WB DA Arrears: শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া ডিএ দিতে অর্থ দপ্তরে তথ্য পাঠাচ্ছে স্কুলশিক্ষা দপ্তর
WB DA Arrears: পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারের কর্মরত এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা WB DA Arrears প্রদানের আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবার গতি পেল। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নবান্নের অর্থ দপ্তরে শিক্ষকদের বিস্তারিত তথ্য সম্বলিত ফাইল পাঠানো শুরু করল স্কুলশিক্ষা দপ্তর।
প্রেক্ষাপট: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ ও দীর্ঘ আইনি লড়াই
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষকেরা বকেয়া মহার্ঘ ভাতার দাবিতে আইনি লড়াই চালাচ্ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সময়ের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা মিটিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের। এই নির্দেশ পাওয়ার পর থেকেই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের অন্দরে প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে তৎপরতা তৈরি হয়। তবে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা ছাড়া কাজ শুরু করা সম্ভব হচ্ছিল না।
স্কুলশিক্ষা দপ্তরের বর্তমান পদক্ষেপ
বিকাশ ভবনের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত ১৩ মার্চ নবান্নের অর্থ দপ্তরের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছিল। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয় যে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলি নিজেদের মতো করে স্থির করবে কোন নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়া হবে। নির্দেশিকা আসার পর স্কুলশিক্ষা দপ্তর সেই অনুযায়ী ফাইল তৈরি করে নবান্নে পাঠানোর কাজ শুরু করেছে। এতদিন বিকাশ ভবন থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে কি না, তা নিয়ে শিক্ষক মহলে ধোঁয়াশা ও ক্ষোভ ছিল। তবে শনিবার দপ্তরের এক আধিকারিক নিশ্চিত করেছেন, নবান্নের অর্থ দপ্তরে বিস্তারিত তথ্য পাঠানোর জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকার পরেও বকেয়া মহার্ঘ ভাতা পেতে বিলম্ব হওয়ায় রাজ্য জুড়ে শিক্ষকেরা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শামিল হন। এমনকী গত ১৩ মার্চ বকেয়া মহার্ঘ ভাতা সহ একাধিক দাবিতে ধর্মঘটও পালন করেন রাজ্যের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা। এই পরিস্থিতিতে বিকাশ ভবনের পদক্ষেপে কিছুটা আশার আলো দেখছেন তাঁরা।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল জানিয়েছেন, ১৩ মার্চের নির্দেশিকা প্রকাশের পর থেকেই তাঁরা দাবি জানিয়েছিলেন যাতে অর্থ দপ্তরে দ্রুত ফাইল পাঠানো হয়। এতদিন সেই কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছিল। অবশেষে সেই কাজ শুরু হওয়ায় তাঁরা সন্তুষ্ট এবং দ্রুত সমস্যা মেটার বিষয়ে আশাবাদী। অন্যদিকে, নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে ৩১ মার্চের মধ্যে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা না দেওয়া হলে, আদালত অবমাননার দায়ে তাঁরা পুনরায় সরকারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করবেন।
সর্বশেষ আপডেট
নবান্নের অর্থ দপ্তর গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে মেমো নম্বর 996-F(P2), 997-F(P2) এবং 998-F(P2) জারি করে রোপা ২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া মেটানোর প্রশাসনিক প্রক্রিয়া স্পষ্ট করেছে।
পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের নির্দেশে স্পষ্ট জানিয়েছে, বকেয়া ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মীদের আইনসম্মত অধিকার এবং ৩১ মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ বকেয়া মেটাতে হবে।
এছাড়াও সম্প্রতি ফেব্রুয়ারি মাসের রাজ্য বাজেটে সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা আরও ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যার ফলে বর্তমান ডিএ-র হার দাঁড়িয়েছে ২২ শতাংশ। এই পরিস্থিতিতে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের ফাইল নবান্নে পৌঁছলে বকেয়া ডিএ প্রদানের মূল কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে বলে শিক্ষা মহলের ধারণা।
যাচাই করা হয়েছে: WBPAY.in সম্পাদকীয় দল, যাঁরা WBIFMS ও রাজ্য সরকারি প্রক্রিয়ায় ১০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞ।