নির্দেশিকা

50% Attendance Govt Employees: ত্রিপুরায় ৫০ শতাংশ কর্মীর ওয়ার্ক ফ্রম হোম শুরু, নতুন নিয়ম জারি

West Bengal Government Office
West Bengal Government Office

এক নজরে

  • প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় পদক্ষেপ নিল ত্রিপুরা সরকার।
  • গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি কর্মীদের জন্য ৫০ শতাংশ উপস্থিতির নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
  • মেমো নম্বর F.1(10)/GA(AR)/2026/255 অনুযায়ী এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
  • জরুরি পরিষেবা বাদে সমস্ত দপ্তরের ক্ষেত্রে এই সাপ্তাহিক রোস্টার ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে।
  • বাড়িতে থাকাকালীন কর্মীদের ফোন ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে।

ত্রিপুরায় জ্বালানি সংকট মোকাবিলা ও সরকারি খরচ কমাতে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। সোমবার, ১৩ মে ২০২৬ তারিখে সাধারণ প্রশাসন (প্রশাসনিক সংস্কার) দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত একটি মেমোরেন্ডাম জারি করা হয়েছে।

এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি দপ্তরের গ্রুপ সি (Group C) ও গ্রুপ ডি (Group D) কর্মীদের অফিসের কাজে ৫০ শতাংশ উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অর্থাৎ অর্ধেক কর্মী অফিসে এসে কাজ করবেন, বাকিরা বাড়িতে থেকেই দায়িত্ব পালন করবেন। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘কৃচ্ছ্রসাধন’ (Austerity Measures)-এর বার্তার প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সূচিপত্র

নতুন রোস্টার ও কাজের নিয়ম

সরকারি মেমো নম্বর F.1(10)/GA(AR)/2026/255 অনুযায়ী, প্রতিটি দপ্তরের প্রধানদের (HoD) সাপ্তাহিক ডিউটি রোস্টার তৈরি করতে বলা হয়েছে। নতুন এই নিয়মগুলো হলো:

  • প্রতিদিন অফিসে মাত্র ৫০ শতাংশ কর্মী উপস্থিত থাকবেন।
  • কর্মীদের এক সপ্তাহ অন্তর অল্টারনেট ভিত্তিতে অফিসে আসার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • রোস্টারে মূলত সেই কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, যাদের বাড়ি অফিসের কাছাকাছি।
  • বাড়িতে থেকে যারা কাজ করবেন (Work From Home), তাদের ফোন ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব সময় দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে।

জরুরি প্রয়োজনে বা দপ্তরের বিশেষ কাজে ডাক পড়লে ওয়ার্ক ফ্রম হোমে থাকা কর্মীদের তৎক্ষণাৎ অফিসে হাজির হতে হবে।

Advertisement

কেন এই সিদ্ধান্ত?

পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে গণপরিবহন, ইলেকট্রিক যান এবং অনলাইন মিটিং বা ওয়ার্ক ফ্রম হোমের মতো বিকল্প বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতি সামাল দিতেই মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার সরকার এই পথ বেছে নিয়েছে।

সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও স্বশাসিত বডিগুলোকেও এই নিয়ম মানতে বলা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও অগ্নিনির্বাপণের মতো জরুরি পরিষেবাগুলো এই নিয়মের আওতামুক্ত থাকবে।

কর্মচারীদের ওপর এর প্রভাব

এই ব্যবস্থার ফলে কর্মীদের যাতায়াতের খরচ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হবে। বিশেষ করে যারা দূর থেকে আসেন, তাদের জন্য এটি বড় স্বস্তি। তবে এটি কোনো ছুটি নয়, বরং কাজের নতুন ধরণ। বাড়িতে থাকলেও দপ্তরের কল বা ইমেলের উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরি থাকতে হবে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ত্রিপুরায় ইতিমধ্যেই জ্বালানি রেশনিং চালু হয়েছে। অনেক জায়গায় দুই চাকার গাড়ির জন্য দিনে সর্বোচ্চ ২০০ টাকার পেট্রোল বরাদ্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবহনের ওপর চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is the founder and editor of WBPAY.in. She has a background in finance and more than seven years of work in West Bengal state departmental accounting, including WBIFMS, pay fixation under ROPA 2019, DA, GPF and income tax for salaried employees. She decides what WBPAY.in covers and checks articles before they are published. Articles are drafted with the… more>>