Tax Exemption Bill: লোকসভায় কর ছাড় সংক্রান্ত নতুন একটি বিল পাশ হলো। ভারতীয় অর্থনীতিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে এবং সরকারি বন্ডকে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করতেই মূলত এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ধ্বনিভোটের মাধ্যমেই সম্প্রতি ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬ লোকসভায় পাশ করানো হয়। বিরোধীদের আপত্তি সত্ত্বেও কেন্দ্র শেষ পর্যন্ত বিলটি পাশ করিয়ে নেয়। এদিকে, এই নতুন আইনটি গত ৫ই জুন জারি করা অধ্যাদেশ বা অর্ডিন্যান্সের স্থলাভিষিক্ত হবে।
সূচিপত্র
লোকসভায় ট্যাক্স ছাড় বিলের প্রধান বিষয়বস্তু
নতুন এই আইনের আওতায় বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী অর্থাৎ FII/FPI এবং ব্যাঙ্ক ফর ইন্টারন্যাশনাল সেটেলমেন্টস বা BIS-এর জন্য বড় ধরনের কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করার সুবাদে প্রাপ্ত সুদ এবং ক্যাপিটাল গেইনস এখন থেকে সম্পূর্ণ ট্যাক্স মুক্ত থাকছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা দেশের সরকারি বন্ডে আরও বেশি পরিমাণে অর্থ ঢালতে উৎসাহিত হবেন। সরকারের জোরালো আশা, এর হাত ধরে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাবে এবং মূলধনের ঘাটতিও দূর হবে।
বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর বিধিতে অতিরিক্ত ছাড়
কেবল সরকারি বন্ডের ক্ষেত্রেই নয়, অফশোর ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড সংক্রান্ত আয়কর বিধিগুলোও এই বিলে বেশ সহজ করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ভারতকে বৈশ্বিক ফান্ড ম্যানেজমেন্টের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা।
পাশাপাশি দেশের অন্যান্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের ট্যাক্স নিয়মেও বড় ধরনের শিথিলতা আনা হয়েছে:
- ইলেকট্রনিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং: উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগ টানতে নিয়মকানুন সহজ করা হয়েছে।
- ডেটা সেন্টার: বিদেশি প্রযুক্তি জায়ান্টদের জন্য বিশেষ কর সুবিধার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- হিরে শিল্প: ডায়মন্ড সেক্টরে ব্যবসা আরও সহজ ও সাবলীল করার উদ্দেশ্যে করের নিয়মে নমনীয়তা আনা হয়েছে।
দেশের অর্থনীতিতে নতুন এই ছাড়ের প্রভাব
আন্তর্জাতিক বাজারের বর্তমান অস্থিরতার কথা মাথা রেখেই সরকারের এই সিদ্ধান্তকে বেশ ইতিবাচক চোখে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই কর ছাড়ের ফলে একাধিক সুবিধা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে:
- সরকার এখন তুলনামূলক কম সুদে বা কম খরচে ঋণ নিতে পারবে।
- টাকার মূল্যের ওপর থেকে বাড়তি চাপ কিছুটা কমবে।
- বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার আরও বেশি শক্তিশালী হবে।
দীর্ঘমেয়াদি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে এবং বিশ্ববাজারে ভারতের অর্থনীতিকে চাঙ্গা রাখতে এই পদক্ষেপ যে অত্যন্ত বড় ভূমিকা নেবে, সে বিষয়ে এক প্রকার নিশ্চিত কেন্দ্রীয় সরকার।









