Annapurna Yojana Update: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খবর। গত ৪ঠা জুলাই ২০২৬ তারিখে রাজ্যের মুখ্যসচিবের উপস্থিতিতে এই প্রকল্পের সুবিধা বিতরণের পর একটি বিশেষ রিভিউ মিটিং বা পর্যালোচনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, বিশেষ করে সেই সমস্ত উপভোক্তাদের জন্য যাদের আবেদন বাতিল হয়েছে বা যারা এখনও প্রকল্পের টাকা পাননি। আপনিও যদি এই প্রকল্পের আবেদনকারী হয়ে থাকেন, এই বিশেষ প্রতিবেদনটি আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি।
সূচিপত্র
অন্নপূর্ণা যোজনা: বর্তমান পরিসংখ্যান একনজরে
এই প্রকল্পের আওতায় জমা পড়া লক্ষ লক্ষ আবেদনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো, যাতে আপনারা বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ধারণা পান:
| আবেদনের ধরন | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট জমা পড়া আবেদন | ১.৬২ কোটি |
| অনুমোদিত (Approved) আবেদন | ১.২২ কোটি |
| সাময়িকভাবে বাতিল (Provisionally Rejected) | ২৭.৮৩ লক্ষ |
কেন বাতিল হলো লক্ষ লক্ষ ফর্ম?
মিটিংয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রায় ২৭.৮৩ লক্ষ ফর্ম ফাইনাল বা চূড়ান্তভাবে নয়, বরং সাময়িকভাবে বাতিল (Provisionally Rejected) করা হয়েছে। মূলত সরকারের নির্ধারিত কিছু এক্সক্লুশন ক্রাইটেরিয়া (Exclusion Criteria) বা বাদ দেওয়ার মাপকাঠির জন্যই এই ফর্মগুলি বাতিল হয়েছে:
- আয়কর প্রদান: পরিবারের কোনো সদস্য যদি ইনকাম ট্যাক্স বা আয়কর প্রদান করেন, তবে সেই পরিবার এই প্রকল্পের আওতার বাইরে থাকবে।
- বড় বাড়ি: পরিবারের যদি তিনটির বেশি থাকার ঘর বা রুম থাকে, সেক্ষেত্রেও আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
- জিএসটি (GST) প্রদান: পরিবারের কেউ যদি বড় ব্যবসায়ী হন এবং সরকারের ঘরে জিএসটি প্রদান করেন, তাদের ফর্মও বাতিল করা হয়েছে।
যাদের ফর্ম বাতিল হয়েছে বা অফলাইনে জমা দিয়েছেন, তাদের কী হবে?
আপনার ফর্ম যদি বাতিল হয়ে থাকে, তবে এখনই হতাশ হওয়ার কিছু নেই। সরকার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে, কোনো যোগ্য উপভোক্তা যেন এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ না যান এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি যেন অন্যায়ভাবে সুবিধা না পান।
- ফিল্ড ভেরিফিকেশন (Field Verification): সাময়িকভাবে বাতিল হওয়া ফর্মগুলির জন্য ৫ই জুলাই ২০২৬ থেকে ফিল্ড লেভেলে এনকোয়ারি বা সরাসরি যাচাইকরণের কাজ শুরু হচ্ছে। আগামী ৭ দিনের মধ্যে আধিকারিকরা সরাসরি বাস্তবে গিয়ে তদন্ত করে দেখবেন যে ফর্মটি সত্যিই বাতিল হওয়ার যোগ্য কিনা। যদি দেখা যায় ভুলবশত বাতিল হয়েছে, তবে তা পুনরায় অনুমোদন করা হবে।
- অফলাইন ফর্মের স্ট্যাটাস: যে সমস্ত আবেদনকারী জেকেএস (JKS) বা অন্য কোনো ক্যাম্প থেকে অফলাইনে ফর্ম জমা দিয়েছিলেন, তাদের ফর্মগুলিকে দ্রুত ডিজিটাল মোডে রূপান্তরিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১০ই জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে এই অফলাইন ফর্মগুলির এনকোয়ারি করে অনুমোদন বা বাতিল করার উপযুক্ত কারণ সহ পোর্টালে রেকমেন্ডেশন আপলোড করতে হবে।
টাকা আটকে থাকলে বা অভিযোগ থাকলে কী করবেন?
- ব্যাংক বা আধার সমস্যা: আধার কার্ড বা ব্যাংকের কেওয়াইসি (KYC) সংক্রান্ত কোনো সমস্যার কারণে যদি কারো পেমেন্ট আটকে গিয়ে থাকে বা ফেলিওর (Failure) হয়, তবে আধিকারিকদের সরাসরি ব্যাংকের সাথে কথা বলে দ্রুত সেই সমস্যার সমাধান করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- নতুন অভিযোগ জানানোর সুবিধা: আপনার ফর্ম কেন বাতিল হলো, তা নিয়ে যদি আপনার কোনো অভিযোগ থাকে, তবে আপনি যাতে সরাসরি পোর্টালে (Portal) ক্লেইম বা অবজেকশন জানাতে পারেন, তার জন্য এনআইসি (NIC) -কে ওয়েবসাইট আপডেট করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পোর্টালে এই নতুন প্রযুক্তি এলে আবেদনকারীরা সহজেই নিজেদের অভিযোগ জানাতে পারবেন।
আগামী ১লা আগস্ট ২০২৬ তারিখে এই পুরো প্রক্রিয়ার অগ্রগতি এবং ফেলিওর নিয়ে পরবর্তী রিভিউ মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। তাই আপনার ফর্ম বাতিল হয়ে থাকলেও, ফিল্ড ভেরিফিকেশনে যোগ্য বিবেচিত হলে আপনি অবশ্যই প্রকল্পের টাকা পাবেন। প্রকল্পের পরবর্তী সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ আপডেটের জন্য নিয়মিত চোখ রাখুন wbpay.in পোর্টালে।









