পিটিশন এবং বেশ কিছু মিসলেনিয়াস অ্যাপ্লিকেশন তালিকাভুক্ত হয়েছে।
- রাজ্যের পদক্ষেপ: ১৬ এপ্রিল রাজ্যের পক্ষে একটি কমপ্লায়েন্স এফিডেভিট এবং মূল রায় সংশোধনের জন্য একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
- আইনজীবীদের উপস্থিতি: বর্ষীয়ান আইনজীবীদের উপস্থিতির ওপর ৬ মে-র শুনানির গতিপ্রকৃতি বহুলাংশে নির্ভর করছে।
কর্মচারীদের জন্য প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও করণীয়:
যেহেতু সুপ্রিম কোর্টে বর্তমানে ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া ডিএ প্রদান নিয়ে অত্যন্ত কড়া আইনি পর্যবেক্ষণ চলছে, তাই সরকারি কর্মচারী এবং পেনশনভোগীদের সোশ্যাল মিডিয়ার বিভ্রান্তিকর খবরে কান না দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের অফিশিয়াল অর্ডার কপির জন্য অপেক্ষা করা উচিত। আদালত অবমাননার মামলাগুলি রাজ্য সরকারের ওপর যথেষ্ট চাপ সৃষ্টি করেছে। আগামীকালের শুনানি সম্পন্ন হওয়ার পর আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত wbpay.in পোর্টালের মাধ্যমে আপনাদের কাছে নির্ভুলভাবে পৌঁছে দেওয়া হবে।