WB DA News: দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং আইনি লড়াইয়ের পর এবার পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের নজর সোমবারের বাজেটের দিকে। রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার পর, নতুন সরকার মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) নিয়ে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই তাকিয়ে আছেন লাখ লাখ সরকারি কর্মী ও পেনশনাররা। এই আবহে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ ডিএ প্রদান, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সরকারি ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি তুলেছেন।
সূচিপত্র
বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা
ভাস্কর ঘোষ তাঁর সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মেটানোর ক্ষেত্রে সবথেকে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পুরনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। তাঁর দাবি, আগের সরকারের আমলে যে দুর্নীতিগ্রস্ত আমলারা ছিলেন, তাঁরা এখনও নিজেদের পদে বহাল রয়েছেন। এই আমলাদের গাফিলতির কারণেই কলকাতা কর্পোরেশনের কর্মী থেকে শুরু করে বিভিন্ন দপ্তরের পেনশনাররা এখনও এক পয়সাও ডিএ পাননি। এমনকি, ২০০৮ থেকে ২০১৫ সালের বকেয়া টাকা তড়িঘড়ি কিছু মানুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হলেও, তার জন্য সঠিক কোনো নির্দেশিকা বা নোটিফিকেশন যথাসময়ে জারি করা হয়নি। এই অস্বচ্ছ কাজের তীব্র সমালোচনা করে তিনি প্রশাসনের ভেতরে “শুদ্ধিকরণ”-এর জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
বাজেট নিয়ে প্রত্যাশা এবং ৪২ শতাংশের দাবি
আসন্ন ২২ তারিখের বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মীরা। ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছেন, পূর্বতন সরকার মাত্র ৪ শতাংশ ডিএ দেওয়ার কথা ঘোষণা করলেও, তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চরম প্রতারণা করা হয়েছিল। তবে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁদের অত্যন্ত ইতিবাচক বৈঠক হয়েছে। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মূল দাবি হলো, বকেয়া ৪২ শতাংশ মহার্ঘ ভাতার সিংহভাগ যেন এই বাজেটেই মেটানোর ব্যবস্থা করা হয়। নতুন সরকার তাদের সংকল্প পত্রে ৪৫ দিনের মধ্যে বকেয়া মেটানোর যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
দাবি পূরণ না হলে ফের বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে ভাস্কর ঘোষ স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, সরকারি কর্মচারীরা কোনো রাজনৈতিক দলের দাসত্ব করেন না। তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের প্রকৃত মেধা এবং বুদ্ধিজীবী সমাজ। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি তাঁদের পূর্ণ ভরসা থাকলেও, যদি সরকার প্রতিশ্রুতি রাখতে ব্যর্থ হয়, তবে আগের সরকারের মতো এই নতুন সরকারের বিরুদ্ধেও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তিনি বলেন, “ময়দান সবসময়ই খোলা থাকে, প্রতিশ্রুতি পালন না হলে আগের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে।”
স্মার্ট মিটার এবং যোগা দিবস নিয়ে ভাস্কর ঘোষের অবস্থান
ডিএ-এর পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়েও ভাস্কর ঘোষ তাঁর মতামত ব্যক্ত করেছেন:
- স্মার্ট মিটার প্রকল্প: স্মার্ট মিটার বসানোর ফলে বিদ্যুৎ চুরি কমবে এবং ডব্লিউবিএসইডিসিএল (WBSEDCL)-এর আর্থিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে বলে তিনি মনে করেন। তবে সরকারি কর্মচারীদের উপর জোরপূর্বক স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দেওয়ার নির্দেশিকার তিনি তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, এটি চাপিয়ে না দিয়ে জনপ্রতিনিধিদের উচিত আগে নিজেদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করা।
- যোগা দিবস: যোগাভ্যাসকে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের সঙ্গে যুক্ত করতে নারাজ তিনি। তাঁর মতে, যোগা হলো জীবনযাপনের একটি সুস্থ পদ্ধতি এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য তিনি একে পূর্ণ সমর্থন করেন।









