SSC SLST Protest: কলকাতার রাজপথে আবারও দেখা গেল চাকরিপ্রার্থীদের ভিড়। ধর্মতলা চত্বরে SLST চাকরিপ্রার্থীদের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। নবান্ন অভিযানের ডাক দিয়েছিলেন চাকরিপ্রার্থীরা, কিন্তু পুলিশ সেই মিছিল আটকে দিলে শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের এই প্রতিবাদ।
সূচিপত্র
বিক্ষোভের কারণ
এসএসসি (স্কুল সার্ভিস কমিশন) পরীক্ষা দীর্ঘ বছর ধরে না হওয়ায় রাজ্যের স্কুলগুলিতে শিক্ষকের অভাব দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই দুর্নীতির অভিযোগে বহু শিক্ষকের চাকরি চলে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে। বহু স্কুল বন্ধের মুখে। এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে চাকরিপ্রার্থীরা মূলত কয়েকটি দাবিতে পথে নেমেছেন:
- অবিলম্বে ১ লক্ষ শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে।
- নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে হবে এবং দুর্নীতির অবসান ঘটাতে হবে।
- ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া অডিও-ভিস্যুয়াল মোডে রেকর্ড করতে হবে, যাতে পরবর্তীকালে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
- সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের জন্য অতিরিক্ত ১০ নম্বর দেওয়ার নিয়ম বাতিল করতে হবে, কারণ এটি সংবিধানের ১৬ নম্বর অনুচ্ছেদকে লঙ্ঘন করে বলে তারা মনে করেন।
- স্বচ্ছতার জন্য OMR শিট জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।
চাকরিপ্রার্থীদের বক্তব্য
আন্দোলনকারী এক চাকরিপ্রার্থী বলেন, “আমরা গরিব, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়ে। বছরের পর বছর ধরে আমরা এসএসসি পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছি। আমাদের জীবন-জীবিকা আজ প্রশ্নের মুখে। ৯ বছর ধরে রাজ্যে কোনও নিয়োগ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।”
আরেকজন বলেন, “আমরা স্বচ্ছতার দাবি জানাচ্ছি। ইন্টারভিউ বোর্ডে অডিও-ভিডিও রেকর্ডিংয়ের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আমাদের চাকরি নিয়ে কোনও প্রশ্ন উঠলে আমরা প্রমাণ দেখাতে পারি। ২৬,০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিলের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে ১ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগ ছাড়া রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচানো সম্ভব নয়।”
পুলিশি বাধা ও বর্তমান পরিস্থিতি
শিয়ালদহ থেকে জমায়েত করে মিছিলটি নবান্নের দিকে যাওয়ার কথা থাকলেও, পুলিশ ধর্মতলা চত্বরে তাদের আটকে দেয়। এরপরই চাকরিপ্রার্থীরা সেখানে বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাদের দাবি, সরকার তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা এই আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাদের এই আন্দোলন রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে ধরেছে।