পশ্চিমবঙ্গের স্পনসরড মাধ্যমিক স্কুলগুলির প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় ধরনের রদবদল আনল স্কুল শিক্ষা দপ্তর। বিকাশ ভবন থেকে ১৪ মে ২০২৬ তারিখে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে (নম্বর: 582-SE/S/5C-01/2026), যার মাধ্যমে রাজ্যের স্পনসরড স্কুলগুলির ম্যানেজিং কমিটিতে শিক্ষা দপ্তরের মনোনীত সভাপতি এবং শিক্ষা অনুরাগী বা পিআইই (Persons Interested in Education) সদস্যদের পদগুলি অবিলম্বে বাতিল করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র দপ্তরের গত ১১ মে তারিখের ৮৬১-হোম(কনস)/আর১এম(কনস)-৪০/২০২৬ নম্বর চিঠির প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আদেশের ফলে রাজ্যের হাজার হাজার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির শীর্ষ পদগুলো এখন খালি, যার অর্থ দাঁড়াল—পুরানো পরিচালন সমিতিগুলো কার্যত ভেঙে পড়েছে।
সূচিপত্র
কেন এই সিদ্ধান্ত এবং কোন নিয়মে বদল
১৯৭২ সালের ম্যানেজিং কমিটি রুলস ফর স্পনসরড ইনস্টিটিউশন (সেকেন্ডারি)-এর নিয়ম মেনেই এতদিন স্কুলগুলোতে সরকার বা শিক্ষা দপ্তর নিজেদের পছন্দমতো সভাপতি এবং পিআইই সদস্য মনোনীত করতে পারত। নিয়মটির সেকশন ৫, সাব-সেকশন (i) ও (iv)-এর সুযোগ নিয়েই এই মনোনয়ন চলত। তবে নতুন নির্দেশিকায় সেই সব মনোনয়ন পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
ডিডিও নিয়োগের জরুরি নির্দেশ
স্কুলের আর্থিক লেনদেন বা শিক্ষকদের বেতন নিয়ে যাতে কোনো সমস্যা তৈরি না হয়, সেজন্য শিক্ষা দপ্তর প্রতিটি জেলার ডিআই-দের (District Inspector of Schools) কড়া নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিটি স্কুলে দ্রুত একজন ডিডিও (Drawing and Disbursing Officer) নিয়োগ করতে বলা হয়েছে, যাতে প্রশাসনিক কাজ থমকে না যায়। সাধারণত স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা টিআইসি এই দায়িত্ব পাবেন, তবে বিশেষ প্রয়োজনে শিক্ষা দপ্তর অন্য কোনো আধিকারিককেও এই দায়িত্ব দিতে পারে।
স্কুলের উপর এর ব্যবহারিক প্রভাব
এই পরিবর্তনের ফলে প্রাত্যহিক কাজকর্মে বেশ কিছু বদল আসবে:
- স্কুলের ফিনান্সিয়াল বিলে সই করার দায়িত্ব এখন থেকে ডিডিও-র হাতে থাকবে।
- নতুন অ্যাড-হক কমিটি বা প্রশাসক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত ম্যানেজিং কমিটির নেওয়া নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো স্থগিত থাকবে।
- শিক্ষক-শিক্ষাকর্মীদের সার্ভিস বুক বা জিপিএফ লোনের মতো জরুরি অনুমোদনের ক্ষেত্রেও ডিডিও-র ভূমিকাই প্রধান হবে।
“অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন”-এর রাজ্য সম্পাদক চন্দন গরাই এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক বলেই মনে করছেন। তাঁর কথায়, আগে অনেক ক্ষেত্রেই অগণতান্ত্রিকভাবে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের এই পদে বসানো হতো, যা এখন থেকে বন্ধ হবে।