সরকারি কর্মচারী

White Paper Demand: ১.৯৬ লক্ষ কোটি টাকার হিসেব কী? শ্বেতপত্র চেয়ে নবান্নকে চরম বার্তা সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের

White Paper Demand: রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে এক বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করল সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। কেন্দ্র সরকারের কাছে রাজ্যের পাওনা বলে দাবি করা বিপুল অঙ্কের অর্থ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটাতে সরাসরি মুখ্যসচিবকে চিঠি দিলেন মঞ্চের আহ্বায়করা। রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি এবং উন্নয়নের স্বার্থে অবিলম্বে ১,৯৬,০০০ কোটি টাকার বকেয়া সংক্রান্ত ‘শ্বেতপত্র’ প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এবং প্রশাসনিক স্তরে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে যে, কেন্দ্রের কাছে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। এই দাবি কতটা সত্য এবং এর খুঁটিনাটি কী, তা সাধারণ মানুষের সামনে স্পষ্ট করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

আর্থিক স্বচ্ছতা ও শ্বেতপত্রের প্রয়োজনীয়তা

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক অনিরুদ্ধ ভট্টাচার্য এবং ভাস্কর ঘোষ স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সরকারি বিবৃতিতে বকেয়া টাকার প্রসঙ্গ বারবার উঠে এসেছে। কিন্তু এই বিপুল অর্থ কেন আটকে আছে বা কোন কোন খাতে কত টাকা প্রাপ্য, তার কোনো বিস্তারিত রূপরেখা জনসমক্ষে নেই। মঞ্চের মতে, এই ধোঁয়াশা কাটাতে রাজ্য সরকারের উচিত অবিলম্বে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করা।

শ্বেতপত্রে যে বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে:

  • জিএসটি (GST) ক্ষতিপূরণ বাবদ কত টাকা বাকি রয়েছে।
  • দুর্যোগ মোকাবিলা তহবিল এবং কেন্দ্রীয় প্রকল্পে রাজ্যের শেয়ারের হিসাব।
  • সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ও অন্যান্য অনুমোদিত খাতের বকেয়া বিবরণ।

বেতন, পেনশন ও ডিএ-র উপর প্রভাব

রাজ্যের আর্থিক স্বাস্থ্যের সঙ্গে সরকারি কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, প্রাপ্য অর্থ সময়মতো না পাওয়ার ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের কোষাগারের উপর। এর ফলেই কি বেতন কমিশন, পেনশন এবং বর্তমান রোপা (ROPA) রুল অনুযায়ী ৪০ শতাংশ ডিএ (Dearness Allowance) মেটাতে সমস্যা হচ্ছে? এই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ মনে করে, বকেয়া টাকা আদায় হলে তা দিয়ে শুধুমাত্র উন্নয়নমূলক কাজ ত্বরান্বিত হবে না, বরং শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী ও অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা বেতন সংশোধনের দাবিও পূরণ করা সম্ভব হবে।

সর্বদলীয় বৈঠক ও আইনি পথের ভাবনা

বিষয়টি কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজ্যের সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্ন। তাই এই ইস্যুতে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে একটি সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার প্রস্তাব দিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। তাদের দাবি:

  • কেন্দ্রের কাছে অবিলম্বে একটি কড়া ভাষায় আনুষ্ঠানিক দাবিপত্র পাঠানো হোক।
  • প্রয়োজনে বকেয়া আদায়ে সুপ্রিম কোর্ট বা সাংবিধানিক পথে আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হোক।

রাজ্যের সার্বিক উন্নয়ন এবং কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপ দাবি করেছে এই সংগঠন। এখন দেখার বিষয়, নবান্ন এই চিঠির প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

WBPAY Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি WBPAY Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।
Back to top button