Fitment Factor Pay Hike: নতুন বেতন কমিশন চালু হওয়া মানেই সরকারি কর্মচারীদের মূল বেসিক পে-তে এক বিরাট পরিবর্তন। কিন্তু কতখানি বাড়বে এই মূল বেতন? তা নির্ধারিত হয় ‘ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর’ (Fitment Factor)-এর মাধ্যমে। সংক্ষেপে বললে, এটি একটি গাণিতিক অনুপাত। পুরনো বেসিক পে-কে এই অনুপাত দিয়ে গুণ করেই তৈরি হয় নতুন মূল বেতন। তবে মনে রাখা দরকার মূল বেতন যতটা লাফিয়ে বাড়ে, কর্মচারীদের মাসকাবারি ইন-হ্যান্ড বেতন কিন্তু ঠিক সেই একই অনুপাতে বাড়ে না।
একদিকে কেন্দ্রীয় সরকার যখন ৮ম পে কমিশন নিয়ে তোড়জোড় শুরু করেছে, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা এখনও ৬ষ্ঠ বেতন কমিশনের (ROPA 2019) অনুয়ায়ী বেতন পাচ্ছেন। সেক্ষেত্রে নতুন বেতন কমিশনের সুপারিশে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কীভাবে কাজ করবে? আর মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) শূন্যে নেমে গেলেই বা নিট টেক-হোম বেতনের হিসেবটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? পুরো অঙ্কটা পরিষ্কার বুঝে নেওয়া প্রয়োজন।
সূচিপত্র
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর আসলে কী এবং এটি কীভাবে বেসিক পে বাড়ায়?
দেশের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার খরচের সূচক পর্যালোচনা করে বেতন কমিশন এই নির্দিষ্ট অনুপাত বা গুণের হার নির্ধারণ করে।
অতীতের বেতন কমিশনগুলির দিকে তাকালে হিসেবটা স্পষ্ট হবে:
- ৫ম থেকে ৬ষ্ঠ পে কমিশন: ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর রাখা হয়েছিল প্রায় ১.৮৬।
- ৬ষ্ঠ থেকে ৭ম পে কমিশন: এই অনুপাত বাড়িয়ে করা হয় ২.৫৭।
উদাহরণ দিয়ে দেখা যাক। ৭ম পে কমিশনে যদি ৬ষ্ঠ স্কেলের অধীনে কারও বেসিক পে ৭,০০০ টাকা থাকত, তবে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগের পর তার নতুন মূল বেতন গিয়ে দাঁড়িয়েছিল ১৮,০০০ টাকায় (৭,০০০ x ২.৫৭ = ১৮,০০০ টাকা)।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের তারতম্যে মূল বেতন কতটা বাড়তে পারে?
রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু হলে সম্ভাব্য ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী বেসিক পে-র বৃদ্ধি হতে পারে এই ধরণের:
- ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ হলে: বেসিক পে বাড়বে প্রায় ১৫৭%। অর্থাৎ ১০,০০০ টাকা বেসিক থাকলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ২৫,৭০০ টাকায়।
- ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৮৬ হলে: বেসিক পে বাড়বে প্রায় ১৮৬%। সেক্ষেত্রে ১০,০০০ টাকার বেসিক পৌঁছে যাবে ২৮,৬০০ টাকায়।
- ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৬৮ হলে: বেসিক পে বাড়তে পারে প্রায় ২৬৮% পর্যন্ত। অর্থাৎ ১০,০০০ টাকার মূল বেতন সরাসরি হবে ৩৬,৮০০ টাকা।
বেসিক পে বাড়লেও ইন-হ্যান্ড বেতন কেন ১৫৭% বাড়ে না?
অনেক কর্মচারীর মনেই স্বাভাবিক প্রশ্ন জাগে, বেসিক পে ১৫৭% বাড়লে মাসশেষে পকেটে আসা নিট ইন-হ্যান্ড বেতন কেন সমহারে বাড়ে না? এর কারণ পে কমিশনের বেতন নির্ধারণ পদ্ধতি।
নতুন বেতন কমিশন কার্যকর হওয়া মাত্রই জমে থাকা বকেয়া সমস্ত ডিএ (DA) শূন্য (0%) থেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। পুরনো বেসিকের সঙ্গে থাকা ডিএ-র বড় অংশটিকে নতুন পে স্কেলের মূল বেতনের ভেতরেই যুক্ত করে নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে এই নতুন মূল বেতনের ওপর বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) ও অন্যান্য ভাতা হিসেব করা হয় ঠিকই, তবে সব মিলিয়ে নিট টেক-হোম বেতন বৃদ্ধি পায় সাধারণত ২০% থেকে ৩৫%-এর মধ্যে।
বেতন পুনর্গঠনের গাণিতিক তুলনা
ধরা যাক, ২০,০০০ টাকা বর্তমান বেসিক পে থাকা একজন সরকারি কর্মচারীর ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ধরে বেতন পুনর্গঠন হচ্ছে। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য হিসেবটি নিচে দেখানো হলো:
| বেতনের উপাদান | পুরনো স্কেলের হিসাব | নতুন পে কমিশনের সম্ভাব্য হিসাব |
|---|---|---|
| Basic Pay (মূল বেতন) | ২০,০০০ টাকা | ৫১,৪০০ টাকা |
| Dearness Allowance (DA) | ১০,০০০ টাকা (৫০% ধরে) | ০ টাকা (০% থেকে শুরু) |
| HRA & Medical Allowance | ৩,০০০ টাকা | ৩,৬১২ টাকা (নতুন স্কেল অনুযায়ী) |
| Gross Salary (মোট বেতন) | ৩৩,০০০ টাকা | ৫৫,০১২ টাকা |
এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট, গ্রস বেতন ৩৩,০০০ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৫৫,০১২ টাকায়। ফলে নিট বেতনে একধাক্কায় ভালো অঙ্কের আর্থিক স্বস্তি আসবে।
কর্মচারীদের ও পে-রোল প্রক্রিয়ায় কী পড়বে?
নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগের ফলে প্রশাসনিক কাজকর্ম থেকে শুরু করে কর্মচারীদের প্রাপ্তিতে বেশ কিছু সরাসরি পরিবর্তন আসে:
- টেক-হোম পে-র পরিবর্তন: ডিএ শূন্য থেকে শুরু হলেও নতুন স্কেলে বেসিক পে অনেক বেশি হওয়ায় প্রতি মাসের ইন-হ্যান্ড মাইনে অনেকতাই বাড়বে।
- পেনশন ও গ্র্যাচুইটির সুবিধা: অবসরপ্রাপ্ত কিংবা অবসরমুখী কর্মচারীদের ক্ষেত্রে উচ্চ মূল বেতন সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং লিভ এনক্যাশমেন্টের অঙ্কে বড় আর্থিক সুবিধা মেলে।
- HRMS ও পে-রোল আপডেট: ডিডিও (DDO) মডিউল এবং এইচআরএমএস (HRMS) পোর্টালে প্রতিটি কর্মচারীর পে-ফিক্সেশন (Pay Fixation) নতুন করে ম্যানুয়ালি অথবা স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমে আপডেট করতে হয়।
মোটকথা, বর্তমান পদমর্যাদা এবং বেসিক পে-র ওপর ভিত্তি করে কর্মচারীরা নিজেরাই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য বেতন কাঠামোর একটি খসড়া হিসেব করে নিতে পারেন।









