Special TET: সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশের পর কর্মরত শিক্ষকদের (In-service Teachers) চাকরি বাঁচাতে এবং ভবিষ্যৎ পদোন্নতির জন্য টেট (TET) বা শিক্ষক যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষায় পাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কিন্তু বহু অভিজ্ঞ ও পুরনো শিক্ষক, যারা এই টেট ব্যবস্থা চালুর অনেক আগে নিয়োগ পেয়েছিলেন, তাদের পক্ষে বর্তমানে এই পরীক্ষায় পাশ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে কর্মরত শিক্ষকদের স্বস্তি দিতে তেলেঙ্গানা রাজ্য সরকার (Telangana Government) একটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। স্কুল শিক্ষা দপ্তরের প্রকাশিত নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে শুধুমাত্র কর্মরত শিক্ষকদের সুবিধার্থে বছরে দুটি বিশেষ টেট পরীক্ষা আয়োজন করা হবে।
সূচিপত্র
বছরে মোট চারটি টেট পরীক্ষা
সাধারণত স্কুল শিক্ষা দপ্তরের তরফে বছরে দুটি রেগুলার টেট (Regular TET) পরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই রেগুলার পরীক্ষার পাশাপাশি শুধুমাত্র কর্মরত শিক্ষকদের জন্য আরও দুটি ‘স্পেশাল টেট’ অনুষ্ঠিত হবে। এর ফলে বছরে মোট চারবার টেট পরীক্ষা নেওয়ার পরিকাঠামো তৈরি করা হলো।
একনজরে নতুন নির্দেশিকার গুরুত্বপূর্ণ দিক:
- সুবিধাভোগী: শুধুমাত্র কর্মরত শিক্ষকরাই এই বিশেষ টেট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফ্রেশার বা নতুন পরীক্ষার্থীরা এই স্পেশাল টেটে বসতে পারবেন না।
- পরীক্ষার সংখ্যা: রেগুলার ২টি টেটের পাশাপাশি আরও ২টি স্পেশাল টেট, অর্থাৎ বছরে মোট ৪ বার পরীক্ষা আয়োজিত হবে।
- মূল কারণ: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি ধরে রাখতে এবং প্রোমোশনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ের (আগস্ট ২০২৮) মধ্যে টেট পাশ করা বাধ্যতামূলক।
- লক্ষ্য: রাজ্যের প্রায় ২৭,০০০ কর্মরত শিক্ষক যারা এখনও টেট পাশ করেননি, তাদের পাশ করার জন্য অতিরিক্ত সুযোগ ও সময় প্রদান করা।
কেন এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হলো?
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষকদের (যাদের অবসরের অন্তত ৫ বছরের বেশি সময় বাকি আছে) আগামী ৩১ আগস্ট, ২০২৮ সালের মধ্যে টেট পাশ করতে হবে। এই নির্দেশিকার ফলে বহু পুরোনো শিক্ষক চাকরি হারানোর বা বাধ্যতামূলক অবসরের (Compulsory Retirement) তীব্র আশঙ্কায় ভুগছিলেন। শিক্ষক সংগঠনগুলির মতে, বহু বছর ধরে প্রত্যন্ত এলাকায় শিক্ষকতা করার পর বয়স, বর্তমান পরীক্ষার ধরন এবং সিলেবাসের ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে পুরোনো শিক্ষকদের পক্ষে নতুন পরীক্ষার্থীদের সাথে প্রতিযোগিতায় বসে টেট পাশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছিল। শিক্ষকদের এই বাস্তব সমস্যার কথা অনুধাবন করেই, তেলেঙ্গানার স্কুল শিক্ষা দপ্তর এবং রাজ্য সরকার এই স্পেশাল টেট-এর প্রস্তাব দ্রুত অনুমোদন করেছে।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের জন্য পরিস্থিতি কী?
তেলেঙ্গানা সরকারের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপের পর স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষকদের মধ্যেও আশা জেগেছে। তবে, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের জন্য এই রকম সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। পশ্চিমবঙ্গের বহু কর্মরত শিক্ষকও টেট পাশের বাধ্যবাধকতার কারণে চিন্তিত রয়েছেন। এমতাবস্থায়, রাজ্য সরকার আগামী দিনে কর্মরত শিক্ষকদের সুবিধার্থে এই ধরনের কোনো স্পেশাল টেট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় কিনা, এখন সেটাই দেখার বিষয়।









