DA Case Judgment: ডিএ (Dearness Allowance) বা মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য একটি অত্যন্ত খুশির খবর। সম্প্রতি পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট ডিএ এবং ডিআর (Dearness Relief) বকেয়া মেটানোর বিষয়ে একটি যুগান্তকারী রায় প্রদান করেছে। এই রায়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, আর্থিক সংকটের অজুহাত দেখিয়ে সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। এই রায় শুধুমাত্র পাঞ্জাবের কর্মীদের জন্যই নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলার ক্ষেত্রেও সুপ্রিম কোর্টে কর্মীদের আইনি অবস্থানকে অনেকটাই শক্তিশালী করল।
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের রায়ের মূল নির্দেশিকা
পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের মাননীয় বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। রায়ের মূল বিষয়গুলি নিচে তুলে ধরা হলো:
- দু মাসের মধ্যে বকেয়া মেটানোর নির্দেশ: আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখের মধ্যে সমস্ত বকেয়া ডিএ এবং ডিআর মিটিয়ে দেওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
- বয়স ভিত্তিক বিভাজন বাতিল: পাঞ্জাব সরকার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ তারিখে একটি নির্দেশিকা জারি করে বয়স অনুযায়ী ধাপে ধাপে পেনশন এরিয়ার মেটানোর যে পরিকল্পনা (Liquidation Plan) করেছিল, তা ভারতীয় সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করে। তাই আদালত এটিকে বৈষম্যমূলক এবং অসাংবিধানিক বলে বাতিল করেছে। সমস্ত পেনশনভোগীদের একটি অভিন্ন শ্রেণী (Homogenous Class) হিসেবে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদান: অল ইন্ডিয়া সার্ভিস (IAS, IPS, IFS) অফিসারদের মতো সাধারণ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদেরও কেন্দ্রীয় সরকারের প্যাটার্ন (AICPI) মেনে সমান হারে ডিএ দিতে হবে। কর্মচারীদের মধ্যে কোনো দ্বিচারিতা বা বৈষম্য বরদাস্ত করা হবে না।
- সুদ সহ টাকা ফেরতের হুঁশিয়ারি: নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া না মেটালে, রাজ্য সরকারকে বিলম্বিত সময়ের জন্য সুদ সহ বকেয়া টাকা মেটাতে হবে। আগামী ২ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে রাজ্যের মুখ্য সচিবকে এই বিষয়ে একটি কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গের ডিএ মামলার উপর প্রভাব
এই রায়টি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ সরকারও সুপ্রিম কোর্টে আর্থিক সংকটের কারণ দেখিয়ে ডিএ দিতে বারবার অস্বীকার করেছে এবং কর্মীদের মধ্যে বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট জানিয়েছে, “Financial constraints cannot be a ground to deny acquired service benefits.” অর্থাৎ, কোষাগারে টাকার অভাব কখনোই কর্মচারীদের অর্জিত অধিকার খর্ব করার কারণ হতে পারে না। এই জোরালো আইনি পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের বকেয়া ডিএ মামলাটিকে আরও মজবুত করবে।