দেশ

DHRUVA Address System: পোস্ট অফিসের বড় ঘোষণা: ইউপিআই-এর মতোই এবার আসছে ‘ধ্রুব’ ডিজিটাল ঠিকানা, জানুন বিস্তারিত

DHRUVA Address System
Dhruva Address System

DHRUVA Address System: ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা হতে চলেছে। আমরা যেমন বর্তমানে কাউকে টাকা পাঠানোর জন্য দীর্ঘ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বা আইএফএসসি কোড মনে রাখি না, শুধুমাত্র একটি ইউপিআই (UPI) আইডির মাধ্যমেই কাজ সেরে ফেলি, ঠিক তেমনি এবার আপনার বাড়ির ঠিকানার ক্ষেত্রেও একই সুবিধা আসতে চলেছে। ডাক বিভাগ বা ইন্ডিয়া পোস্ট সম্প্রতি ‘পোস্ট অফিস অ্যাক্ট, ২০২৩’-এর একটি খসড়া সংশোধনী প্রকাশ করেছে, যেখানে ‘ধ্রুব’ (DHRUVA) নামক এক অত্যাধুনিক ডিজিটাল ঠিকানা ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এই নতুন ব্যবস্থায় লম্বা-চওড়া ঠিকানা মনে রাখা বা বারবার টাইপ করার ঝামেলা আর থাকবে না। ডিজিটাল ইন্ডিয়ার এই নতুন পদক্ষেপে দেশের প্রতিটি কোণ, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামগুলোও এবার জিপিএস-ভিত্তিক নির্ভুল ঠিকানায় চিহ্নিত হবে।

সূচিপত্র

ডিজিটাল ঠিকানা ‘ধ্রুব’ আসলে কী?

‘ধ্রুব’ বা Digital Hub for Reference and Unique Virtual Address (DHRUVA) হলো একটি ইন্টারঅপারেবল এবং ব্যবহারকারী-কেন্দ্রিক অ্যাড্রেসিং সিস্টেম। ডাক বিভাগের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এবার থেকে প্রথাগত লিখিত ঠিকানার বদলে একটি ‘ভার্চুয়াল লেবেল’ বা ডিজিটাল ট্যাগ ব্যবহার করা হবে। এটি দেখতে অনেকটা ইমেল আইডি বা ইউপিআই আইডির মতো হতে পারে, যেমন— “name@entity”

এই একটিমাত্র ছোট কোড বা আইডির মধ্যেই লুকিয়ে থাকবে আপনার সম্পূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থান। যখন কোনো ই-কমার্স সাইট বা ডেলিভারি বয়ের আপনার ঠিকানার প্রয়োজন হবে, আপনি শুধু এই আইডিটি শেয়ার করবেন। এর ফলে বারবার ফর্ম ফিলাপ করার বা ভুল ঠিকানা দেওয়ার সমস্যা সম্পূর্ণ দূর হবে।

Advertisement

প্রযুক্তির নেপথ্যে ‘ডিজিপিন’ (DIGIPIN)

‘ধ্রুব’ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো ‘ডিজিপিন’ (DIGIPIN) প্রযুক্তি, যা গত মার্চ মাসেই চালু করা হয়েছে। এটি মূলত ১০ অক্ষরের একটি আলফানিউমেরিক কোড, যা অক্ষাংশ এবং দ্রাঘিমাংশের (Latitude and Longitude) স্থানাঙ্ক ব্যবহার করে তৈরি।

  • নির্ভুল অবস্থান: প্রতিটি ডিজিপিন প্রায় ১৪ বর্গমিটার এলাকাকে নির্ভুলভাবে চিহ্নিত করতে পারে।
  • বিশাল পরিধি: এই গাণিতিক সূত্রের মাধ্যমে ভারতের ভূখণ্ডে প্রায় ২২৮ বিলিয়ন অনন্য কোড তৈরি করা সম্ভব।
  • গ্রামীণ সমাধান: যেখানে রাস্তার নাম বা বাড়ির নম্বর নেই, বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে, সেখানে এই প্রযুক্তি গেম-চেঞ্জার হতে পারে।

গোপনীয়তা এবং ব্যবহারকারীর সম্মতি

অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে পারে, এভাবে ডিজিটাল ঠিকানা শেয়ার করলে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা বিঘ্নিত হবে না তো? সরকারের খসড়া অনুযায়ী, এই পুরো ব্যবস্থাটি হবে ‘কনসেন্ট-বেসড’ বা সম্মতি-ভিত্তিক।

ব্যবহারকারীরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কোনো সংস্থাকে (যেমন অ্যামাজন বা ফ্লিপকার্ট) তাদের ঠিকানার অ্যাক্সেস দিতে পারবেন। সেই সময়সীমা শেষ হয়ে গেলে, ওই সংস্থাটিকে পুনরায় অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, আপনার অনুমতি ছাড়া কেউ আপনার সঠিক ভৌগোলিক অবস্থান জানতে পারবে না।

কীভাবে পরিচালিত হবে এই ব্যবস্থা?

সরকার এই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI)-এর ধাঁচে একটি বিশেষ সংস্থা তৈরির পরিকল্পনা করছে।

বিভাগবিবরণ
পরিচালনাকারী সংস্থাসেকশন ৮ কোম্পানি (অলাভজনক সংস্থা), যা সরকারের নজরদারিতে থাকবে।
অংশগ্রহণবেসরকারি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
মূল উদ্দেশ্যডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বা ডিপিআই-এর অংশ হিসেবে একে গড়ে তোলা।
সুবিধাভোগীসাধারণ নাগরিক, ই-কমার্স কোম্পানি এবং গিগ প্ল্যাটফর্ম।

এই খসড়া আইনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এই ব্যবস্থায় যোগ দেওয়ার জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। তবে ডাক বিভাগ আশা করছে, এই প্রযুক্তির সুবিধা এবং সরলতা সংস্থাগুলোকে এটি গ্রহণ করতে উৎসাহিত করবে।

পরিশেষে বলা যায়, ‘ধ্রুব’ যদি সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে ভারতে লজিস্টিকস এবং ডেলিভারি পরিষেবায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। ঠিকানা খোঁজার হয়রানি কমবে এবং ডিজিটাল ভারতের স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>