SSC Case Update: সুপ্রিম কোর্টে এসএসসির নিয়োগ সংক্রান্ত মামলায় আজ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চে অনুষ্ঠিত এই শুনানিতে রাজ্য সরকার এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদন জানানো হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট এই আবেদন মঞ্জুর করে সময়সীমা ৩১ মে, ২০২৭ পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে। তবে আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে যে, এটিই শেষবারের মতো সময়সীমা বৃদ্ধি। এরপর আর কোনোভাবেই এই প্রক্রিয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় দেওয়া হবে না। এই নির্দেশ নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি বড় বার্তা।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টে শেষবারের মতো সময়সীমা বৃদ্ধি
আজকের শুনানিতে মূলত তিনটি থেকে চারটি ভিন্ন আবেদন ছিল। সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি বিচারপতি শুরুতেই মেনে নিলেও, অন্যান্য বিষয়ে আদালত কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের আজকের এই চূড়ান্ত নির্দেশের ফলে নিয়োগকারী সংস্থাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার বাধ্যবাধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের চরম দুর্দশা
বিশেষ করে গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের বিষয়টি এদিন শুনানিতে জোরালোভাবে উঠে আসে। বিগত ১৮ মাস ধরে বেতন না পেয়ে চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন এই কর্মীরা। বারবার সময়সীমা বৃদ্ধি করার ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে, যা এই কর্মীদের দুর্দশা আরও বাড়িয়ে তুলছে। আদালতে এক আইনজীবী গ্রুপ সি এবং ডি কর্মীদের পক্ষ থেকে এই সময়সীমা বৃদ্ধির তীব্র বিরোধিতা করেন। তাঁর যুক্তি ছিল, যত বেশি সময়সীমা বাড়ানো হবে, বিনা বেতনে থাকা এই কর্মীদের জীবনজীবিকা তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলে তারা পুনরায় মূল স্রোতে ফিরে আসার সুযোগ পাবেন। আদালত এই বিষয়টিতে সহানুভূতি দেখালেও সময়সীমা বৃদ্ধি ছাড়া বিকল্প কোনো পথ এই মুহূর্তে খোলা ছিল না।
গ্রীষ্মকালীন অবকাশ এবং আইনজীবীদের যুক্তি
আদালতে এদিন মে মাসের পরিবর্তে জুলাই মাস পর্যন্ত সময়সীমা বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। আইনজীবীদের যুক্তি ছিল, মে থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত আদালতে গ্রীষ্মকালীন অবকাশ থাকে। তাই মে মাসের শেষে মেয়াদ শেষ হলে প্রয়োজনে আদালতে কোনো জরুরি বিষয় উত্থাপন করা কঠিন হবে। কিন্তু বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, গ্রীষ্মকালীন ছুটিতেও আদালতে আংশিক কাজকর্ম চালু থাকে। তাই প্রয়োজন হলে সেই সময়েও আদালতে আসা যাবে। এর পাশাপাশি তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৩১ মে, ২০২৭-এর পর আর কোনো এক্সটেনশন দেওয়া হবে না।
ওবিসি ৭% ও ১৭% সংরক্ষণের জট হাইকোর্টে
এদিনের শুনানির অন্যতম আকর্ষণ ছিল ওবিসি ক্যাটাগরিতে ৭ শতাংশ এবং ১৭ শতাংশ সংরক্ষণের বিষয়টি। আইনজীবী পাটোয়ালিয়া আদালতে এই বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু জাস্টিস সঞ্জয় কুমার স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, সুপ্রিম কোর্ট বর্তমানে নতুন করে অন্য কোনো বিষয় বা পুরোনো কোনো নির্দেশ নতুন করে খুলতে ইচ্ছুক নয়। তিনি নির্দেশ দেন যে, ওবিসি সংরক্ষণ সংক্রান্ত এই বিষয়টি কলকাতা হাইকোর্টের এক্তিয়ারভুক্ত। কলকাতা হাইকোর্টই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। নির্দেশনামায় উল্লেখ করা থাকবে যে, সময়সীমা বৃদ্ধি ছাড়া অন্য কোনো আইনি বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে হলে তা কলকাতা হাইকোর্টে জানাতে হবে। জানা যাচ্ছে, ওবিসি সংরক্ষণের এই বিষয়টি খুব শীঘ্রই কলকাতা হাইকোর্টে বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে পুনরায় উঠতে চলেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ ও অপেক্ষা
সার্বিকভাবে আজকের শুনানি থেকে দুটি বিষয় পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে। প্রথমত, নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য কমিশন যে সময় পেয়েছে, তাতেই তাদের সমস্ত কাজ শেষ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনি জটিলতায় আটকে থাকা অন্যান্য বিষয়গুলির সমাধান কলকাতা হাইকোর্ট থেকেই করতে হবে। সুপ্রিম কোর্ট নতুন করে কোনো বিতর্কিত বিষয়ে মাথা ঘামাবে না। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে কলকাতা হাইকোর্টে ওবিসি সংরক্ষণের রায় কোন দিকে মোড় নেয় এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর চাকরিপ্রার্থীরা কবে তাদের কাঙ্ক্ষিত নিয়োগপত্র হাতে পান। বিস্তারিত লিখিত নির্দেশনামা আপলোড হলে এই মামলার অন্যান্য টেকনিক্যাল দিকগুলি আরও স্পষ্টভাবে জানা যাবে।









