Annapurna Bhandar: পশ্চিমবঙ্গের নারীশক্তিকে স্বনির্ভর ও আর্থিকভাবে সুরক্ষিত করতে নতুন রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি মতো ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল। বিগত সরকারের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের বদলে এবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করল ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ বা ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের ২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জন উপযুক্ত মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এককালীন ৩০০০ টাকা সরাসরি ট্রান্সফার করা হয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দেওয়া গ্যারান্টি মেনেই রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূচিপত্র
প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ (Key Points)
- আর্থিক অনুদান: নতুন যোজনায় যোগ্য মহিলাদের সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে প্রদান করা হচ্ছে।
- উপভোক্তার সংখ্যা: মাত্র তিনদিনের ভেরিফিকেশনের পর প্রথম দফায় ২৮,২৫,৭৬৯ জন মহিলার অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হয়েছে।
- ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া: এই নতুন আবেদন ও যাচাই প্রক্রিয়া আগামী তিন মাস ধরে চলবে। প্রতি সাত দিন অন্তর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী রিপোর্টের মাধ্যমে নতুন উপভোক্তাদের তালিকা প্রকাশ করবেন।
- দুর্নীতি রোধ: বিগত সরকারের আমলের সমস্ত ভুয়ো নাম, অনুপ্রবেশকারী এবং পুরুষ উপভোক্তাদের নাম তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে।
- সহায়তা প্রদান: যে সকল মহিলারা অনলাইনে বা সরাসরি কেন্দ্রে গিয়ে ফর্ম পূরণ করতে পারবেন না, তাদের জন্য সরকারি কর্মীরা বাড়িতে গিয়ে ফর্ম ফিলাপ করে আনবেন।
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বনাম অন্নপূর্ণা যোজনা: কী কী পরিবর্তন হলো?
বিগত সরকারের সামাজিক প্রকল্পটিতে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ ছিল। সেই ত্রুটিগুলি সংশোধন করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনা বাস্তবায়িত করা হচ্ছে। নিচে মূল পার্থক্যগুলি আলোচনা করা হলো:
| বিষয় | আগের প্রকল্প (লক্ষ্মীর ভাণ্ডার) | বর্তমান প্রকল্প (অন্নপূর্ণা যোজনা) |
|---|---|---|
| আর্থিক অনুদানের পরিমাণ | ১৫০০ টাকা | প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা |
| স্বচ্ছতা ও যাচাই প্রক্রিয়া | যাচাইকরণে গাফিলতির অভিযোগ ছিল | কঠোর ভেরিফিকেশন, ভুয়ো নাম বাতিল |
| নাগরিকত্ব শর্ত | সঠিকভাবে যাচাই করা হতো না | অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নাম স্থায়ীভাবে বাদ (তবে CAA আবেদনকারী ও শরণার্থীরা ছাড় পাবেন) |
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন? (Eligibility)
মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করেছেন যে, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। যারা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে বাংলাদেশ থেকে এসে পশ্চিমবঙ্গে আশ্রয় নিয়েছেন এবং CAA-এর আওতায় আবেদন করেছেন (বা সার্টিফিকেট পেয়েছেন), তাদের নাম বাতিল করা হয়নি; তারাও এই প্রকল্পের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। তবে যারা বয়স ভাঁড়িয়ে, ভুয়ো পরিচয় দিয়ে বা অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হয়ে আগের প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছিলেন, তাদের সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য নতুন করে ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে আবেদন করার পদ্ধতিগুলি উল্লেখ করা হলো:
- ফর্ম সংগ্রহ: স্থানীয় ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিস (BDO), পুরসভা বা কর্পোরেশনের বোরো অফিস থেকে সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম সংগ্রহ করতে পারবেন।
- বাড়িতে বসে সুবিধা: যে সকল বয়স্ক বা অসুস্থ মহিলা বাড়ির বাইরে যেতে অক্ষম বা ফর্ম পূরণ করতে পারেন না, তাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। রাজ্য সরকারের নিযুক্ত কর্মীরা সরাসরি বাড়িতে গিয়ে ফর্ম পূরণ ও ভেরিফিকেশনের কাজ সম্পন্ন করবেন।
- সরাসরি অভিযোগ ও যোগাযোগ: সাধারণ মানুষ যাতে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা দালাল ছাড়াই সরাসরি সরকারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, তার জন্য একটি নতুন নম্বর চালু করা হয়েছে। আবেদন সংক্রান্ত কোনো সমস্যা হলে সেই নম্বরে যোগাযোগ করে সমাধান পাওয়া যাবে।
- অনলাইনে ফরম পূরণ: আজ থেকেই অনলাইনে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের ফরম পূরণ শুরু হয়েছে।
রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপ পশ্চিমবঙ্গের নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি স্বাস্থ্য সাথী কার্ডকে আয়ুষ্মান ভারতের সাথে সংযুক্তিকরণ এবং মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে (SBSTC, NBSTC) বিনামূল্যে যাতায়াতের মতো উদ্যোগগুলি নারীদের সার্বিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।









