West Bengal Tenders: সরকারি দপ্তরে বিভিন্ন কাজের জন্য নিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক সংস্থাগুলির মেয়াদ আর যথেচ্ছভাবে বাড়ানো যাবে না। সরকারি কাজে আর্থিক শৃঙ্খলা এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করেছেন (মেমো নম্বর: 2535-F(Y))। এতদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল যে, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর এবং তাদের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণাধীন কার্যালয়গুলি বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা বৃদ্ধির জন্য বারবার অর্থ দপ্তরের অনুমোদন চাইছিল। এমনকী, অনেক ক্ষেত্রে অর্থ দপ্তরের সঙ্গে কোনো রকম পূর্ব আলোচনা ছাড়াই চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল। রাজ্য সরকারের মতে, এই ধরনের কাজ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র বা টেন্ডার প্রক্রিয়ার অখণ্ডতার পরিপন্থী এবং এটি প্রতিষ্ঠিত আর্থিক শৃঙ্খলার চরম লঙ্ঘন।
সূচিপত্র
কেন এই নতুন নির্দেশিকা এবং এর গুরুত্ব?
সরকারি কোষাগারের অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং কাজের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব দূর করতে প্রতিযোগিতামূলক বিডিং (Competitive Bidding) অত্যন্ত জরুরি। বারবার পুরোনো চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করলে নতুন এবং যোগ্য সংস্থাগুলি কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এই অস্বচ্ছতা দূর করতেই রাজ্যপাল এবং অর্থ দপ্তরের নির্দেশে এই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এর ফলে সরকারি কাজে আরও বেশি সংখ্যক নতুন সংস্থা অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে, যা আদতে কাজের মান উন্নত করতে সাহায্য করবে।
নির্দেশিকার প্রধান বিষয়গুলি
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ত্রুটিমুক্ত করতে নতুন নির্দেশিকায় বেশ কিছু কড়া নিয়মের কথা বলা হয়েছে:
- তিন মাস আগে নতুন টেন্ডার: বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩ (তিন) মাস আগে নতুন সংস্থা নিয়োগের জন্য ‘ফ্রেশ টেন্ডার’ ডাকার প্রক্রিয়া আবশ্যিকভাবে শুরু করতে হবে।
- মাসিক পর্যালোচনা: দপ্তরের প্রধানদের (Head of the Departments) প্রতি মাসে সমস্ত বিদ্যমান চুক্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করতে হবে। সেই চুক্তির তালিকা নিয়ম করে অর্থ দপ্তরের সঙ্গে শেয়ার করতে হবে।
- মেয়াদ বৃদ্ধি বাতিল: কোনো অবস্থাতেই বিদ্যমান চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা পুনর্নবীকরণের প্রস্তাব আর গ্রহণ করা হবে না। সময়ের অভাবে বা গাফিলতির কারণে সঠিক সময়ে টেন্ডার করতে না পারার কোনো অজুহাত সরকার মেনে নেবে না।
- কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা: চুক্তির কোনো অননুমোদিত মেয়াদ বৃদ্ধি বা নতুন টেন্ডার ডাকতে দেরি হলে, তা আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য: এই নির্দেশিকা শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের দপ্তরের জন্যই নয়, বরং রাজ্যের সমস্ত স্থানীয় সংস্থা (Local Bodies), রাজ্যের পাবলিক সেক্টর আন্ডারটেকিং (PSUs), বিধিবদ্ধ সংস্থা (Statutory Bodies) এবং অন্যান্য আধা-সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রেও সমভাবে প্রযোজ্য হবে।
- ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা: এই নির্দেশিকাগুলি কঠোরভাবে পালন করার জন্য নিজ নিজ এক্তিয়ারের মধ্যে দপ্তরের প্রধান বা অধীনস্থ অফিসের প্রধানরা ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
প্রশাসনিক স্তরে প্রভাব ও আগামী পদক্ষেপ
সরকারের এই নির্দেশিকা জনস্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। এর ফলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরগুলিকে এখন থেকে অনেক বেশি সতর্ক ও সময়নিষ্ঠ হতে হবে। নির্ধারিত সময়ের ৩ মাস আগে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু না করলে তার দায়ভার সরাসরি দপ্তরের প্রধানের ওপর পড়ায়, প্রশাসনিক স্তরে কাজের গতি এবং জবাবদিহিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। দুর্নীতি দমন এবং সরকারি কাজের বিকেন্দ্রীকরণে এই পদক্ষেপ একটি বড় মাইলফলক।









