Arrear DA Payment: রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) মেটানোর প্রক্রিয়া আরও সহজ ও নির্ভুল করতে WBiFMS HRMS পোর্টালে যুক্ত হয়েছে একটি নতুন মডিউল “Pay Details Entry for Arrear DA”। এই মডিউলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার (DDO) বা HRMS অ্যাপ্রুভাররা অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের চাকরি জীবনের বেসিক পে-র সম্পূর্ণ ইতিহাস সরাসরি সিস্টেমে আপলোড করতে পারবেন, যার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বকেয়া ডিএ-র হিসেব তৈরি হবে। চলুন ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি।
সূচিপত্র
কেন এই নতুন মডিউল প্রয়োজন হলো?
HRMS ব্যবস্থা চালু হয়েছিল ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বকেয়া ডিএ-র হিসেব করতে হচ্ছে এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়কালের জন্য। ফলে ২০১৬-র আগের বেতন-কাঠামোর তথ্য সিস্টেমে না থাকায়, বিশেষত যাঁরা ইতিমধ্যে অবসর নিয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে, DDO-কে ম্যানুয়ালি সেই পুরনো তথ্য এন্ট্রি করতে হচ্ছে। এই প্রয়োজন মেটাতেই HRMS-এ যুক্ত হয়েছে এই বিশেষ মডিউল।
পুরনো ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য বিরাট স্বস্তি
যে সমস্ত কর্মচারী ইতিমধ্যেই অবসর গ্রহণ করেছেন এবং যাদের HRMS আইডি সিস্টেমের মধ্যে মজুত রয়েছে (অর্থাৎ যারা ২০১৬ সালের পরে অবসর নিয়েছেন বা ২০১৬ সাল থেকে অ্যাক্টিভ সার্ভিসে আছেন), তাদের ডেটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। তবে মূল সমস্যা ছিল ২০১৬ সালের আগে, অর্থাৎ HRMS সম্পূর্ণভাবে চালু হওয়ার আগে যাদের বেসিক পে বা অন্যান্য সার্ভিস সংক্রান্ত তথ্য সিস্টেমে আপডেট করা ছিল না, তাদের নিয়ে। নতুন এই ফিচারে তাদের জন্যই দারুণ সুবিধা আনা হয়েছে।
যেকোনো কর্মচারীর নামের ওপর ক্লিক করলে তার সার্ভিসের বিস্তারিত তথ্য পেজটি খুলে যাবে। সেখান থেকে অফিস দ্বারা পূর্বে স্ক্যান করা সার্ভিস বুকের কপি (Scanned Copy of Service Book) সহজেই ডাউনলোড করা যাবে। এর ঠিক নিচেই একটি নতুন সেকশন যোগ করা হয়েছে, যার নাম ‘Basic Pay Entry’। এখানে পুরনো কর্মচারীদের বেসিক পে (Pre-HRMS Basic Pay) ম্যানুয়ালি এন্ট্রি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
ই-সার্ভিস বুকের ঝামেলা থেকে মুক্তি
এই যুগান্তকারী আপডেটের ফলে বকেয়া ডিএ পেমেন্টের জন্য পুরনো বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের আর নতুন করে সম্পূর্ণ ই-সার্ভিস বুক (e-Service Book) তৈরি করার কোনো প্রয়োজন হবে না। ডিডিওরা পুরনো স্ক্যান করা সার্ভিস বুক থেকে প্রয়োজনীয় ডেটা দেখে সরাসরি ম্যানুয়ালি এন্ট্রি করে পেমেন্টের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন। ই-সার্ভিস বুক তৈরি করা একটি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ এবং শ্রমসাধ্য কাজ ছিল। এই নতুন ফিচারের ফলে সেই বাধা দূর হলো এবং ডিএ এরিয়ার পেমেন্ট প্রক্রিয়া অনেক বেশি মসৃণ হলো।
বিশেষ করে যারা প্রবীণ নাগরিক এবং পেনশনার, তারা দীর্ঘকাল ধরে এই বকেয়া অর্থের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় পুরনো নথিপত্র আপলোড করার সমস্যা দূর হওয়ায় এখন তারা অনেক দ্রুত তাদের পাওনা অর্থ হাতে পাবেন। এটি রাজ্য সরকারের একটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ।
কাদের জন্য প্রযোজ্য এই প্রক্রিয়া?
