WB DA Case: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের। দীর্ঘ টালবাহানা এবং আইনি টানাপোড়েনের পর আগামী ২৩শে জুলাই, ২০২৬ তারিখে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে ফের উঠতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (DA) মামলা। নতুন রাজ্য সরকার গঠনের পর এই প্রথম সুপ্রিম কোর্টে এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি হতে চলেছে, যা নিয়ে লক্ষ লক্ষ চাকুরিজীবী এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মধ্যে প্রবল উন্মাদনা এবং আশা তৈরি হয়েছে।
সূচিপত্র
সুপ্রিম কোর্টে শুনানির বিস্তারিত তথ্য
প্রাপ্ত সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, আগামী ২৩শে জুলাই দুপুর ২টোয় সুপ্রিম কোর্টের ৭ নম্বর কোর্টে এই মামলার স্পেশাল বেঞ্চে মিসলেনিয়াস শুনানি (Miscellaneous Hearing) অনুষ্ঠিত হবে। মাননীয় বিচারপতি সঞ্জয় ক্যারল এবং মাননীয় বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর স্পেশাল বেঞ্চে ‘স্টেট অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ভার্সেস কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্মেন্ট এমপ্লয়িজ’ মামলার শুনানি হবে। দীর্ঘদিন পর এই মামলার শুনানি হওয়ায় রাজ্য সরকারি কর্মচারী মহলে নতুন করে বকেয়া প্রাপ্তির আশার আলো দেখা দিয়েছে।
গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের বঞ্চনা ও ১০০% বকেয়ার দাবি
এই আইনি লড়াইয়ের অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গ্রান্ট-ইন-এইড (Grant-in-aid) কর্মীদের বকেয়া ডিএ নিয়ে অনিশ্চয়তা। বর্তমানে এই কর্মীরা, যাদের মধ্যে রয়েছেন অসংখ্য কর্মরত চাকুরিজীবী, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত পেনশনার এবং ফ্যামিলি পেনশনার, তারা এখনও পর্যন্ত বকেয়া মহার্ঘ ভাতার এক পয়সাও পাননি। অন্যদিকে, যে সমস্ত সরকারি কর্মীরা কিছু পরিমাণ ডিএ পেয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রেও অল ইন্ডিয়া কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (AICPI) সম্পূর্ণভাবে মেনে ডিএ প্রদান করা হয়নি বলে তীব্র অভিযোগ রয়েছে। আসন্ন শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের রেসপন্ডেন্ট হিসেবে থাকা চারটি প্রধান কর্মী সংগঠন এই আর্থিক বঞ্চনার বিষয়টি শীর্ষ আদালতের সামনে কীভাবে তুলে ধরে, সেটাই এখন দেখার মূল বিষয়।
রাজ্যে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং নতুন সরকার গঠনের পর এই মামলার গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, তা নিয়ে ওয়াকিবহাল মহলে জল্পনা তুঙ্গে। মহার্ঘ ভাতা কোনো দয়া নয়, এটি কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার। ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফীতির সাথে মোকাবিলা করার জন্য সঠিক হারে ডিএ প্রদান অপরিহার্য। পূর্বতন সরকারের আমলে এই মামলা দীর্ঘায়িত হলেও, বর্তমান রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে কী ভূমিকা গ্রহণ করে এবং কর্মীদের ১০০% বকেয়া মেটানোর সদিচ্ছা দেখায় কিনা, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের এই ন্যায্য পাওনার লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল বেঞ্চের রায় কোন দিকে যায় এবং রাজ্য সরকার কী হলফনামা পেশ করে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে গোটা পশ্চিমবঙ্গ।









