পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে চলমান আন্দোলনের ইতিহাসে এক বড় ও ইতিবাচক মোড় আসতে চলেছে। রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগামী ৩০ মে ২০২৬ শনিবার নবান্নের সভাগৃহে ডিএ মামলাকারী ও আন্দোলনকারী সব সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। আজ বৃহস্পতিবার সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ নিজেই ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
আগামী ৩০ মে এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকটি শুরু হবে। নব্য গঠিত রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের ডিএ জট কাটার নতুন আশা দেখছেন কর্মচারীরা। উল্লেখ্য, কিছুদিন আগে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ডিএ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তবে এই নতুন বৈঠকের মাধ্যমে সেই ক্ষোভ প্রশমিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূচিপত্র
কেন এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ?
গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুপ্রতীক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন গঠনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ক্যাবিনেট বৈঠকে বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি, যা সাধারণ কর্মচারীদের একাংশকে ক্ষুব্ধ করেছিল।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা ষষ্ঠ বেতন কমিশনের অধীনে ১৮ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৬০ শতাংশ হারে ডিএ পাওয়ায় কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ডিএ-র ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪২ শতাংশ।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও অতীত বকেয়া
গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ২০০৯ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। সেই সঙ্গে বাকি ৭৫ শতাংশ অর্থ কীভাবে দেওয়া হবে, তা নির্ধারণের জন্য চার সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
বিগত সরকারের আমলে বকেয়া ডিএ প্রদানের ক্ষেত্রে বারবার সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছিল। এবার নতুন সরকার আসায় সপ্তম পে কমিশন চালুর পাশাপাশি বকেয়া ডিএ মেটানোর ক্ষেত্রেও একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন কর্মচারীরা।
কর্মচারীদের উপর এই বৈঠকের সম্ভাব্য প্রভাব
এই বৈঠক সফল হলে প্রাথমিক শিক্ষক, করণিক, পুলিশ কর্মী ও লক্ষ লক্ষ পেনশনারদের আর্থিক কাঠামোয় বড় ধরনের বদল আসতে পারে। শিক্ষক ও সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনের সাথে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা কীভাবে যুক্ত করা হবে, তা নিয়েই মূল আলোচনা হবে।
বকেয়া ডিএ মিটিয়ে নতুন সপ্তম পে কমিশন চালু করা হলে কর্মচারীদের ন্যূনতম মূল বেতন অনেকখানি বাড়বে। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর দাবি, পে কমিশনের কাজ শুরুর আগে বর্তমান মহার্ঘ ভাতার একটি বড় অংশ মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হোক।
পরবর্তী করণীয় ও প্রত্যাশা
সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের প্রতিনিধিরা এখন ৩০ মে-র বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছেন। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চসহ অন্যান্য কো-অর্ডিনেশন কমিটিগুলো এখন নিজেদের দাবিপত্র চূড়ান্ত করার কাজ শুরু করেছে।
এই আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রতিনিধিরা কেন্দ্রের সমতুল্য ডিএ কাঠামো ধাপে ধাপে রাজ্যেও চালু করার দাবি জানাতে পারেন। নবান্নের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক ঘোষণা এলে তা রাজ্যের লাখ লাখ পরিবারের অর্থনৈতিক স্বস্তি এনে দেবে।









