Teacher Census Duty: সেনসাস বা জনগণনার দায়িত্বে থাকা রাজ্য সরকারি স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য অবশেষে মিলল বড় স্বস্তি। গত ৩ অগাস্টের বিতর্কিত নির্দেশিকা বাতিল করে ১৯ অগাস্ট নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে স্কুলশিক্ষা দফতর। ফলে এখন আর ক্লাস নেওয়ার পর বাড়তি সময় খেটে কিংবা ছুটির দিন নষ্ট করে সমীক্ষা চালাতে হবে না। শিক্ষকরা যখন সেনসাসের কাজ করবেন, সেই পুরো সময়টাই গণ্য হবে ‘অন ডিউটি’ (On Duty) হিসেবে।
আসলে, কলকাতা হাইকোর্টে মামলা গড়াতেই সুর নরম করতে বাধ্য হয় রাজ্য প্রশাসন। আদালত চত্বরে জোর আইনি ধাক্কা খাওয়ার পরেই মূলত সিদ্ধান্ত বদলায় সরকার। অন্যদিকে, সেনসাসের এই দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে যাতে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনে বিন্দুমাত্র বিঘ্ন না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরকে নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্য শিক্ষা দফতরের জয়েন্ট ডিরেক্টর।
সূচিপত্র
আদালতে হাইকোর্টের কড়া অবস্থান
ঘটনার সূত্রপাত অগাস্টের মাঝামাঝি সময়। ১৬ অগাস্ট থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে সেনসাসের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হয়। তবে বিপত্তি বাঁধে ৩ অগাস্টের সেই নির্দেশিকা ঘিরে, যেখানে বলা হয়েছিল স্কুলের স্বাভাবিক পাঠদান সেরে অথবা ছুটির দিনে শিক্ষকদের এই সমীক্ষার কাজ করতে হবে। স্বভাবতই এই দ্বৈত চাপের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষকমহল। একাধিক শিক্ষক সংগঠন আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন।
মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে। রাজ্যের এই সিদ্ধান্তের ওপর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। বিচারপতির স্পষ্ট প্রশ্ন ছিল, শিক্ষকদের মূল কাজ তো পড়ুয়াদের ঠিকমতো পড়ানো। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত স্কুলে ক্লাস নেওয়ার পর শিক্ষকরা কীভাবে আবার দূরের এলাকায় গিয়ে সমীক্ষার কাজ করবেন? তাছাড়া তাঁরা বাড়িই বা ফিরবেন কখন? হাইকোর্টের এমন কড়া পর্যবেক্ষণের মুখে পড়ে শেষমেশ নিজেদের অনমনীয় অবস্থান থেকে সরতে বাধ্য হয় রাজ্য।
অন ডিউটি পাওয়ায় কী বদলাবে কাজের গতিপথ?
পুরনো নিয়মের ফলে শিক্ষকদের দৈনিক কাজের সময়সীমা মারাত্মক ভাবে বেড়ে গিয়েছিল। ১৯ অগাস্টের নতুন সার্কুলারটি প্রকাশ পাওয়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি মিলল:
- রেগুলার অ্যাটেনডেন্স বা অন ডিউটি: সেনসাস কর্তৃপক্ষের নিয়ম মেনে সমীক্ষার কাজ চলাকালীন শিক্ষকদের স্কুলে বায়োমেট্রিক বা খাতায় সশরীরে হাজিরা দিতে হবে না। সার্ভিস রেজিস্টারে এই সময়টা ‘OD’ (On Duty) হিসেবে গণনা করা হবে।
- বেতন ও সার্ভিস রেকর্ড সুরক্ষা: ডিউটি হওয়ায় কোনো শিক্ষকের বেতন কাটার সুযোগ থাকছে না। একই সঙ্গে সার্ভিস বুকে কোনো ছেদ বা সার্ভিস ব্রেক পড়ার আশঙ্কাও দূর হলো।
- বাড়তি কাজের চাপ মুক্তি: সপ্তাহের শেষে শনিবার ও রবিবারের মতো ছুটির দিনে কিংবা স্কুলের নির্ধারিত সময়ের বাইরে গিয়ে জোর করে সমীক্ষার কাজ চালাতে হবে না।
পুরনো ও নতুন নির্দেশিকার তুলনামূলক বিশ্লেষণ
শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বোঝার সুবিধার্থে ৩ অগাস্ট এবং ১৯ অগাস্টের আদেশের মূল প্রশাসনিক পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | ৩ অগাস্টের আদেশ (পুরনো) | ১৯ অগাস্টের আদেশ (নতুন) |
|---|---|---|
| কাজের সময় | স্কুলের নিয়মিত সময়ের পর ও ছুটির দিনে | সেনসাস কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত সময় অনুযায়ী |
| অ্যাটেনডেন্স স্টেটাস | সাধারণ স্কুল উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল | সম্পূর্ণ অন ডিউটি (On Duty) স্টেটাস |
| শিক্ষণ কাজের চাপ | পড়ানোর পাশাপাশি বাড়তি দ্বিগুণ চাপ | সেনসাস শিডিউল অনুযায়ী সমন্বয় করা হবে |
| ডিইএলএড প্রশিক্ষণার্থী | সেনসাস ডিউটি পালনে বাধ্য ছিলেন | হাইকোর্টের নির্দেশে সম্পূর্ণ অব্যাহতি |
সার্ভিস রুল ও বেতনে প্রভাব
অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকার মনেই শঙ্কা ছিল ক্লাসে অনুপস্থিত থেকে সেনসাসের কাজ করলে কি বেতন কাটার কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে? শিক্ষা দফতরের নতুন স্পষ্টীকরণে সেই অনিশ্চয়তা কেটেছে। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সেনসাসের কাজ একটি জাতীয় দায়িত্ব। ফলে শিক্ষকদের বেতন সংক্রান্ত বা লিভ রুলে (Leave Rules) কোনো আর্থিক ক্ষতি হবে না।
এ ছাড়া প্রশিক্ষণরত শিক্ষক বা যাঁরা D.El.Ed কোর্স করছেন, তাঁদের পঠনপাঠনের স্বার্থে এই দায়িত্ব থেকে পুরোপুরি অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। ইতিমধ্যে ডিস্ট্রিক্ট ইনস্পেক্টর অফ স্কুলস (DI) এবং ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল (DPSC)-দের সেনসাস কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে এই অন ডিউটি সুবিধা কার্যকর করার আদেশ পাঠানো হয়েছে।