- যাঁরা ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে অবসর নিয়েছেন, তাঁদের অবসর-পূর্ব বকেয়া ডিএ-র হিসেব তাঁর শেষ কর্মস্থলের DDO-কে এই HRMS মডিউলের মাধ্যমেই করতে হবে।
- অবসর-পরবর্তী মহার্ঘ ত্রাণ (Dearness Relief) সংশ্লিষ্ট পেনশন ডিসবার্সিং অথরিটি বা ট্রেজারি থেকে আলাদাভাবে মেটানো হবে।
- প্রমোশন, CAS (Career Advancement Scheme) বা সাসপেনশন-জনিত বেতন পরিবর্তনও এই হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।
- উল্লেখ্য, শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রে একই ধরনের হিসেব হবে OSMS পোর্টালের একটি পৃথক মডিউলের মাধ্যমে, যা এখনও ট্রায়াল পর্যায়ে রয়েছে।
ধাপে ধাপে HRMS পোর্টালে পে ডিটেলস এন্ট্রি করার পদ্ধতি
- লগইন করুন: wbifms.gov.in পোর্টালে HRMS মডিউলে Approver হিসেবে লগইন করুন।
- মেনু নির্বাচন: বাঁদিকের মেনু থেকে “Arrear/Supplementary” সেকশনে গিয়ে “Pay details entry for Arrear D(A)” অপশনে ক্লিক করুন।
- কর্মী তালিকা: খুলে যাবে “Employee Details” তালিকা, যেখানে HRMS ID, নাম, GPF নম্বর, পদবি, অবসরের তারিখ ও স্ট্যাটাস (Not Initiated ইত্যাদি) দেখা যাবে।
- কর্মী নির্বাচন: যাঁর তথ্য এন্ট্রি করতে হবে তাঁর রো-তে ক্লিক করলে খুলবে বিস্তারিত এমপ্লয়ি প্রোফাইল সহ একটি খালি “Basic Pay Entry” টেবিল।
- নতুন এন্ট্রি: “Add Row” বাটনে ক্লিক করলে একটি ফর্ম খুলবে, যেখানে পূরণ করতে হবে Reason for change in Basic, Notional Date, Actual Date, Service, Group, ROPA, Pay Band, Band Pay, Grade Pay, এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে NPA, AGP, MSP, Personal Pay ও Special Pay।
- একাধিক রো: কর্মজীবনের প্রতিটি বেতন পরিবর্তনের (ইনক্রিমেন্ট, প্রমোশন, ROPA সংশোধন ইত্যাদি) জন্য আলাদা আলাদা রো যোগ করে সম্পূর্ণ বেতন কাঠামো তুলে ধরতে হবে।
- সেভ করুন: তথ্য নির্ভুল কিনা যাচাই করে “Save & Continue” বা “Save” অপশনে ক্লিক করুন।
- রিপোর্ট তৈরি: সব এন্ট্রি সম্পূর্ণ হলে মূল পেজ থেকে “Generate Report” বাটনে ক্লিক করে চূড়ান্ত রিপোর্ট তৈরি করুন এবং প্রয়োজনে “Scanned Copy of Service Book” যাচাই করে নিন।
প্রমোশন বা CAS থাকলে বিশেষ নির্দেশ
পোর্টালেই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে যে, কোনো কর্মীর যদি ফাংশনাল বা নন-ফাংশনাল প্রমোশন হয়ে থাকে, তাহলে প্রতিটি ধাপ আলাদা করে না দিয়ে শুধুমাত্র চূড়ান্ত সংশোধিত বেতনের অঙ্কটি এন্ট্রি করলেই যথেষ্ট। এতে ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে এবং এন্ট্রির কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়।
বকেয়া ডিএ মামলার সাম্প্রতিক অবস্থা
গত ৬ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টে বকেয়া ডিএ মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ শুনানি হয়েছে, যেখানে ইন্দু মালহোত্রা মনিটরিং কমিটির রিপোর্ট আদালতে জমা পড়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে, দু’দিনের মধ্যে সেই রিপোর্ট কর্মচারী সংগঠনগুলোকে পাঠাতে হবে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য হয়েছে ১৮ আগস্ট। গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও বহু পেনশনারের ক্ষেত্রে এখনও হিসেবে গরমিলের অভিযোগ রয়েছে বলে সংগঠনগুলো জানিয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ ডিএ হারও সম্প্রতি বেড়ে ৩৮ শতাংশ হয়েছে বলে সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়েছে, তবে সেটি এই অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া (২০০৮-১৯) হিসেবের থেকে সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়।
তবে অপেক্ষা করতে হবে সরকারি নির্দেশিকা বা SOP-এর জন্য
এই সিস্টেমটি বর্তমানে ডেভেলপমেন্ট বা পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। অর্থদপ্তর থেকে এই সংক্রান্ত কোনো বিস্তারিত নির্দেশিকা (Order) বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিওর (SOP) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হওয়ার পরেই ডিডিওদের পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত।
আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই এই সংক্রান্ত গাইডলাইন প্রকাশ করা হবে এবং কর্মচারী ও পেনশনারদের বকেয়া ডিএ তাদের জিপিএফ (GPF) বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা করার কাজ পুরোদমে শুরু হবে। এই ইতিবাচক পদক্ষেপটি নিশ্চিতভাবে অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীর দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাবে।









