পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলায় সুপ্রিম কোর্ট তাদের আগের নির্দেশ সংশোধন করে মনিটরিং কমিটিতে কর্মী সংগঠনের প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্তির আবেদন মঞ্জুর করেছে। গত ১৯ আগস্টের আদেশে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাদ পড়া সরকারি কর্মচারী পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে অ্যাডভোকেট গুড্ডু সিংকে এই কমিটিতে যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ। একই সাথে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, মূল ডিএ মামলার শুনানির দিন বদলাচ্ছে না এবং তা পূর্বনির্ধারিত ২৭ তারিখেই অনুষ্ঠিত হবে।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি চন্দ্রশেখরের ডিভিশন বেঞ্চে (কোর্ট নম্বর ১১, আইটেম ৫৩) মামলার ৬ নম্বর রেসপন্ডেন্টের দায়ের করা অন্তর্বর্তীকালীন আবেদনের শুনানি হয়। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগেই এই আবেদনের শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালত।
সূচিপত্র
শুনানির প্রেক্ষাপট ও আদালতের নির্দেশ
কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ ও সরকারি কর্মীদের পক্ষ থেকে অ্যাডভোকেট করুণা নন্দী এবং অন্যান্য আইনজীবীরা জানান, গত ১৯ আগস্ট আদালত বিষয়টির তদারকিতে মনিটরিং কমিটি গঠন করেছিল। তবে সেই কমিটিতে মামলাকারী বিভিন্ন সংগঠনের নাম তালিকাভুক্ত হলেও অসাবধানতাবশত সরকারি কর্মচারী পরিষদের নাম বাদ পড়েছিল।
শুনানি চলাকালীন ডিভিশন বেঞ্চ জানতে চান, পরিষদ তাদের একক প্রতিনিধি হিসেবে আইনজীবী গুড্ডু সিং-এর নামই প্রস্তাব করছে কি না। পরিষদের পক্ষ থেকে তা নিশ্চিত করার পর আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ সংশোধন করে। ফলে এখন থেকে মনিটরিং কমিটির আলোচনায় সরকারি কর্মচারী পরিষদের প্রতিনিধি হিসেবে অ্যাডভোকেট গুড্ডু সিং আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেওয়ার পূর্ণ অধিকার পেলেন।
শুনানির মূল দিকগুলির তুলনামূলক বিবরণ
আদালতের এই অন্তর্বর্তী আদেশের ফলে মামলার প্রক্রিয়া কোন পথে এগোচ্ছে, তা নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পূর্বের অবস্থান | বর্তমান আদালতের আদেশ |
|---|---|---|
| কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব | ৬ নম্বর রেসপন্ডেন্টের নাম বাদ ছিল | অ্যাডভোকেট গুড্ডু সিং অন্তর্ভুক্ত হলেন |
| মূল শুনানির তারিখ | চলতি মাসের ২৭ তারিখ ধার্য ছিল | ২৭ তারিখেই শুনানি অপরিবর্তিত থাকছে |
| কমিটির বৈঠকের মেয়াদ | ৮ সপ্তাহের মধ্যে আলোচনার নির্দেশ ছিল | যৌথ বৈঠক হয়নি, ডিসেম্বরে সম্ভাব্য বৈঠক |
| মামলার শুনানির কক্ষ | সুপ্রিম কোর্ট ১১ নম্বর কক্ষ, আইটেম ৫৩ | অন্তর্বর্তী আবেদন মঞ্জুর, মূল মামলা বিচারাধীন |
কর্মীদের জন্য এর অর্থ কী
আপনি যদি রাজ্য সরকারি কর্মী বা সাহায্যপ্রাপ্ত (Grant-in-aid) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী হন, তবে এই নির্দেশ আপনার আইনি লড়াইয়ের প্রতিনিধিত্বকে সুসংহত করল। মনিটরিং কমিটিতে সমস্ত মামলাকারী পক্ষের সরাসরি উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ায় কর্মীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত বাস্তব দাবিগুলি কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছাবে।
সুপ্রিম কোর্ট পূর্বে মনিটরিং কমিটিকে কর্মীদের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করার জন্য আট সপ্তাহ সময় দিয়েছিল। সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পার হয়ে গেলেও এখনো যৌথ বৈঠক ডাকা সম্ভব হয়নি এবং পরবর্তী সম্ভাব্য বৈঠক ডিসেম্বর মাসে হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। আগামী ২৭ তারিখের শুনানিতে আদালত এই বৈঠক না ডাকার কারণ পর্যালোচনা করতে পারে। ফলে কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নিষ্পত্তির আইনি প্রক্রিয়ায় আগামী ২৭ তারিখের শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
সূত্র: সুপ্রিম কোর্ট অব ইন্ডিয়া, দ্য স্টেট অব ওয়েস্ট বেঙ্গল বনাম কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ, সংশোধিত নির্দেশ। Supreme court










