WB DA Arrears: ২০০৮ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার তথ্য চাইল মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর
WB DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা WB DA Arrears প্রদানের প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত সময়ের বকেয়া ডিএ-র হিসেব চূড়ান্ত করতে সমস্ত জেলার ডিআই-দের (DI) কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে তথ্য তলব করা হয়েছে। ১লা এপ্রিল প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় ২রা এপ্রিলের মধ্যে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।
সর্বশেষ আপডেট: অর্থ দপ্তরের নির্দেশিকা ও সুপ্রিম কোর্টের রায়
সম্প্রতি ৫ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভিত্তিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ মেটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে গঠিত মনিটরিং কমিটির নজরদারিতে এই সম্পূর্ণ বকেয়া প্রদান প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে। গত ১৩ই মার্চ ২০২৬ তারিখে অর্থ দপ্তরের জারি করা বিজ্ঞপ্তি (Memo No. 996-F(P2)) অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা ধাপে ধাপে মেটানো হবে। প্রথম ধাপে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ মার্চ ও সেপ্টেম্বর মাসে দুটি কিস্তিতে দেওয়া হচ্ছে। এই সরকারি নির্দেশিকা কার্যকর করতেই মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর তাদের অধীনস্থ কর্মীদের ডেটাবেস আপডেট ও যাচাই করার কাজ শুরু করেছে (সূত্র: অর্থ দপ্তর, পশ্চিমবঙ্গ সরকার)।
বকেয়া ডিএ: যে চার ক্যাটাগরির কর্মীর তথ্য চাওয়া হয়েছে
মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে মূলত চারটি ক্যাটাগরির কর্মীদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠান থেকে যারা বেতন বা পেনশন পান, তাদের সবাইকে এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে:
- বর্তমানে কর্মরত কর্মী: গ্রান্ট-ইন-এইড মাদ্রাসার শিক্ষক এবং নন-টিচিং স্টাফ যারা বর্তমানে চাকরিতে বহাল রয়েছেন।
- ডেপুটেশনে থাকা কর্মী: যে সকল রাজ্য সরকারি কর্মচারী বর্তমানে ডেপুটেশনে রয়েছেন এবং যাদের বেতন ডিডিও (DDO) সরাসরি গ্রান্ট-ইন-এইড খাত থেকে তুলে থাকেন।
- প্রাক্তন কর্মী: উল্লেখিত সময়ের মধ্যে (এপ্রিল ২০০৮ থেকে ডিসেম্বর ২০১৯) যারা কর্মরত ছিলেন এবং গ্রান্ট-ইন-এইড থেকে বেতন পেতেন, কিন্তু বর্তমানে আর চাকরিতে নেই।
- ২০০৮-এর পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত পেনশনার: যে সমস্ত কর্মী ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসের আগে অবসর গ্রহণ করেছেন, কিন্তু তাদের পেনশন ডিডিও-র মাধ্যমে গ্রান্ট-ইন-এইড থেকে মেটানো হয়।
ডিআই-দের কাছে যে নির্দিষ্ট ছকে রিপোর্ট তলব
ডিআই-দের একটি নির্দিষ্ট ছকে এই রিপোর্ট জমা দিতে হবে। প্রতিটি ক্যাটাগরির কর্মীর ক্ষেত্রে দুটি মূল তথ্য প্রশাসন জানতে চেয়েছে:
১. সংশ্লিষ্ট কর্মীর HRMS আইডি (HRMS ID) রয়েছে কি না।
২. ডিডিও লগিনে (DDO Login) বকেয়া ডিএ-র ক্যালকুলেশন শিট (Calculation Sheet) দেখা যাচ্ছে কি না।
এই দুটি তথ্য ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ হিসেবে উল্লেখ করে জেলার ডিআই-দের পাঠাতে হবে।
কর্মীদের ওপর প্রভাব ও পরবর্তী পদক্ষেপ
যাদের HRMS আইডি নেই বা ডিডিও লগিনে ক্যালকুলেশন শিট জেনারেট হচ্ছে না, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি সমাধানের জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের টিচিং এবং নন-টিচিং স্টাফদের বকেয়া ডিএ-র হিসাব অত্যন্ত জটিল, কারণ এই এগারো বছরে ডিএ-র হার একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে এবং পে-কমিশনের বদল ঘটেছে। তাই প্রতিটি কর্মীর সঠিক তথ্য ডিডিও লগিনে থাকা বাধ্যতামূলক। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, বকেয়া ডিএ সরাসরি কর্মরত কর্মীদের জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে (GPF) জমা হবে এবং অবসরপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে তা সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। অত্যন্ত কম সময়ের মধ্যে (মাত্র ২৪ ঘণ্টা) এই তথ্য তলব করায় স্পষ্টতই প্রশাসন বকেয়া ডিএ প্রদানে তৎপরতা দেখাচ্ছে। গ্রান্ট-ইন-এইড শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা আশা করছেন, তথ্য যাচাই পর্ব মিটলেই তাদের পাওনা বকেয়া দ্রুত হাতে আসবে।