TET Exemption: দীর্ঘদিন ধরে স্কুলে নিষ্ঠার সঙ্গে পড়িয়ে চলা অথচ টেট (TET) পাশ না করা রাজ্যের ও দেশের হাজার হাজার কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকার জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর। বহু বছর ধরে ক্লাসরুমে পরিশ্রম করা এই শিক্ষকদের মাথার উপর টেট নামক পরীক্ষার খাঁড়া ঝুলছিল দীর্ঘদিন ধরে। এবার এই বিষয়ে নতুন করে আশার আলো দেখাল তামিলনাড়ু সরকার, যাদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত গোটা দেশের শিক্ষা মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমবঙ্গের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলেও, তামিলনাড়ুর এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের শিক্ষকদের মধ্যেও নতুন প্রত্যাশা জাগিয়েছে।
সূচিপত্র
তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ
গত ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ তারিখে তামিলনাড়ু বিধানসভায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করা হয়। প্রস্তাবে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, ২৩শে আগস্ট ২০১০ সালের আগে যাঁরা শিক্ষক পদে নিয়োগ পেয়েছেন, তাঁদের টেট (Teacher Eligibility Test) থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হোক। রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর উদ্যোগে পেশ হওয়া এই প্রস্তাবটি বিধানসভায় সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং এখন তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। তামিলনাড়ু সরকারের হিসেব অনুযায়ী, রাজ্যের প্রায় ৩ লক্ষ ২৮ হাজার শিক্ষক এই টেট বাধ্যবাধকতার কারণে প্রভাবিত হয়েছেন। যুক্তি হিসেবে বলা হয়েছে, এই শিক্ষকরা বছরের পর বছর ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পড়িয়ে আসছেন, তাই তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া উচিত।
আইনি প্রেক্ষাপট ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
রাইট টু এডুকেশন অ্যাক্ট বা আরটিই (RTE) ২০০৯ অনুযায়ী, যা ২০১৫ সালের এপ্রিল মাস থেকে কঠোরভাবে প্রযোজ্য, সব নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। এই আইনের ভিত্তিতেই সুপ্রিম কোর্ট সম্প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে জানিয়েছিল, কর্মরত অথচ টেট অনুত্তীর্ণ শিক্ষকদের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরীক্ষা পাশ করতে হবে; পরবর্তীতে রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে সেই সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। এই নির্দেশের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যেও যথেষ্ট উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, অথচ রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত এই সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব কেন্দ্রের কাছে পাঠানো হয়নি। এনসিটিই (NCTE) ও কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে, টেট সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণের ক্ষমতা মূলত রাজ্যগুলির হাতেই রয়েছে।
কেন্দ্রের কাছে তামিলনাড়ুর মূল দাবিগুলি
- ২০১০ সালের আগে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের টেটের বাধ্যবাধকতা থেকে চিরস্থায়ী মুক্তি দিতে হবে।
- কর্মরত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে জাতীয় স্তরে স্বীকৃতি দিতে হবে।
- এই ছাড় যেন কোনোভাবেই সাময়িক না হয়ে সম্পূর্ণ স্থায়ী বা পার্মানেন্ট হিসেবে ঘোষিত হয়।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, তামিলনাড়ুতে আসন্ন নতুন টেট পরীক্ষা বাতিল করা হয়নি; সেটি নিজস্ব নিয়মেই অনুষ্ঠিত হবে। এই প্রস্তাব শুধুমাত্র পুরনো, বহু বছর ধরে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য প্রযোজ্য।
পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকদের জন্য এর অর্থ কী
তামিলনাড়ুর এই প্রস্তাব এখন কেন্দ্রের বিবেচনাধীন। কেন্দ্র চাইলে সংশ্লিষ্ট আইন বা নীতিতে সংশোধন এনে এই ছাড় মঞ্জুর করতে পারে। এই প্রস্তাব গৃহীত হলে লক্ষাধিক শিক্ষক টেটের বাধ্যবাধকতা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি পাবেন এবং তাঁদের চাকরির নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়বে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কেন্দ্র যদি তামিলনাড়ুর জন্য এই ছাড় মঞ্জুর করে, তবে তা অন্য রাজ্যগুলির জন্যও একটি বড় নজির তৈরি করবে। সেক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষকরাও এই সিদ্ধান্তের আওতায় আসতে পারেন। এখন দেখার, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তামিলনাড়ুর পথ অনুসরণ করে নিজেদের রাজ্যের শিক্ষকদের জন্য আগেভাগে কোনো প্রস্তাব পাঠায় কি না। এই বিষয়ে যেকোনো নতুন আপডেটের জন্য নজর রাখুন আমাদের পোর্টালে।









