Sangrami Joutha Mancha: পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের আন্দোলনের ইতিহাসে আগামী ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং স্বচ্ছ নিয়োগ সহ একাধিক দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলনরত ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ এবার আরও বৃহত্তর কর্মসূচীর ডাক দিয়েছে। শহিদ মিনার ময়দানে তাদের লাগাতার অবস্থানের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে এক বিশাল মহাসমাবেশের। যেখানে সরকারি কর্মচারী এবং চাকরিপ্রার্থীরা একযোগে নিজেদের দাবি আদায়ে সোচ্চার হবেন।
সূচিপত্র
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও মূল দাবিসমূহ
দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীরা তাদের বকেয়া ডিএ-র দাবিতে সরব। তবে এবারের সমাবেশ শুধুমাত্র ডিএ-র দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। ‘চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ’-এর ব্যানারে এই আন্দোলনকে আরও ব্যাপক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে যে দাবিগুলো সামনে আনা হয়েছে, তা রাজ্যের প্রশাসনিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
প্রধান দাবিগুলো একনজরে:
- কেন্দ্রীয় হারে ডিএ: অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) মেনে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান করতে হবে এবং এ বিষয়ে একটি স্থায়ী সরকারি আদেশনামা জারি করার দাবি জানানো হয়েছে।
- শূন্যপদে স্থায়ী নিয়োগ: রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রায় ৬ লক্ষ পদ শূন্য পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। এই পদগুলিতে অবিলম্বে স্বচ্ছতার সঙ্গে স্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার দাবি তুলেছে মঞ্চ।
- অস্থায়ী কর্মীদের স্থায়ীকরণ: যে সমস্ত অনিয়মিত বা চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী যোগ্যতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ, তাঁদের চাকরির নিয়মিতকরণ এবং উপযুক্ত সামাজিক সুরক্ষা প্রদান করতে হবে।
- বদলি নীতি: প্রতিহিংসামূলকভাবে কর্মচারীদের দূরে বদলি করা বা ডিটেলমেন্টের মাধ্যমে হেনস্থা করার প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে।
কর্মসূচির বিস্তারিত ও প্রস্তুতি
সংগঠনের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ এবং অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য সকল স্তরের মানুষকে এই সমাবেশে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছেন। দলমত নির্বিশেষে সকল ভুক্তভোগী যাতে এই প্রতিবাদে শামিল হন, সেই বার্তা দেওয়া হয়েছে।
সমাবেশের নির্ঘণ্ট:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| তারিখ | ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ |
| সময় | দুপুর ১২টা |
| স্থান | শহিদ মিনার মাঠ, ধর্মতলা, কলকাতা |
ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক
এই সমাবেশকে সফল করতে ‘সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ’ এবং ‘চাকরিজীবী ও চাকরিহারা ঐক্য মঞ্চ’ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। তাদের মতে, এটি কেবল সরকারি কর্মচারীদের লড়াই নয়, বরং রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের লড়াইও বটে। শহিদ মিনার চত্বরে বিগত তিন বছর ধরে যে অবস্থান চলছে, তা এই দিনটিতে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। রাজ্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এবং নিজেদের হকের দাবি আদায়ে এই মহাসমাবেশকে ‘ঐতিহাসিক’ করে তোলার ডাক দেওয়া হয়েছে।









