Bill Drawal Order: অর্থ দপ্তরের সাম্প্রতিক এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট হেডে অ্যালোটমেন্ট বা ফান্ড না থাকলেও এখন থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল ট্রেজারি থেকে পাশ করা যাবে। মূলত অর্থ দপ্তরের মেমো নম্বর 1385-F(Y) অনুযায়ী এই সুবিধা মিলবে।
সাধারণত দেখা যায়, হেড অফ অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকলে কোনো বিলই, এমনকি বেতন সংক্রান্ত বিলও ট্রেজারি থেকে পাশ করানো সম্ভব হয় না। এই জট কাটাতেই এবার তৎপর হল রাজ্য। তবে এই স্বস্তির খবরের মাঝেই একটি অস্বস্তি দানা বেঁধে রয়েছে। বাজেটে ঘোষিত ৪ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা (DA) প্রদানের প্রশাসনিক অর্ডার এখনও প্রকাশ পায়নি, যা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনারদের মধ্যে চরম উদ্বেগ কাজ করছে।
সূচিপত্র
কোন কোন বিলে মিলবে এই বিশেষ সুবিধা?
সাধারণ নিয়ম বলছে, ডব্লিউবিটিআর (WBTR), ২০০৫-এর ৪.০০৮ ধারা অনুযায়ী অ্যালোটমেন্ট ছাড়া ট্রেজারি বা পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিস কোনো বিল গ্রহণ করতে পারে না। তবে ১৭ এপ্রিল প্রকাশিত নতুন নির্দেশিকায় এই নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত অর্থাৎ চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে এই বিশেষ সুবিধা কার্যকর থাকবে।
তালিকাটি বেশ দীর্ঘ। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সরকারি কর্মীদের নিয়মিত বেতন, পারিশ্রমিক এবং মজুরির বিল। এছাড়া যারা আগামী তিন মাসের মধ্যে অবসর নিতে চলেছেন, তাদের এলটিসি (LTC) সংক্রান্ত বিল এবং অগ্রিমও এই আওতাভুক্ত করা হয়েছে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিক এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের চিকিৎসার বিল মেটানোর ক্ষেত্রেও আর অ্যালোটমেন্টের জন্য বসে থাকতে হবে না। বেওয়ারিশ মৃতদেহ সৎকার এবং অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার মতো জরুরি খরচও এই তালিকার বাইরে রাখা হয়নি।
স্বাস্থ্য পরিষেবা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে প্রাপ্তি
চিকিৎসাক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন পরিষেবা নিশ্চিত করতে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বেতন এবং ইন্টার্ন ও নার্সদের স্টাইপেন্ড অ্যালোটমেন্ট ছাড়াই পাশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি অ্যাডহক ভিত্তিতে নিযুক্ত চিকিৎসকদের বেতনও এই নতুন নিয়মে মিলবে।
অর্থ দপ্তর স্পষ্ট জানিয়েছে, ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম ২০০৮ এবং ক্যাশলেস মেডিক্যাল ট্রিটমেন্ট স্কিমের অধীনে চিকিৎসার খরচ বা অ্যাডভান্স বিল দ্রুত মেটাতে হবে। অন্যদিকে, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের সাম্মানিক, স্বাধীনতা সংগ্রামীদের পেনশনের রাজ্যের অংশ এবং সরকারি হাসপাতালে নিযুক্ত নিরাপত্তা ও সাফাই কর্মীদের পাওনা মেটানোর ক্ষেত্রেও ‘ইন অ্যান্টিসিপেশন অফ অ্যালোটমেন্ট’ নিয়মটি কার্যকর হবে।
কর্মীদের ওপর এর প্রভাব ঠিক কতটা?
আর্থিক বছরের শুরুতে অনেক সময় বিভিন্ন দপ্তরে ফান্ড পৌঁছতে দেরি হয়। এই বিজ্ঞপ্তির ফলে সেই প্রশাসনিক জটিলতায় কর্মীদের বেতন বা পেনশন আর আটকে থাকবে না। ট্রেজারি বা ডিডিও স্তরে আইএফএমএস-এর ই-বণ্টন মডিউলের মাধ্যমে ফান্ড রিলিজ হওয়ার আগেই সরাসরি কর্মীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। এটি নিশ্চিতভাবেই এক বড় প্রাপ্তি।
তবে প্রশাসনিক দপ্তরগুলিকে কিছুটা সতর্কও করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নিয়মিত এই বিলগুলি পর্যালোচনা করতে হবে এবং ১৫ জুন ২০২৬-এর মধ্যে দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের ফান্ডের চাহিদা অর্থ দপ্তরে পাঠাতে হবে। যদি কোনো নির্দিষ্ট হেডে আগে থেকেই ফান্ড পড়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ডিডিও-রা এই বিশেষ নিয়মের সুযোগ নিতে পারবেন না। এছাড়া যে সমস্ত খাতে এই ছাড় দেওয়া হয়েছে, সেখান থেকে টাকা অন্য কোনো খাতে সরিয়ে নেওয়া বা ‘রি-অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন’ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
ডিএ নিয়ে কেন বাড়ছে দুশ্চিন্তা?
বেতন বিল পাশের পথ সুগম হলেও মহার্ঘ ভাতা নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভের আগুন নেভেনি। সুপ্রিম কোর্ট মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু রাজ্য বাজেটে ঘোষিত নতুন ৪ শতাংশ ডিএ বৃদ্ধির সরকারি আদেশনামা (GO) এখনও ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে।
ফলে এপ্রিল গড়িয়ে গেলেও বর্ধিত হারে টাকা হাতে পাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন রাজ্যের লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ও অবসরপ্রাপ্তরা। সরকার শেষ পর্যন্ত কবে এই অর্ডার জারি করে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে সরকারি কর্মীবৃন্দ।