Special TET: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর কর্মরত শিক্ষকদের জন্য স্পেশাল টেট বা বিভাগীয় টেট (In-service TET) আয়োজনের প্রক্রিয়া অবশেষে গতি পেতে শুরু করেছে। দীর্ঘ দিন ধরেই বিভিন্ন মহলে জল্পনা চলছিল যে, রাজ্যগুলি কর্মরত শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার জন্য কোনো বিশেষ অর্ডিন্যান্স বা অধ্যাদেশ আনবে কি না। তবে সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং দ্রুত পদক্ষেপ সেই জল্পনার অনেকটাই অবসান ঘটিয়েছে। রাজ্যটির শিক্ষা দপ্তর থেকে ইতিমধ্যেই জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছে কর্মরত শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্য চেয়ে কড়া নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের অন্যান্য রাজ্যেও ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য খুব শীঘ্রই স্পেশাল টেট আয়োজনের সম্ভাবনা প্রবল হয়ে উঠেছে।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং রাজ্য সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টের মূল রায়ের পর থেকে ইতিমধ্যে প্রায় নয়-দশ মাস অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে অধিকাংশ রাজ্য সরকারই সেভাবে টেট নেওয়ার জন্য গঠনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এমতাবস্থায়, উত্তরপ্রদেশ সরকার আর দেরি না করে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য একটি বিভাগীয় বা স্পেশাল টেট নেওয়ার জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে। সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন রিভিউ পিটিশনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯শে মে ২০২৬ তারিখের আদালতের আদেশের মান্যতা দিয়ে এই বিশেষ টেট পরীক্ষা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দপ্তরের সচিব স্তরের আধিকারিকদের নির্দেশে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারদের কাছ থেকে কর্মরত শিক্ষকদের বর্তমান স্ট্যাটাস সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
ঠিক কী কী তথ্য তলব করা হয়েছে?
শিক্ষা দপ্তরের জারি করা সাম্প্রতিক নোটিশে একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাটে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে, অর্থাৎ ১৮ই জুন থেকে ২৫শে জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে সমস্ত তথ্য জমা দিতে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত যে ৬ ধরনের তথ্য জেলাগুলির কাছ থেকে চাওয়া হয়েছে তা হলো:
- জেলার নাম সহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়মিত কর্মরত শিক্ষকদের মোট সংখ্যা।
- প্রাথমিক স্তরে টেট (TET) বা সিটেট (CTET) উত্তীর্ণ কর্মরত শিক্ষকদের সঠিক পরিসংখ্যান।
- প্রাথমিক স্তরে টেট বা সিটেট উত্তীর্ণ না হওয়া অবশিষ্ট কর্মরত শিক্ষকদের সংখ্যা।
- উচ্চ প্রাথমিক স্তরের ক্ষেত্রে নিয়মিত কর্মরত মোট শিক্ষকের সংখ্যা।
- উচ্চ প্রাথমিক স্তরে টেট বা সিটেট উত্তীর্ণ কর্মরত শিক্ষকদের সংখ্যা।
- উচ্চ প্রাথমিক স্তরে টেট বা সিটেট উত্তীর্ণ না হওয়া অবশিষ্ট কর্মরত শিক্ষকদের তালিকা।
এই সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ করে ২৫শে জুনের মধ্যে নির্দিষ্ট অফিশিয়াল ইমেইল আইডিতে রাজ্য স্তরে পাঠাতে বলা হয়েছে। এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বা ‘Top Priority’ দিয়ে দেখা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য এর সুদূরপ্রসারী তাৎপর্য
এই খবরটি পশ্চিমবঙ্গের কর্মরত শিক্ষকদের জন্য একটি বড় বার্তা। যেহেতু উত্তরপ্রদেশের মতো একটি বড় রাজ্য অর্ডিন্যান্সের পথে না হেঁটে আদালতের নির্দেশ মেনে সরাসরি স্পেশাল টেট নেওয়ার পথে অগ্রসর হয়েছে, তাই ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, পশ্চিমবঙ্গ সরকারও খুব শীঘ্রই একই পথে হাঁটবে। এই রাজ্য পথ দেখালে অন্যান্য রাজ্যও সেই মডেল অনুসরণ করবে। রাজ্যে কর্মরত যে সমস্ত শিক্ষক এখনও টেট উত্তীর্ণ নন, তাদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিভাগীয় পরীক্ষা বা ‘In-service Teacher TET’ হিসেবে আয়োজিত হবে। এক্ষেত্রে একটি বিষয় স্পষ্টভাবে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, এই বিশেষ টেটে কোনো ফ্রেশার বা সাধারণ প্রার্থীরা বসতে পারবেন না। এটি শুধুমাত্র বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষকদের চাকরি সুনিশ্চিত করার জন্যই নেওয়া হবে।
শিক্ষকদের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
যেহেতু পরীক্ষার সম্ভাবনা প্রবল এবং খুব বেশি সময় হয়তো পাওয়া যাবে না, তাই কর্মরত শিক্ষকদের এখনই প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া উচিত। নিচে কিছু কার্যকরী পরামর্শ দেওয়া হলো:
- সঠিক সিলেবাস জানা: প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের টেট পরীক্ষার বর্তমান সিলেবাস সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা তৈরি করুন।
- উপযুক্ত স্টাডি মেটেরিয়াল: নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে সঠিক স্টাডি মেটেরিয়াল সংগ্রহ করে নিয়মিত অধ্যায়ন শুরু করুন।
- অনলাইন গাইডেন্স: সময়ের অভাব থাকলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া বা ইউটিউব চ্যানেল থেকে ছোট ছোট টেট প্রস্তুতির ক্লাসগুলো নিয়মিত ফলো করতে পারেন।
- মক টেস্ট: সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করার অভ্যাস তৈরি করতে বাড়িতেই নিয়মিত মক টেস্ট দিন।









