ইনকাম ট্যাক্স

Income Tax Monitoring: সোশ্যাল মিডিয়া ও ব্যক্তিগত খরচে নজরদারি চালাচ্ছে আয়কর দপ্তর? জানুন আসল সত্য ও নিয়ম

Mobile And Income Tax Department Logo
Mobile And Income Tax Department Logo

Income Tax Monitoring: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি খবর আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে দাবি করা হয় যে ভারতের আয়কর দপ্তর বা ইনকাম ট্যাক্স ডিপার্টমেন্ট (ITD) সাধারণ নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর কড়া নজরদারি চালাচ্ছে। দাবি করা হয়েছিল, আপনার ইমেল, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট, অনলাইন কেনাকাটা, ডিজিটাল পেমেন্ট এবং ব্যক্তিগত অ্যাপের কার্যকলাপেও নাকি নজর রাখছে সরকার। স্বাভাবিকভাবেই এই খবর সাধারণ মানুষের মধ্যে, বিশেষ করে করদাতাদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করে। তবে এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (PIB)-এর ফ্যাক্ট চেক ইউনিট স্পষ্ট জানিয়েছে যে, এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর।

পিআইবি-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আয়কর দপ্তর নাগরিকদের ব্যক্তিগত ডিজিটাল কার্যকলাপ বা জীবনযাত্রার ওপর কোনো নজরদারি চালায় না। ইন্টারনেটে ভাইরাল হওয়া ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল যে, ট্রেডিং অ্যাপ থেকে শুরু করে লাইফস্টাইল সংক্রান্ত তথ্যেও সরকারের অ্যাক্সেস রয়েছে। কিন্তু সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, বর্তমান আইনি ব্যবস্থায় এমন কোনো ট্র্যাকিং মেকানিজম বা পদ্ধতি নেই।

সূচিপত্র

আসল সত্য কী? আয়কর দপ্তর কীসের ওপর নজর রাখে?

সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব বিশ্বাস না করে সঠিক নিয়মটি জানা অত্যন্ত জরুরি। আয়কর দপ্তর মূলত ‘স্টেটমেন্ট অফ ফিনান্সিয়াল ট্রানজাকশনস’ (SFT)-এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে। এটি কোনো ব্যক্তিগত নজরদারি নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট অংকের ওপরে হওয়া লেনদেনের হিসাব। ব্যাঙ্ক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি নিয়ম মেনে এই তথ্য আয়কর দপ্তরে জমা দেয়। অর্থাৎ, আপনি অনলাইনে কী কিনছেন বা কোথায় ঘুরতে যাচ্ছেন, তা নিয়ে দপ্তরের কোনো মাথাব্যথা নেই। তাদের মূল লক্ষ্য হলো কর ফাঁকি রোধ করা এবং বড় অংকের লেনদেনে স্বচ্ছতা বজায় রাখা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি সম্পূর্ণভাবে লেনদেন-ভিত্তিক একটি প্রক্রিয়া। এখানে ব্যক্তিগত বা আচরণগত প্রোফাইলিংয়ের কোনো জায়গা নেই। যতক্ষণ একজন করদাতা তাঁর আয় এবং বড় লেনদেনের সঠিক তথ্য আয়কর রিটার্নে (ITR) জমা দিচ্ছেন, ততক্ষণ ভয়ের কোনো কারণ নেই।

Advertisement

কোন কোন লেনদেনের তথ্য আয়কর দপ্তরে যায়?

আয়কর আইন, ১৯৬১-এর সেকশন ২৮৫বিএ এবং রুল ১১৪ই অনুযায়ী, একটি আর্থিক বছরে নির্দিষ্ট সীমার ওপর লেনদেন হলে তা রিপোর্ট করতে হয়। এই নিয়মটি মূলত কালো টাকা উদ্ধার এবং কর ব্যবস্থা স্বচ্ছ রাখার জন্য তৈরি। নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে দেখে নিন কোন কোন লেনদেন এই নিয়মের আওতায় পড়ে:

লেনদেনের ধরননির্ধারিত সীমা (আর্থিক বছরে)
সেভিংস বা ফিক্সড ডিপোজিট অ্যাকাউন্টে নগদ জমা১০ লক্ষ টাকার বেশি
কারেন্ট অ্যাকাউন্টে নগদ জমা বা তোলা৫০ লক্ষ টাকার বেশি
ক্রেডিট কার্ডের বিল পেমেন্ট (নগদে)১ লক্ষ টাকার বেশি
ক্রেডিট কার্ডের বিল পেমেন্ট (অন্যান্য মোডে)১০ লক্ষ টাকার বেশি
শেয়ার, বন্ড, ডিবেঞ্চার বা মিউচুয়াল ফান্ড ক্রয়১০ লক্ষ টাকার বেশি
স্থাবর সম্পত্তি (জমি/বাড়ি) ক্রয় বা বিক্রয়৩০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি

নোটিশ কখন আসতে পারে?

অনেক সময় করদাতারা ভাবেন যে বড় লেনদেন করলেই বুঝি আয়কর নোটিশ আসবে। বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র তখনই নোটিশ পাঠানো হয় যখন আপনার প্যান কার্ডের সঙ্গে লিঙ্ক করা এই ‘হাই ভ্যালু ট্রানজাকশন’ এবং আপনার দাখিল করা আয়কর রিটার্নের তথ্যের মধ্যে কোনো অসামঞ্জস্য বা গরমিল পাওয়া যায়।

যদি কোনো গরমিল ধরা পড়ে, তবে আয়কর দপ্তর কারণ দর্শানোর নোটিশ (Show Cause Notice) পাঠাতে পারে। তবে এতেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। যদি করদাতা উপযুক্ত প্রমাণসহ সেই লেনদেনের যথার্থতা প্রমাণ করতে পারেন এবং আয়ের উৎসের সঠিক ব্যাখ্যা দেন, তবে আর কোনো আইনি জটিলতা বা স্ক্রুটিনির মুখোমুখি হতে হয় না। সুতরাং, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য প্রদানই হলো নিশ্চিন্ত থাকার চাবিকাঠি।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>