WB DA Arrear: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দপ্তর (অডিট শাখা) গত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিজ্ঞপ্তি নম্বর 3556-F(P2)। এই নির্দেশ অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০০৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এককালীন, অর্থাৎ একটি কিস্তিতেই দেওয়া হবে।
সূচিপত্র
কোন হিসেবে মিলবে বকেয়া ডিএ?
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সময়ের বকেয়া ডিএ AICPI (সর্বভারতীয় ভোক্তা মূল্য সূচক) অনুযায়ী ১০০ শতাংশ নিউট্রালাইজেশন ধরে হিসেব করা হবে। তবে এর আগে 996-F(P2) (তারিখ ১৩/০৩/২০২৬) এবং 1086-F(P2) (তারিখ ২৩/০৩/২০২৬) নম্বর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ১ জানুয়ারি ২০১৬ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯ সময়ের জন্য যে বকেয়া ডিএ দেওয়া হয়েছিল, সেই অঙ্কের সমন্বয় (adjustment) করা হবে।
কারা কোথায় পাবেন টাকা?
টাকা কীভাবে দেওয়া হবে, তা কর্মীদের গ্রুপ অনুযায়ী আলাদা করা হয়েছে:
- গ্রুপ A, B ও C: বকেয়া ডিএ-র টাকা সরাসরি জমা হবে কর্মীর জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF) অ্যাকাউন্টে।
- গ্রুপ D: এই কর্মীরা টাকা নগদে পাবেন, যা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে।
- অবসরের কাছাকাছি থাকা কর্মী: যাঁরা অবসরের আগের তিন মাসের মধ্যে ঢুকে পড়েছেন এবং যাঁদের GPF-এর চূড়ান্ত পেমেন্ট প্রাপ্য হয়ে গেছে, তাঁদের টাকা GPF-এ না গিয়ে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে।
GPF থেকে কবে তোলা যাবে?
GPF-এ জমা হওয়া এই বকেয়া ডিএ ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত, অথবা অবসর, মৃত্যু, পদত্যাগ বা সুপারঅ্যানুয়েশনের তারিখ পর্যন্ত (যেটি আগে হবে), অগ্রিম বা চূড়ান্ত উত্তোলনের হিসেবে ধরা হবে না। অর্থাৎ ততদিন এই টাকা তোলা যাবে না। আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জমা হওয়া বকেয়া ডিএ-র উপর উত্তোলনের নিষেধাজ্ঞাও সংশোধিত হয়ে ৩১ মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
আয়কর কাটা হবে কি?
হ্যাঁ। টাকা দেওয়ার আগে DDO (ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসার) নিয়ম অনুযায়ী উৎসে আয়কর (TDS) কেটে নেবেন। শুধু তাই নয়, ২০১৬–২০১৯ সময়ের বকেয়া ডিএ থেকে যে আয়কর আগে কাটা হয়নি, তার সমন্বয় বা আদায়ও এই দফার টাকা দেওয়ার আগে করা হবে। তাই হাতে বা GPF-এ আসা অঙ্ক মোট হিসেবের চেয়ে কম মনে হতে পারে।
DDO-দের দায়িত্ব ও অন্যান্য নির্দেশ
বিল জমার আগে সংশ্লিষ্ট অফিস প্রধান বা DDO-কে সার্ভিস ও পে রেকর্ড দেখে হিসেব যাচাই করতে হবে। টাকার সঠিকতার দায়িত্ব তাঁদের উপরই থাকবে। ট্রেজারি বা PAO বরাদ্দের অপেক্ষা না করেই (in anticipation of allotment) বিল প্রসেস করতে পারবে। পরে যদি ভুলবশত বেশি টাকা দেওয়া হয়েছে বলে ধরা পড়ে, সেই বাড়তি টাকা কর্মীর কাছ থেকে ফেরত নেওয়া হবে। এছাড়া HRMS পোর্টালে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন চলছে এবং বিস্তারিত নির্দেশিকা আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে।
কর্মীদের জন্য কী করণীয়?
আপাতত নিজের সার্ভিস রেকর্ড ও পে ফিক্সেশনের তথ্য ঠিক আছে কিনা মিলিয়ে রাখুন। গ্রুপ D কর্মীরা HRMS-এ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিক আছে কিনা দেখে নিন। HRMS-এর বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ হলেই আমরা wbpay.in-এ আপডেট দেব।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই বিজ্ঞপ্তিটি এখনও অর্থ দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়নি। তবে এটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং দেখে প্রামাণ্য বলেই মনে হচ্ছে। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হলে আমরা তা নিশ্চিত করে জানাব।









