পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী বছর থেকে দুর্গাপুজোর সময় স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা আর একসঙ্গে একটানা ছুটি পাবেন না। তার বদলে রোস্টার তৈরি করে পালা করে ছুটি দেওয়া হবে। এ নিয়ে এখনও কোনো সরকারি আদেশ বা মেমো জারি হয়নি, তাই মন্ত্রীর ঘোষণার বাইরে নিয়মের খুঁটিনাটি জানা যায়নি।
সূচিপত্র
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী জানিয়েছেন
- পুজোর সময় স্বাস্থ্যভবনের সব আধিকারিক ও কর্মী একসঙ্গে লম্বা ছুটিতে যেতে পারবেন না।
- দপ্তরের কাজ সচল রাখতে রোস্টার হবে। কর্মী ও আধিকারিকরা পর্যায়ক্রমে, একদিন অন্তর, অফিসে আসবেন ও ছুটি নেবেন।
- পুজোর দিনগুলিতে কর্মী কিছুটা কম থাকলেও স্বাস্থ্যভবন যাতে পুরোপুরি কর্মীশূন্য না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে।
- স্বাস্থ্য ও দমকলের মতো জরুরি পরিষেবার দপ্তরে পুজোর মূল কয়েকটি দিন বাদে বাড়তি ছুটি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত
মন্ত্রী দুটি ঘটনার কথা বলেছেন। প্রথমত, পুরুলিয়ার দেবেন মাহাতো হাসপাতালের অপরিচ্ছন্নতা নিয়ে সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো তাঁর কাছে অভিযোগ করেন। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, পরিচ্ছন্নতার দায়িত্বে থাকা নন-মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্টরা অনুমতি না নিয়েই ছুটিতে চলে গিয়েছিলেন।
দ্বিতীয়ত, পুজোর ছুটিতে স্বাস্থ্যভবনও প্রায় ফাঁকা হয়ে গিয়েছিল। মন্ত্রী ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি উপস্থিত থাকলেও স্পেশাল সেক্রেটারির ঘর-সহ একাধিক আধিকারিক ও কর্মীর ঘর খালি ছিল। শুধু মন্ত্রী ও প্রিন্সিপাল সেক্রেটারিকে দিয়ে গোটা দপ্তর চালানো যায় না বলে তিনি জানিয়েছেন।
তিনি মহারাষ্ট্রের গণেশ চতুর্থীর সঙ্গেও তুলনা টেনেছেন। তাঁর বক্তব্য, সেখানে উৎসবে ছুটি অনেক কম নেওয়া হয়, অথচ পশ্চিমবঙ্গে এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের লম্বা ছুটির প্রবণতা আছে। জরুরি পরিষেবায় এই প্রবণতা ধীরে ধীরে কমানো দরকার।
এখন কী, আগামী বছর কী
| বিষয় | এখন (মন্ত্রীর বর্ণনায়) | আগামী বছর থেকে (ঘোষণা) |
|---|---|---|
| ছুটির ধরন | একসঙ্গে প্রায় 12 দিনের ছুটি | পুজোর মূল কয়েকটি দিন বাদে একটানা ছুটি নয় |
| উপস্থিতি | নির্দিষ্ট রোস্টার নেই, অনুমতি ছাড়া ছুটির ঘটনা | রোস্টার মেনে একদিন অন্তর উপস্থিতি |
| স্বাস্থ্যভবন | মন্ত্রী থাকলেও বহু আধিকারিক ও কর্মী ছুটিতে | কর্মী কম থাকলেও দপ্তর কর্মীশূন্য হবে না |
কর্মীদের জন্য এর অর্থ কী
স্বাস্থ্য দপ্তর ও স্বাস্থ্যভবনের কর্মী-আধিকারিকদের ক্ষেত্রে আগামী বছর থেকে পুজোর ছুটি পালা করে নেওয়ার সম্ভাবনা। তবে কোন কর্মীরা রোস্টারের আওতায় পড়বেন, হাসপাতাল ও জেলা অফিসেও তা প্রযোজ্য কি না, আর পুজোর সরকারি ছুটির দিনগুলিতে কী হবে, তা মন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট নয়। সরকারি ছুটির তালিকা বা অর্জিত ছুটির নিয়মে বদল হবে কি না, সেটাও আদেশ জারি হলেই জানা যাবে। অন্যান্য ছুটির নিয়মের জন্য দেখুন ছুটি বিভাগ।
সূত্র: স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
স্বাস্থ্য দপ্তরে পুজোর ছুটি নিয়ে কি সরকারি আদেশ জারি হয়েছে?
না। এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ঘোষণাই জানা গেছে; কোনো মেমো বা আদেশ জারি হয়নি।
নতুন নিয়ম কবে থেকে চালু হবে?
মন্ত্রী জানিয়েছেন আগামী বছরের পুজো থেকে। নির্দিষ্ট তারিখ বা আদেশ এখনও প্রকাশিত হয়নি।
রোস্টার বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
মন্ত্রীর কথায়, কর্মী ও আধিকারিকরা পর্যায়ক্রমে, একদিন অন্তর অফিসে আসবেন ও ছুটি নেবেন, যাতে স্বাস্থ্যভবন কখনও কর্মীশূন্য না হয়।
অন্য দপ্তরেও কি একই নিয়ম হবে?
মন্ত্রী জরুরি পরিষেবার দপ্তর হিসেবে স্বাস্থ্য ও দমকলের কথা বলেছেন। অন্য দপ্তর নিয়ে কিছু জানা যায়নি।









