Yubasathi Scheme: ১ এপ্রিলের অপেক্ষা শেষ! আজ থেকেই যুবসাথী প্রকল্পের টাকা দিচ্ছে রাজ্য সরকার
Yubasathi Scheme: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একটি অত্যন্ত স্বস্তির খবর। আসন্ন আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যের কর্মপ্রার্থীদের জন্য এক বিশেষ উপহারের কথা ঘোষণা করেছেন। পূর্বের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১ এপ্রিল থেকে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা উপভোক্তাদের দেওয়ার কথা ছিল। তবে সেই দিনক্ষণ বেশ কিছুটা এগিয়ে আনা হয়েছে। ধর্মতলার অবস্থানমঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শনিবার থেকেই সরাসরি যোগ্য উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই প্রকল্পের টাকা ঢুকতে শুরু করবে।
প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও টাইমলাইন
চলতি বছরে বিধানসভার অন্তর্বর্তীকালীন বাজেটে অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রথমবার এই যুবসাথী প্রকল্পের কথা প্রকাশ্যে আনেন। প্রশাসনিক স্তরে প্রাথমিকভাবে ১৫ অগস্ট থেকে এই সুবিধা চালুর কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যমন্ত্রী তা ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর করার নির্দেশ দেন। সেই লক্ষ্যমাত্রাকে সামনে রেখেই গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, শিবরাত্রির দিন থেকে রাজ্য জুড়ে ব্লক স্তরের বিভিন্ন শিবির এবং নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে জোরকদমে ফর্ম জমা নেওয়ার কাজ শুরু হয়।
কারা পাবেন এই আর্থিক সাহায্য?
এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল রাজ্যের তরুণ প্রজন্মকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীরা এই প্রকল্পের আওতায় টানা পাঁচ বছর ধরে প্রতি মাসে ১,৫০০ টাকা করে সরকারি অনুদান পাবেন। তবে এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে, আবেদনকারীকে অন্য কোনও সরকারি আর্থিক সাহায্য বা ভাতা পেলে চলবে না।
তবে মুখ্যমন্ত্রী ছাত্রছাত্রীদের সুবিধার্থে একটি বিশেষ ছাড়ের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, যাঁরা নিজেদের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য কোনও রকম স্কলারশিপ বা বৃত্তি পান, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। কারণ পড়াশোনার বৃত্তির টাকা তাদের সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রাপ্য।
বিপুল সাড়া এবং জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যান
রাজ্য সরকারের এই অভিনব উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই সারা রাজ্য থেকে প্রায় ৯০ লক্ষ থেকে এক কোটি বেকার যুবক-যুবতী এই মাসিক সহায়তার জন্য দরখাস্ত করেছেন।
আবেদনের নিরিখে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা। শুধুমাত্র এই জেলা থেকেই মোট ৯ লক্ষ ৩৪ হাজার ২৮৫টি আবেদন জমা পড়েছে। এর ঠিক পরেই দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে মুর্শিদাবাদ এবং উত্তর ২৪ পরগনা। এই দুই জেলা থেকে যথাক্রমে ৭ লক্ষ ১৪ হাজার ১৩৩টি এবং ৭ লক্ষ ২০ হাজার ৭০টি আবেদনপত্র জমা পড়েছে সরকারের ঘরে।