8th Pay Commission: অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশন গঠন ঘিরে সরকারি দপ্তরে এখন সাজ সাজ রব। সম্প্রতি ভারতীয় প্রতিরক্ষা মজদুর সঙ্ঘ (বিপিএমএস) তাদের একটি খসড়া মেমোর্যান্ডাম প্রকাশ করতেই আলোচনা এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। এই খসড়ায় বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে সুযোগ-সুবিধা—সবকিছুতেই আমূল বদলের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই পরিবর্তনগুলো নিয়ে বর্তমানে শ্রমিক মহলে ব্যাপক শোরগোল শুরু হয়েছে।
সূচিপত্র
ন্যূনতম বেতন ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তির দাবি
বিপিএমএস-এর সাফ কথা, ১৮ হাজার টাকা দিয়ে বর্তমান বাজারে দিন চালানো কার্যত অসম্ভব। মাথাপিছু নিট জাতীয় পণ্য (NNP) বৃদ্ধির খতিয়ান তুলে ধরে সংগঠনটি দাবি করেছে, বেতন সংশোধন হতে হবে সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে। দেশের মানুষের গড় আয় যে হারে বেড়েছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ন্যূনতম বেতন ৭২ হাজার টাকা করার জোরালো আর্জি জানানো হয়েছে তাদের প্রস্তাবে।
পরিবারের সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি। সপ্তম বেতন কমিশন পরিবার বলতে ৩ জন সদস্যকে বুঝিয়েছিল। তবে এ দেশের সংস্কৃতিতে একজন কর্মচারীর ওপর কেবল স্ত্রী বা সন্তান নয়, বরং নির্ভরশীল বাবা-মায়ের দায়িত্বও থাকে। তাই ৫ জনের ইউনিটের ভিত্তিতে বেতন নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। গাণিতিক হিসেবে অঙ্কটা ৮৮ হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেলেও সরকারি কোষাগারের সামর্থ্যের কথা মাথায় রেখে প্রস্তাবটি ৭২ হাজার টাকায় সীমিত রাখা হয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ও ইনক্রিমেন্ট নিয়ে বড় প্রস্তাব
বেতন বৃদ্ধির আসল চাবিকাঠি হলো ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। বিপিএমএস চাইছে ৪.০০ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করে সমস্ত স্তরের কর্মীদের বেতন বাড়ানো হোক। মনে রাখা দরকার, গতবার এই ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। এই চার গুণ বৃদ্ধি কার্যকর হলে কর্মচারীদের হাতে থাকা প্রকৃত আয়ের পরিমাণ লক্ষ্যণীয়ভাবে বেড়ে যাবে।
অন্যদিকে, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট বা বেতন বৃদ্ধির হার ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ করার দাবি তোলা হয়েছে। মূল্যস্ফীতির এই বাজারে ৩ শতাংশ ইনক্রিমেন্টকে কার্যত নগণ্য বলেই মনে করেন সরকারি কর্মীরা। ইনক্রিমেন্ট যদি ৬ শতাংশ হয়, তবেই তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং বর্তমান বাজারে কেনাকাটার ক্ষমতা বা ক্রয়ক্ষমতা বজায় থাকবে।
সর্বশেষ আপডেট
এদিকে সরকারি সূত্রে খবর, গত ১৮ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ডিএ বা মহার্ঘ ভাতা ২ শতাংশ বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের মোট ডিএ ৫৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬০ শতাংশে পৌঁছেছে। এই নতুন হার ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। বিপিএমএস যদিও তাদের খসড়ায় ৫৮ শতাংশ ডিএ ধরে হিসেব কষেছিল, তবে বর্তমান হারে তা কর্মীদের পকেটে আরও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
কর্মচারীদের ওপর এই প্রস্তাবের প্রভাব
এই প্রস্তাবগুলো যদি শেষ পর্যন্ত কমিশন মেনে নেয়, তবে নিচুতলার কর্মীদের জীবনযাত্রায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। ৭২ হাজার টাকা বেতন হলে শুধু বর্তমান আর্থিক স্বচ্ছলতা আসবে তা-ই নয়, দীর্ঘমেয়াদে পেনশনের অঙ্কটাও বেশ মোটা হবে। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতা কমাতে পে-লেভেল সংযুক্তিকরণের যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তাতে কর্মীদের পদোন্নতি ও কর্মজীবন আরও মসৃণ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।