পশ্চিমবঙ্গ

Krishak Bandhu Payment: সেপ্টেম্বরে আসতে পারে কৃষক বন্ধুর টাকা, ভেরিফিকেশন চলছে কৃষি দপ্তরে

Krishak Bandhu Payment Update
Krishak Bandhu Payment Update

Krishak Bandhu Payment: রাজ্যজুড়ে খরিফ মরসুমের কৃষকবন্ধুর টাকা পাওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে চাষিদের। সাধারণত প্রতি বছর জুন মাসের মধ্যেই এই কিস্তির অনুদান পেয়ে যান কৃষকরা। তবে চলতি অগাস্টের শেষ লগ্নে দাঁড়িয়েও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে খাতা খোলেনি সেই টাকা। কেন এই দেরি? সূত্রের খবর, ভুয়ো নাম ছাঁটতে বর্তমানে সুবিধাভোগীদের তালিকা জোরকদমে ঝাড়াই-বাছাই করা হচ্ছে।

সূচিপত্র

ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি ও টাকা পেতে দেরির কারণ

আগের তালিকা পর্যালোচনা করতে গিয়ে একাধিক গড়মিল চোখে পড়েছে প্রশাসনের। দেখা গেছে, যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও বহু আবেদনকারী নিয়মিত সরকারি টাকা পাচ্ছিলেন। নথিপত্রেও ছিল নানা ফাঁকফোকর। অযোগ্যদের বাদ দিয়ে প্রকৃত কৃষকদের হাতে সরাসরি সরকারি সাহায্য পৌঁছে দিতেই এখন কোমর বেঁধে নেমেছে দপ্তর। ব্লকে ব্লকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর অব এগ্রিকালচার (ADA) অফিসে চলছে কড়া নজরদারিতে তথ্য যাচাইয়ের কাজ।

সহজে টাকা ছাড়তে নারাজ প্রশাসনিক শীর্ষ মহল। ক্ষেত্রভিত্তিক অর্থাৎ ফিল্ড ভেরিফিকেশন পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি অনুদানের অর্থ পাঠানো সম্ভব নয় বলেই জানানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন, যাচাই পর্ব মিটে গেলেই যোগ্য চাষিদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যাবে বকেয়া টাকা।

Advertisement

স্বামী-স্ত্রী উভয় কি কৃষকবন্ধুর সুবিধা পাবেন?

এতদিন পর্যন্ত একই পরিবারে স্বামী ও স্ত্রী দুজনের নামে আলাদা জমি থাকলে উভয়ই পৃথকভাবে কৃষকবন্ধুর সুবিধা পেতেন। তবে এবার সেই নীতিতে বড়সড় বদল আসতে পারে।

  • এক পরিবার থেকে সম্ভবত যেকোনো একজন যোগ্য সদস্যকেই এই প্রকল্পের আওতায় রাখা হবে।
  • নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভেরিফিকেশন তালিকায় নাম থাকলে স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে বলা হচ্ছে।
  • চূড়ান্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত ব্লক অফিসে নথিপত্র জমা নেওয়ার প্রক্রিয়া অবশ্য চালু রাখা হয়েছে।

পিএম কিষাণ প্রাপকদের জন্য নতুন নিয়মাবলী

একদিকে কেন্দ্র, অন্যদিকে রাজ্য দুই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া নিয়েও নতুন করে ভাবছে প্রশাসন। কেন্দ্র সরকারের পিএম কিষাণ (PM Kisan) সম্মান নিধি থেকে যারা বছরে ৬,০০০ টাকা পান, তাদের ক্ষেত্রে কৃষকবন্ধুর সাহায্য মিলবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে।

  • নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে কেন্দ্র সরকারের ৬,০০০ টাকার সঙ্গে বাড়তি ৩,০০০ টাকা যোগ করে মোট ৯,০০০ টাকা দিতে চলেছে রাজ্য সরকার।
  • এদিকে প্রশাসনিক খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পিএম কিষাণ প্রাপকদের কৃষকবন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার একটি পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
  • পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, পিএম কিষাণের সুবিধা পান এমন প্রায় ৯৫ শতাংশ কৃষকের নামই প্রাথমিক ভেরিফিকেশন তালিকায় জায়গা পায়নি।

কত টাকা অনুদান পাবেন কৃষকরা?

জমি অনুযায়ী কৃষকরা ঠিক কত টাকা আর্থিক সহায়তা পাবেন, তার একটি স্পষ্ট হিসেব দেখে নেওয়া যাক:

জমির পরিমাণসম্ভাব্য বার্ষিক আর্থিক সহায়তাবর্তমান প্রশাসনিক অবস্থা
সর্বনিম্ন (১ শতক বা তার বেশি)৪,০০০ টাকা (২,০০০ + ২,০০০ টাকা)মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক নিশ্চিত করা হয়েছে
সর্বোচ্চ (১ একর বা তার বেশি)৬,০০০ টাকা থেকে ১০,০০০ টাকাচূড়ান্ত নির্দেশিকা অপেক্ষমাণ

পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমার সময়সূচী

পোর্টাল খুলছেন কিন্তু বিস্তারিত স্ট্যাটাস দেখতে পাচ্ছেন না? ঘাবড়ানোর কিছু নেই। কৃষকবন্ধুর অফিসিয়াল পোর্টালে কিছু কারিগরি বদল চলায় এখন কেবল আইডি, নাম, গ্রাম ও ব্লকের তথ্য ফুটে উঠছে। আগে যেমন ADA Uploaded বা DDA Approved লেখা দেখাত, ভেরিফিকেশন শেষ হলেই ফের সেই আপডেট দেখতে পাবেন কৃষকরা।

অন্যদিক, সম্প্রতি টানা ভারী বৃষ্টিতে ধানের ফলনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই দেরি না করে দ্রুত যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশ গেছে আধিকারিকদের কাছে। সব ঠিকঠাক থাকলে সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে অথবা অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে সরাসরি সিবিএস (CBS) মারফতে যোগ্য কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করবে টাকা।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>